দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক তেলবাহী জাহাজ আগমন অব্যাহত রয়েছে; এরই ধারাবাহিকতায় ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল বহনকারী চীনা পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘শিং তং ৭৯৯’ বহির্নোঙরে নোঙর করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর-এর বহির্নোঙরে জাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। প্রায় ১৮২ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এ ট্যাংকারটির ড্রাফট বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে আংশিক জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জ্বালানি খালাসের মাধ্যমে ড্রাফট হ্রাস করা হচ্ছে; পরবর্তীতে জাহাজটিকে জেটিতে এনে পূর্ণাঙ্গ আনলোডিং সম্পন্ন করা হবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল (জেট এ-১) বহনকারী ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ বন্দরে পৌঁছায়। একই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ৩৫ হাজার ৫৫ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘প্রিভে অ্যাঞ্জেল’ জেটিতে ভেড়ে। এছাড়া শুক্রবার তাইওয়ান থেকে ৩৩ হাজার ৪০০ টন ডিজেল নিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি কোয়েটা’ বহির্নোঙরে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধারাবাহিকভাবে এসব জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আগমনের ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে এবং চাহিদা পূরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লেনদেনে স্পট স্বর্ণের মূল্য ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬১ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে, যা টানা উর্ধ্বগতির পর সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রায় ৩.৫ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফিউচার্স বাজারেও ১ শতাংশ দরপতন হয়ে মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৭৬ দশমিক ৫০ ডলারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতি-ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সম্ভাবনা তেলের দামকে উঁচুতে ধরে রাখছে, যা বিকল্প নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম বর্তমানে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিই ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশীয় বাজারে মূল্য পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে স্বর্ণ ও রুপার দামে হ্রাস এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য কমতি এনে ২২ ক্যারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা একইদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে রুপার বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরি ৩৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বিক্রি হবে। সংগঠনটির তথ্যমতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৫৬ দফা এবং রুপার দাম ৩৫ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির আলোকে এই ধরনের মূল্য পুনর্নির্ধারণ অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশীয় বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ ও কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে মূল্যবান ধাতুর দামে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয় কার্যকর করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ নির্ধারিত দামে শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে স্বর্ণ ও রুপা নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দর বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় এনে এ সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জারি করা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভরিতে স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা এবং রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়, যা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশীয় সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবে এ খাতে মূল্য সমন্বয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামীতেও দামে পুনঃসমন্বয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাগেরহাটে বোরো ধান কাটার মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত কৃষকের উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে বুধবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে কাটা ধান ঘরে তুলতে বিড়ম্বনা পোহাচ্ছেন কৃষকরা। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক মাঠে ধান কাটতে পারছেন না, আবার অনেকের কাটা ধান ভিজে গিয়ে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। বাগেরহাট জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। বেশিরভাগ উপজেলার মাঠপর্যায়ে এখন ধান কাটার উৎসবে ব্যস্ত কৃষক। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে পাকা ধান জমিতে নষ্ট হবার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষক। জেলার মোল্লাহাট উপজেলার কৃষক হুমায়ূন রশিদ জানান, তিনি এবার দেড় বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলান বেশি। অর্ধেক জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছেন, বাকি অর্ধেক জমির ধান সম্পূর্ণ না পাকার কারণে কাটতে পারছেন না। এর মাঝে বৃষ্টি তার ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফকিরহাটের ফলতিতা এলাকার কৃষক মো: আনিস শেখ জানান, গত দুইদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাতে ধান কেটে ঘরে তোলার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও জমিতে পানি জমে কাটা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোতাহার হোসেন জানান, জেলার ১৩ হাজার হেক্টর-এর মতো ধান কর্তন করা হয়েছে। কিছু কাটা ধান মাঠে রয়েছে। এর আনুমানিক ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কিছু ধান ঝরে পড়ে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তবে বৃষ্টি না হলে কৃষকরা ক্ষতিপুষিয়ে নিতে পারবে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। মোংলা বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৬ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
