সৈয়দপুরে বিনামূল্যে ৮০০ চক্ষু রোগীকে চিকিৎসাসেবা
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৮০০ জন চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) শহরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে এ সেবা দেওয়া হয়।
আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও দিনাজপুর গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক ছানি রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়। এছাড়া প্রায় ৭০০ রোগীর চোখ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন এবং বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আখতার শাহিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিসবাহী, পারভেজ আলম গুড্ডু আশরাফী, নাদিম আশরাফী, খালিদ আযম আশরাফী, আসিফ আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বখশী ও তৌসিফ রেজা আশরাফীসহ অনেকে।
গাওসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে সাতজন চিকিৎসক রোগীদের সেবা প্রদান করেন।
চিকিৎসা নিতে আসা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, অর্থাভাব ও যাতায়াত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন চোখের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিনামূল্যের এ ক্যাম্পে এসে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসকরা তার চোখ পরীক্ষা করে ওষুধ ও চশমা দিয়েছেন।
সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী বলেন, দরিদ্র ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সৈয়দপুরে মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.)-এর ১৩তম পবিত্র উরস পালিত
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন, মুফতীয়ে আহলে সুন্নাত ও ‘সৈয়দপুরের গ্র্যান্ড মুফতী’ হিসেবে পরিচিত মরহুম মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.)-এর ১৩তম পবিত্র উরস শরীফ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দিনব্যাপী এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কোরআনখানি, বাদ জুমা নাত ও মিলাদ মাহফিল, চাদরপোশী, দোয়া মাহফিল এবং তবারক বিতরণ।
গোলাহাটে হুজুরের মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাত ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মরহুমের সাহেবজাদা মাওলানা সাবির হোসেন রিজভী।
মাহফিলে নাত ও বয়ান পেশ করেন মাওলানা মুরশিদুল নূরী রিজভী, মাওলানা মোমিনুল ইসলামী নূরী রিজভী, মাওলানা মারগুব আশরাফী, মুফতী খুরশিদ আলম নূরী রিজভী, মাওলানা কালিম মাদানী, মাওলানা আব্দুল জব্বার রিজভী, মাওলানা রিজওয়ান আত্তারী, খলিফা সৈয়্যদ আব্দুল্লাহ বখশীসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, হুজুরের ছাত্র এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.) ছিলেন এ অঞ্চলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম প্রধান অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তিনি আজীবন কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাসের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেছেন এবং অসংখ্য ওয়াজ-মাহফিল, দারস ও ইসলাহী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, তাঁর হাত ধরেই সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আহলে সুন্নাতের আদর্শ ও চিন্তাধারার ব্যাপক প্রসার ঘটে। মত-পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব।
উল্লেখ্য, মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.) ২০১৩ সালের ৩ মহররম ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজা সৈয়দপুরের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে পরিচিত।
নাব্যতা সংকটে নীলফামারীর নদী, পুনঃখননের দাবি
নীলফামারী জেলার অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে অল্প পানিতেই ভরাট হয়ে পড়েছে। অনেক নদী এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, পার হতে হাঁটুজলের বেশি পানি পাওয়া যায় না। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি, নদী দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত খননের কারণে জেলার নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ও বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুমে জেলার বেশিরভাগ নদী ফসলি জমিতে পরিণত হয়। নদীর তলদেশ ও তীর দখল করে ইরি ও বোরো ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, কুমড়া, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে বর্তমানে ৩০টি মরা ও প্রবাহমান নদ-নদী রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা, বুড়িতিস্তা, চাড়ালকাটা, বুড়িখোড়া, ধুম, বামনডাঙ্গা, পাঙ্গা, কুমলাই, নাউতারা, যমুনেশ্বরী, ইছামতি, খড়খড়িয়া, ধাইজান ও চিকলী উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উজান থেকে আসা পলি-বালি, অব্যাহত দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বাইরে থেকে নদীগুলো পানিতে পরিপূর্ণ মনে হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে নেমে এসেছে হাঁটুজল পর্যন্ত।
নদী রক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভারাইন পিপল বাংলাদেশের পরিচালক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় অবৈধ মাছের ঘের, খামার ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পলি, বালি, দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলো দ্রুত নাব্যতা হারাচ্ছে। একসময় নীলফামারীতে ৩৭টি নদী থাকলেও অব্যবস্থাপনা ও দখলের কারণে ইতোমধ্যে সাতটি নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট নদীগুলো রক্ষায় পরিকল্পিত খনন ও নিয়মিত তদারকির বিকল্প নেই।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, উজান থেকে আসা পলি ও বালির কারণে চাড়ালকাটা, যমুনেশ্বরী, ধাইজান, খড়খড়িয়া ও চিকলী নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে চর জেগে উঠেছে এবং নদীর ধারণক্ষমতা কমে গেছে।
তিনি বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে দেশব্যাপী নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারও নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো খনন না করা হলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নদীর নাব্যতা সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। চলতি মৌসুমে বড় ধরনের বন্যা না হলেও নদী ভরাট থাকায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধান ও ভুট্টা চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় ভুট্টা চাষি রবীন্দ্র নাথ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তিনি সময়মতো ভুট্টা সংগ্রহ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষার পর অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল ব্যবহার করে ভুট্টা সংগ্রহ করতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে নিয়মিত পুনঃখননের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক নাব্যতা ও প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
