ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় সীমান্তজুড়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন, বিজিবি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, টহল ও রাতভর পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলার বালাপাড়া, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কয়েকদিন ধরে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত প্রশাসন বা বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বালাপাড়া, ঠাকুরগঞ্জ, কালীগঞ্জ, থানারহাট, বার্নিরঘাট ও চরখড়িবাড়ী সীমান্ত ফাঁড়িতে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।
বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাত জেগে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আবদুল লতিফ খান জানান, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন রাখা হচ্ছে।
বালাপাড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “এ পর্যন্ত আমাদের দায়িত্বাধীন সীমান্ত এলাকায় কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে সীমান্তবাসীর মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলেও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।