উত্তরের শান্ত জনপদ ঠাকুরগাঁও এখন পীত-সবুজে সেজেছে। বসন্তের বিদায়ের পর লিচু বাগানগুলো মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ২০ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য আদর্শ। সদর, বালিয়াডাঙ্গী ও পীরগঞ্জ উপজেলার বাগানগুলোতে উৎপন্ন ‘বেদানা লিচু’ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। পাতলা চামড়া, ছোট আঁটি ও মিষ্টি রসের কারণে এটি দেশের যেকোনো অঞ্চলে পরিচিত। ২০ হাজার টন লিচু উৎপাদিত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে কয়েকশ কোটি টাকার রোজগার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। লিচু পাড়া, বাছাই, খাঁচা তৈরি ও পরিবহন কাজে যুক্ত হবে হাজারো শ্রমিক, যা গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। তবে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সংরক্ষণ ও বিপণন। লিচু পচনশীল, এবং ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগার বা আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাব থাকায় কৃষকরা প্রায়ই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়ারা এই সুযোগ নিয়ে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে, ফলে চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও উদ্বেগজনক। উচ্চ তাপমাত্রায় লিচু ফেটে যেতে বা গুটি ঝরে পড়তে পারে। আধুনিক সেচ প্রযুক্তি এবং বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার ছাড়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু শিল্পকে বাঁচাতে হলে: ১. রপ্তানি বাজার তৈরি: বেদানা ও চায়না-৩ লিচু মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি করা সম্ভব, ‘GAP’ নিশ্চিত করতে হবে। ২. প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প: লিচু থেকে জুস, জ্যাম বা ক্যানিং উৎপাদন করলে উদ্বৃত্ত ফল অপচয় হবে না। ৩. পরিবহন সুবিধা: ‘লিচু স্পেশাল’ ট্রেনের ব্যবস্থা করলে বড় শহরে সরাসরি লিচু পাঠানো সহজ হবে। উৎপাদন ও বিপণন একযোগে কাজ করলে ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু শুধুমাত্র উৎসবের অংশ নয়, বরং জেলার স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তি হয়ে উঠবে। কৃষকের শ্রম যেন মধ্যস্বত্বভোগীর পকেটে না যায়, সেটিই এবারের মৌসুমের মূল লক্ষ্য।
২১ বছর ইপিজেডে চাকরি করে একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে এসে কৃষিতে সফলতার গল্প গড়েছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের সুমন মিয়া (৪০)। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মাত্র ২৪ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম (পেপসিক্যাম) চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। চার মাস আগে বাড়ির পাশের জমিতে উচ্চমূল্যের এই সবজি চাষ শুরু করে ইতোমধ্যে দেড় লাখ টাকা আয় করেছেন সুমন। আরও দুই মাস ফসল তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন, যেখানে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ টাকা আয় হবে বলে তার ধারণা। সবুজ আপেলের মতো ক্যাপসিক্যাম থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকায় এটি দেখতে এলাকাবাসীর ভিড় জমছে। স্থানীয়ভাবে এটিই প্রথম বাণিজ্যিক ক্যাপসিক্যাম চাষ। বগুড়া এগ্রো ওয়ানের মাঠকর্মীদের পরামর্শে তিনি এ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। ক্যাপসিক্যামের পাশাপাশি তিনি দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ এবং প্রায় দুই বিঘা জমিতে শসা ও টমেটো চাষ করে সব ক্ষেত্রেই লাভের মুখ দেখেছেন। সুমন মিয়া বলেন, ভরা মৌসুমে সবাই একসঙ্গে একই ফসল চাষ করলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায়, ফলে দাম পড়ে যায়। তাই আগাম ও ব্যতিক্রম সময়ের ফসল চাষ করলেই লাভবান হওয়া যায়। তিনি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে পানি সাশ্রয় হয়, জমির আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আগাছা ও রোগবালাই কমে। ফলে ক্যাপসিক্যাম দাগমুক্ত থাকে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। তবে পলিহাউস না থাকায় পোকামাকড় দমনে বাড়তি শ্রম ও খরচ হচ্ছে বলে জানান তিনি। সরকারের কাছে উদ্যোক্তাদের জন্য পলিহাউস সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান সুমন। তিনি আরও বলেন, ক্যাপসিক্যামের বাজার মূলত শহরকেন্দ্রিক। রংপুর, সৈয়দপুর ও নীলফামারীর বাজার, সুপারশপ ও অভিজাত রেস্টুরেন্টে এর চাহিদা বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্যাপসিক্যাম ভিটামিন সি, এ, বি-৬, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং চোখ ও ত্বকের জন্য উপকারী। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, ক্যাপসিক্যাম চাষ ব্যয়বহুল হলেও বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে নীলফামারী জেলায় চারজন উদ্যোক্তা এ সবজি চাষ করছেন।