সৈয়দপুরে কৃষি শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী ফুটবল উন্মাদনা
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দেশজুড়ে উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে। পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চলছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক, আনন্দ-উৎসব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
এই উন্মাদনার ভিড়ে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে। উপজেলার বাঙালিপুর ও কামারপুকুর ইউনিয়নের একদল কৃষি শ্রমিক মাঠে কাজ করছেন প্রিয় দল ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে।
১৫ সদস্যের এই শ্রমিক দল ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের প্রতি অনুরাগী হয়ে একসঙ্গে জার্সি কিনে শুরু করেন এক ধরনের সমর্থক ঐক্য। সেই ধারাবাহিকতায় ধান রোপণ, নিড়ানি, ধান কাটা ও মাড়াইসহ সব কৃষিকাজই তারা করেন একই রঙের জার্সি গায়ে।
দলনেতা মোকছেদুল ইসলাম জানান, “আমরা একসঙ্গে কাজ করি, একসঙ্গে খেলা দেখি। আমাদের মধ্যে দারুণ ঐক্য আছে। প্রিয় দল জিতলে উৎসব করব।”
শ্রমিক আব্দুল কাদের বলেন, “কাজের সময় জার্সি পরলে আমাদের আনন্দ হয়। আমরা হাসিখুশি হয়ে কাজ করি।”
স্থানীয়দের মতে, মাঠের শ্রম ও ফুটবলপ্রেম মিলিয়ে এই শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অনন্য সামাজিক বন্ধন, যা গ্রামীণ জীবনে এনে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার উৎসবমুখরতা।
এদিকে সৈয়দপুর রেললাইনের ধারে পতাকা প্রস্তুতকারীরা জানান, বিশ্বকাপ ঘিরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকাই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বকাপ শুধু খেলার আয়োজন নয়—এটি এখন গ্রামীণ সমাজে সংস্কৃতি, আবেগ ও সামাজিক ঐক্যের এক বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু, আহত ১
নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নে মাছ ধরার জন্য পুকুরে সেচ পাম্প বসাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টার দিকে কচুকাটা ইউনিয়নের বাবুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন হাজীপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৫) এবং পার্শ্ববর্তী কুটিপাড়া নদীরপাড় গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মুজিবুর রহমান (৫০)। আহত মিঠু ইসলাম (৩০)-কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে মোটর স্থাপন করা হচ্ছিল। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনজন। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হন অপর একজন।
কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সৈয়দপুরে গাছে গাছে কাঁঠাল, বাম্পার ফলনের আশা
নীলফামারীর সৈয়দপুরে গাছে গাছে ঝুলছে জাতীয় ফল কাঁঠাল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বর ও গ্রামীণ জনপদজুড়ে কাঁঠাল গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। ফলে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও বাগান মালিকরা।
ইতোমধ্যে আগাম জাতের কিছু কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। বাজারেও উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের প্রথম দিকের কাঁঠাল। পাকা কাঁঠালের সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামীণ পরিবেশ।
উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বোতলাগাড়ী ও বাঙালিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেক গাছে ১০০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত কাঁঠাল ধরেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
কৃষকদের মতে, কাঁঠাল চাষে তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে এবং প্রতি বছর ফলন দেয়। ফলে অনেক পরিবার মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি করে বাড়তি আয় করে থাকে। পাশাপাশি শ্রমিক ও পাইকারদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তবে উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন চাষিরা। এছাড়া এলাকায় কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
.jpeg)
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, উপজেলার মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। এ বছরও গাছে গাছে প্রচুর কাঁঠাল দেখা যাচ্ছে। কাঁঠাল শুধু ফল হিসেবেই নয়, এর বিচি ও পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে কাঁঠাল স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সৈয়দপুরে রেলওয়ে কোয়ার্টার দখল ও অনিয়মের অভিযোগ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহু কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ-দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রেলওয়ের কিছু পরিত্যক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত (ড্যামেজ) কোয়ার্টার অবৈধভাবে দখল, ক্রয়-বিক্রয় ও হাতবদল করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সৈয়দপুরের আতিয়ার কলোনী, রসুলপুর, ইসলামবাগ, গোলাহাট, মুন্সিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, সাহেবপাড়া এবং রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য রেলওয়ে কোয়ার্টার বর্তমানে অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।
তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এসব কোয়ার্টার অবৈধভাবে হাতবদল হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে এবং রেলওয়ে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
সচেতন মহল দ্রুত দখলকৃত কোয়ার্টারগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নাম উল্লেখ হওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