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শামসুল আলম (৬৩) রংপুর মহানগরের কোতোয়ালী থানার ভোগিবালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাংলাদেশ হজ অফিস, মদিনা আল-মুনাওয়ারা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। এর আগে শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতা অনুভব করলে তিনি মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত স্থানীয় মালিক ফাহাদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে পরদিন বুধবার ফজর নামাজের পর মদিনার জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। হজ অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি হজ মৌসুমে এ পর্যন্ত মোট সাতজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য আদালতের নথিতে প্রকাশিত হয়েছে। এনবিসি নিউজের বরাতে জানা যায়, মামলার অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহ (২৬) হত্যার কয়েকদিন আগে চ্যাটজিপিটিতে একজন মানুষকে আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি (উভয়ের বয়স ২৭) হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লিমনের মরদেহ উদ্ধার হলেও নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। প্রসিকিউশনের নথি অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি চ্যাটবটকে প্রশ্ন করেন—ডাম্পস্টারে মানুষ ফেলে দিলে কী হয় এবং তা কীভাবে শনাক্ত করা যায়। চ্যাটবটের সতর্কতার পরও তিনি একই বিষয়ে পুনরায় জানতে চান বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৭ এপ্রিল তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ডাম্পস্টারে কার্ডবোর্ড বাক্স ফেলতে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে লিমনের পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় ধূসর টি-শার্ট ও রান্নাঘরের ম্যাটে ভিকটিমদের উপস্থিতির আংশিক মিল পাওয়া গেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ময়নাতদন্তে লিমনের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, নাহিদা বৃষ্টির ক্ষেত্রেও প্রাণঘাতী সহিংসতা ঘটেছে এবং তার মরদেহ গোপন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যাগ, জীবাণুনাশক ও এয়ার ফ্রেশনার ক্রয় করেন এবং পরে বিভিন্ন আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, আলামত নষ্ট এবং মরদেহ গোপনের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী মঙ্গলবার শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন অগ্রগতি অর্জন করেছে পাকিস্তান—চীনের কারিগরি সহায়তায় একটি রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট সফলভাবে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানায়, শনিবার উত্তর চীনের শানসি প্রদেশে অবস্থিত তাইইউয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘পিআরএসসি-ইও৩’ নামের স্যাটেলাইটটি লং মার্চ-৬ রকেটের মাধ্যমে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং তা নির্ধারিত কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপিত হয়েছে। এটি চীনের লং মার্চ রকেট সিরিজের ৬৪০তম মিশন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। সুপারকো (SUPARCO) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্যাটেলাইটটি দেশের ভূ-পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণসহ বহুমুখী খাতে তথ্য-সহায়তা প্রদান করবে। অন্যদিকে, আইএসপিআর উল্লেখ করেছে, এই স্যাটেলাইট জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি সমন্বিত আর্থ অবজারভেশন সিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা নীতি-নির্ধারণে প্রমাণভিত্তিক তথ্য সরবরাহে ব্যবহৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অর্জন দেশের মহাকাশ কর্মসূচির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে তিনি চীনের অব্যাহত সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পবিত্র হজ মৌসুম ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্নের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ, যেখানে বিদেশি হাজিদের নিরাপত্তা ও সেবার নিশ্চয়তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, হাজিদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের লক্ষ্যে আবাসন, খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবহন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষভাবে ইরান থেকে আগত হাজিদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের হজবিষয়ক প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে পৌঁছেছে এবং প্রথম দফার ইরানি হাজিরা ২৫ এপ্রিল মদিনা-এ আগমন করবেন। পরবর্তীতে তারা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মক্কা-এ গিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। সরকারি তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ৩০ হাজার ইরানি হাজি এই ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নেবেন। তাদের জন্য স্থল, রেল ও আকাশপথে যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হাজিদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সার্বিক কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তকারীরা অপর শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি আর জীবিত নেই বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে সেন্ট পিটার্সবার্গের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে ২৭ বছর বয়সি জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পিনেলাস কাউন্টি পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর টেম্পা এলাকায় অভিযুক্তের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সোয়াট ইউনিটের উপস্থিতিতে প্রায় ২০ মিনিটের অবস্থান শেষে হিশাম আত্মসমর্পণ করে এবং বর্তমানে হেফাজতে রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, একই ঘটনায় নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল রক্তের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে, যা থেকে তার মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রবল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা গিয়েছিল। অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, প্রমাণ নষ্ট এবং মরদেহ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনার সঙ্গে সে একাই জড়িত। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত না কি আকস্মিক—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা আলামত ও রক্তের চিহ্ন বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ড ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন মুলুকে নিখোঁজের রহস্য শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে পরিণত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) নিহতের পরিবারের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের তদন্তে প্রাপ্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অংশের সঙ্গে বৃষ্টির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মরদেহের পূর্ণাঙ্গ অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। উল্লেখ্য, একই ঘটনায় পূর্বে নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন-এর খণ্ডিত মরদেহ ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে উদ্ধার করা হয়, যা পুরো ঘটনাকে দ্বৈত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনার ভিত্তি তৈরি করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উভয় ভুক্তভোগীর নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহত বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বিশ্বের গবেষণা অঙ্গনে আবারও দৃশ্যমান হলো বাংলাদেশি মেধার শক্ত অবস্থান। মালয়েশিয়া প্রবাসী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়নে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র্যাঙ্কিং ২০২৬ অনুযায়ী, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় তিনি মালয়েশিয়ায় শীর্ষস্থান, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে সপ্তম অবস্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বের ৩৩ হাজারের বেশি বিজ্ঞানীর মধ্যে এই অবস্থান তার গবেষণাগত প্রভাব ও একাডেমিক উৎকর্ষের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের বছরেও তিনি একই বৈশ্বিক অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায়ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে তার। স্কলারজিপিএস ২০২৫ অনুযায়ী তিনি এই ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম হন। একই সঙ্গে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের যৌথ বিশ্লেষণে প্রকাশিত শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় মালয়েশিয়ার এনার্জি গবেষকদের মধ্যে তিনি শীর্ষে অবস্থান করেন। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্ভাবনে অবদানের জন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন ড. সাইদুর রহমান। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ওবাদা পুরস্কারে ‘বিশিষ্ট বিজ্ঞানী’ বিভাগে নির্বাচিত হন তিনি, যেখানে বিশ্বব্যাপী মাত্র আটজন বিজ্ঞানীকে সম্মান জানানো হয়। গুগল স্কলার অনুযায়ী তার এইচ-ইনডেক্স ১৪৫ এবং গবেষণাকর্মে সাইটেশন সংখ্যা ৮৬ হাজারের বেশি। ময়মনসিংহের সন্তান ও বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ড. সাইদুর রহমান বর্তমানে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জন একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধার সক্ষমতাকেই তুলে ধরেছে।
পশ্চিমবঙ্গের অভিনয় ও বাচিকশিল্পের অন্যতম পরিচিত মুখ বিপ্লব দাশগুপ্ত (৭৫) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা গেছেন। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে পারিবারিক সূত্র। পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর তার মরদেহ দক্ষিণ কলকাতার গল্ফক্লাব রোডের বাসা থেকে টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নেওয়া হয়, যেখানে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহকর্মীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে সক্রিয় ছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। ২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অব টাইম’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ‘ফেলুদা’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘গুমনামি’সহ একাধিক আলোচিত চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন। পাশাপাশি ‘কুয়াশা যখন’, ‘রাগে অনুরাগে’, ‘নেতাজি’সহ বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তার উপস্থিতি দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়। ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ চলচ্চিত্রে তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা পেশা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে আবৃত্তি, ভয়েস ওভার ও বিজ্ঞাপন জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন শিল্পী ও সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
শোবিজ অঙ্গন থেকে রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক, যিনি এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার পর্বে উপস্থিত হন তিনি। সাক্ষাৎকার শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে চমক জানান, দেশের উন্নয়ন বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী। তিনি বলেন, একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা থেকেই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ‘নতুন যাত্রা’ শুরুর ঘোষণা দিয়ে বিস্তারিত পরে জানানোর ইঙ্গিত দেন এই অভিনেত্রী, যা তার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও চিত্রকলার জগতের পরিচিত নাম অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত এবার নিজেকে নতুন রূপে উপস্থাপন করেছেন। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের বারান্দায় বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে নবীন শিল্পীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চিত্রকলায় অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে। কাঁচাপাকা চুল ও নতুন লুকে উপস্থিত হয়ে তিনি শুধু চমক দিয়েছেন না, শিল্পীসত্তার সক্রিয় উপস্থিতিও প্রমাণ করেছেন। ১৯৯৮ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করা বিপাশা ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসের আঙিনায় সাবলীল ও আনন্দমুখর ছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তবে দেশের প্রতি আগ্রহ ও নস্টালজিয়ার কারণে মাঝে মধ্যে দেশে ফিরলেও ক্যামেরার সামনে আসা এড়িয়ে চলেছেন। এবার সে চিত্রপট ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি প্রায় সাত বছর পর আবারও ক্যামেরার সামনে এসে অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ তুলে ধরেছেন। বিপাশা জানান, অভিনয়কে চিরতরে বিদায় জানাননি, তবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু মানসিকভাবে নয়, শারীরিকভাবে ঘাম ঝরানো চরিত্র করতে চাই। আমি সেই মানুষের কাহিনী বলতে চাই, যারা বেদনার্ত ও কষ্টে ভুগছে।” চিত্রকলায় নিয়মিত সক্রিয় থাকা বিপাশা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রদর্শনীর অংশগ্রহণ করছেন। গত বছর ঢাকার গ্যালারি চিত্রক-এ তার একক প্রদর্শনী ‘প্রস্তরকাল’ আয়োজন করা হয়, যা তার শিল্পীসত্তার নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে বিবেচিত হচ্ছে। শিল্পী হিসেবে বিপাশা হায়াত এবার শুধুমাত্র প্রেক্ষাপট নয়, ভাবনা ও সমাজকেন্দ্রিক বার্তা দিয়ে নতুন দিকনির্দেশনার প্রতীক হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের একসময়ের পরিচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবার ব্যক্তিজীবনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে বিষয়টি এখন সামাজিক ও আইনগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের ইঙ্গিত দেন লুবাবা। তবে তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে কিনা—তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালে তিনি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরবর্তী সময়েও শিক্ষাজীবনে যুক্ত ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বৈবাহিক বয়স পূর্ণ হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, নারীর ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, বয়স গোপন করে বিবাহ সম্পাদন করা হলে তা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (সংশোধিত) এবং প্রযোজ্য দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, কাজীর মাধ্যমে বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কোনো বিবাহ আইনত স্বীকৃত নয়। যদি কোনো কাজী অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ নিবন্ধন করেন, তবে তা তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে কোর্ট স্ট্যাম্পে সম্পাদিত বিবাহও বাংলাদেশের আইনে বৈধতা পায় না। আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি বাল্যবিবাহে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান তুলনামূলক ভিন্ন হলেও তা আইনগত দায়মুক্তি নিশ্চিত করে না। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিমরিন লুবাবা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং আইনগত অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চব্বিশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টালমাটাল গোটা দেশ। পতিত সরকারের একতরফা দমন-পীড়ন তারুণ্যের বারুদ নেভাতে পারেনি। বরং গর্জে উঠেছে, চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে ৫ আগস্ট। তারুণ্যের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্কার আর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে দমন-পীড়নের অভিনব ধারা তৈরি করে তারা। মব সন্ত্রাসকে 'জাস্টিস' বানিয়ে চাপিয়ে দেয়া হয় শিক্ষক, গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের ওপর। ডিপ স্টেস্টের এজেন্ডা বাস্তবায়ন, সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মব সন্ত্রাস, টাকা পাচার, প্রশাসনে নিজেদের লোক বসানো, পদায়ন ও রদবদলে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনসহ হাজারও কারণে চব্বিশ এখন এক পতিত ধ্রুবতারার নাম। জাতির সাথে, দেশের সাথে প্রতারণা ছিল কী না-তা নিয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে। পরিসংখ্যান বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর 'মব সন্ত্রাস' এর মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এ পর্যন্ত ছয়জন শিক্ষক মারা গেছেন। পাঁচ শতাধিক আহত ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন ঠিক কতজন-এর কোনও হিসেব নেই। মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার' এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৭ মাসে 'মব সন্ত্রাস' এ ৪৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত এক বছরেই অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে খুন হয়েছেন ৩৩ জন। আর গণপিটুনিতে গত ১৭ মাসে ১৮১ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বিচার পুলিশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলা নিষেধ। তাই বললাম না। এবার আসি গায়েবি/ভুয়া/সাজানো মামলা দিয়ে বাণিজ্যের বিষয়ে। হয়রানির এক কালো অধ্যায় শুরু হয় ৫ আগস্টের পর। আপনি কোনদিন রাজনীতি করেননি। গান, কবিতা, আঁকাআঁকি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মনের আনন্দে কী-বোর্ডে সুর তোলেন। আপনি বাসায় আছেন, অথচ আপনার নামে হত্যাচেষ্টা, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়ে গেছে। পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলো। আদালতে তোলা মাত্র রিমান্ড মঞ্জুর। এরপর থেকে কারাগারে। অপরাধ কী, আপনার