ডিমলায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৭ জুন) বিকেলে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো—রবিউল ইসলামের মেয়ে রুপাইয়া (৪) এবং আউয়াল হোসেনের মেয়ে আসফিয়া (৪)। তারা সম্পর্কে চাচাতো বোন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে দুই শিশু। একপর্যায়ে সাঁতার না জানায় তারা গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বাল্যবিয়েমুক্ত ঘোষণা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বাল্যবিয়েমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ কেশবা ফাজিল মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং কিশোরগঞ্জ এপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন মোল্লা।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার মারিও তপন মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বাল্যবিবাহের কুফল, শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়তে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ২৭টি মাদরাসার ৬৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে কলম বিতরণ করা হয়।
কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বাল্যবিয়েমুক্ত ঘোষণা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বাল্যবিয়েমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ কেশবা ফাজিল মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং কিশোরগঞ্জ এপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন মোল্লা।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার মারিও তপন মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বাল্যবিবাহের কুফল, শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়তে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ২৭টি মাদরাসার ৬৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে কলম বিতরণ করা হয়।
সৈয়দপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা ধুলিয়া মালিপাড়া গ্রাম থেকে শ্যামল (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) সকালে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরের বাঁশের তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা পাইলট জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ওই যুবক আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।
সৈয়দপুরে ভেজাল কীটনাশক তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ভেজাল কীটনাশক উৎপাদনের একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল কৃষি উপকরণ জব্দ ও ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ফরিজ উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. সাজিদাকে ভেজাল কীটনাশক প্রস্তুতের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন এবং সৈয়দপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ৩৫০ কেজি প্যাকেটজাত এবং ৪০০ কেজি খোলা অবস্থায় থাকা ভেজাল কীটনাশকসহ মোট ৭৫০ কেজি ভেজাল কৃষি উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন ধরে এসব ভেজাল কৃষি উপকরণ বাজারজাত করার চেষ্টা চলছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, ভেজাল কীটনাশকের ব্যবহার শুধু ফসলের উৎপাদনই ব্যাহত করে না, এটি মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করে এবং পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। কৃষকদের নিরাপদ ও মানসম্মত কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ডিমলায় বজ্রপাতে নিহত ১, গৃহবধূ আহত
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় সেলিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলম ইসলাম ওই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। আহত সেলিনা বেগমও একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আকাশে বজ্রপাত হয়। এ সময় নিজ বাড়ির পাশে অবস্থান করছিলেন আলম ইসলাম। বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
একই সময় পাশে থাকা গৃহবধূ সেলিনা বেগমও বজ্রপাতের আঘাতে আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান জানান, আহত সেলিনা বেগমকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সৈয়দপুরে রেলওয়ে জেলা স্কাউটসের বার্ষিক মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ স্কাউটস রেলওয়ে জেলা শাখার বার্ষিক জেলা মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সভাকক্ষে দিনব্যাপী এ ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা স্কাউটসের সভাপতি ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ।
এতে বক্তব্য দেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্য ব্যবস্থাপক মমতাজুল ইসলাম, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম, রেলওয়ে জেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সহকারী কমিশনার মোজাহারুল ইসলাম, স্কাউটার নিলুফা ইয়াসমিন, শিউলী বেগম, নিঘাত পারভীন রুমা, এস কে কাইয়ুম জাস্টিস এবং কুতুব উদ্দিন আলো।
ওয়ার্কশপে স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য জেলা স্কাউটসের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদন করা হয়।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে স্কাউটিং কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা স্কাউটসের কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী আলোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়নের পর বিকেলে সভাপতি শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ ওয়ার্কশপের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ঘরের মাটির নিচে মিলল মায়ের লাশ, পলাতক ছেলে
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বৃদ্ধা মাকে হত্যার পর ঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (৪ জুন) রাত ১২টা ১০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযুক্তের শোয়ার ঘরের মাটি খুঁড়ে বৃদ্ধা মারুফা বেগমের (৬০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফের ছেলে মো. জুয়েল (৩৫), পেশায় ভ্যানচালক, কয়েকদিন আগে তার মাকে হত্যা করে নিজ ঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের ছোট ছেলে লাবিন (৩০), যিনি একটি গার্মেন্টসে কর্মরত, ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে মায়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে সন্দেহ করেন। তিনি ঘরের মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে রাতেই ঘরের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েল, তার স্ত্রী এবং সন্তানদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তাদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।