বাবা একসময় মন্ত্রী ছিলেন। পতিত দলের রাজনীতি করতেন। বাবার রাজনীতির বলি হতে হচ্ছে সন্তানকে। এভাবেই চলছে, প্রিয় বাংলাদেশ। আর কতদিন চলবে কে জানে! জামিন কী হচ্ছে না? হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলছি, সাবের হোসেন চৌধুরীর কথা। সাবেক এই পরিবেশমন্ত্রীকে হত্যা মামলায় রিমান্ডে পাঠানোর পরদিনই সেটিসহ ছয় মামলায় জামিন দেন আদালত। এটা ০৮ অক্টোবর ২০২৪ এর কথা। বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু নীরবতা ছিল উত্তর। যা বোঝার সবাই বুঝে নিয়েছেন আশা করি। বিস্তারিত আলাপে যাবো না। কারণ, তাকে নিয়ে রাজনীতিতে নতুন সমীকারণের কথা বলা হচ্ছে। এবার আসি সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিষয়ে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকারকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। সবশেষ, কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে তারা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মানবিক বিবেচনায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দায়ের করা ১২টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর ১৪ আগস্ট, ২০২৫ বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীকে। চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৭ অক্টোবর তাকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পরে দশম সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ শারীরিক নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য মোশাররফ হোসেনকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ব্যক্তিগতভাবে আমিও মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক। দুটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (২৪ মার্চ, ২০২৫) ঢাকা কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন তিনি। চব্বিশের ১৭ অক্টোবর সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মুবিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন তাকে পল্টন থানায় দায়ের করা যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা পারভেজ মিয়া হত্যা মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয় প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে। অন্যদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ঢাকা-১৫ আসন থেকে চার বারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদার, বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ শরীরে দিন কাটছে কারাগার নির্ধারিত হাসপাতালের বিছানায়। যে বয়সে কোরআন শরীফ পাঠ করা আর নাতি-নাতনির সাথে সময় কাটানোর কথা, যে বয়সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জেলখানায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। ক্ষমতায় থাকতেও অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন সংসদে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। একাত্ম ছিলেন তরুণ প্রজন্মের দাবির আদায়ে। কিন্তু তাতে কি, ছাত্র আন্দোলনে দায়ের করা বেশ কিছু হত্যা মামলায় ২০২৪ বছরের ১৯ অক্টোবর কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে মামলার জালে আটকে রাখা হয়েছে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে। অন্যদের জামিন দেওয়া হলেও কামাল আহমেদ মজুমদারের মতো রাজনীতিবিদের বেলায় রাষ্ট্রের ন্যায্যতা দেখিনা। মহামান্য বিচারকদের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি আমরা। যে কথা বলছিলাম, কেবলমাত্র বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সন্তান এখন কারাভোগ করছেন। মোহনা টেলিভিশনে কাজ করার সময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ছেলে মোহনা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদ আহমেদ মজুমদারের সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে আমার। খুব কাছ থেকে দেখেছি তাকে। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। আগ্রহও দেখিনি। নিপাট ভদ্রলোক। সুর, তাল, লয়, আঁকাআঁকি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন সবসময়। সবার সঙ্গে মানবিক আচরণ করা, সৃজনশীল এই মানুষটি এখন কারাগারে। কারণ আগেই বলেছি, বাবার রাজনৈতিক পরিচয়। বাবা রাজনীতি করতে বলে সন্তানকে জেল খাটতে হবে! সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জেল আছেন শাহেদ আহমেদ মজুমদার। তার বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশানের ফজলে রাব্বী পার্কের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেন। তারা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে জনমনে ভীতির সঞ্চার করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। সেসময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার ও তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মামলা বলা হয়, জব্দ করা মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপের মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রকে ‘অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করতে’ বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বলে পুলিশ দেখতে পেয়েছে। ২০২৫ সালের গত ১৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার এসআই মাহাবুব হোসাইন ওই মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে ২৭ সেপ্টেম্বর শাহেদ আহমেদ মজুমদারকে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা যে ষড়যন্ত্রমূলক তা বিবরণ পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন। অন্যদিকে, শাহেদ আহমেদ মজুমদার, বাবা কামাল আহমেদ মজুমদারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব নামে জ্ঞাত-আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৬ অর্জন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনও আরেকটি মামলা করেছেন। দুদকও সঙ্গী হয়েছে তখনকার প্রভাবশালীদের। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশা, অপরাধ করলে তার তদন্ত করা হোক। বিচার করা হোক। তবে অন্যায়ভাবে কাউকে মিথ্যে মামলায় হয়রানি করানো, জেল খাটানো, মানসিক নির্যাতন করা, সামাজিকভাবে হেয় করা, সন্তানকে বাবার আদর থেকে বঞ্চিত করা-এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। আইনের ছাত্র হিসেবে, একজন সাংবাদিক হিসেবে মনে করি, শাহেদ আহমেদ মজুমদারকে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাতে তার ছোট্ট সন্তান বাবার আদর পাবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে পাশে পাবে। অন্যদিকে, মোহনা টেলিভিশনের শত শত কর্মী ফিরে পাবে প্রিয় অভিভাবক। প্রতিহিংসার রাজনীতি আর দেখতে চাই না। চাই না, কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি অকারণে মিথ্যে মামলায় আর জেলে খাটুক। আর প্রশাসনকে যারা প্রভাব খাটিয়ে অপব্যবহার করছেন বা করেছেন; তাদের বিচারেও আওতায় নিয়ে আসা দরকার। না হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, কেবল কথার কথাই থেকে যাবে। বাংলাদেশ হোক সবার প্রত্যাশিত ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের বিশেষ মাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয় পরিবর্তন ও নতুনভাবে মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য চার দফা নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে যাদের বিষয় পরিবর্তন হয়েছে বা নতুনভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশনাগুলো হলো— ১. নতুনভাবে বিষয় মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হবে। ২. বিশেষ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে বিষয় পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ নতুন বিভাগের প্রযোজ্য ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হবে। ৩. আগামীকাল ২৯ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সব প্রযোজ্য ফি অনলাইনে পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ৪. বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নোটিশ সেকশন পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ বিধান কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা আচরণগত অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার না করে পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র বাতিলের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্বরত পরিদর্শক পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ‘রিপোর্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেবেন। এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনে বহিষ্কারের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার ফলাফল আইনগতভাবে অকার্যকর গণ্য হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন ঢাবির সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ। সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আবেদন করেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও সম্প্রতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এবং নিজ বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির নেতৃত্বে এই নতুন পরিবর্তন আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবার ছাড়া বছরে মোট ৬৭ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিন এবং শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিন উপলক্ষে ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দিন ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে অর্ধবার্ষিক, প্রাক-নির্বাচনী, নির্বাচনী ও বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি পরীক্ষার সময়সীমা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও তারিখ পরিবর্তনে পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন উপলক্ষে পাঠদান স্থগিত বা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বাংলাদেশের বিরত থাকার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর নীতিগত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার মন্তব্যে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তিনি বলেন, একটি বিশ্বকাপ আসর থেকে সরে দাঁড়ানো কেবল ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষতিই নয়, বরং দেশের ক্রীড়া-অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কূটনীতি এবং জনমনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, “জাতীয় দলের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সমর্থক ও খেলোয়াড়—উভয় পক্ষের জন্যই হতাশাজনক।” উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তটি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিগত অবস্থানের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়, যেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও অংশগ্রহণমূলক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা শুধু তাৎক্ষণিক নয়, ভবিষ্যৎ ক্রীড়া সম্পর্ক, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং ক্রিকেট প্রশাসনের ওপরও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে এক বিকল্প প্রস্তাব, যেখানে ইরান-এর সম্ভাব্য অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে ইতালিকে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইতালির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো-এর কাছে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি রাজনৈতিক নয়; বরং জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচ্য, যদি কোনো কারণে ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে অপারগ হয়। তবে ইতালির সরকারি ও ক্রীড়া মহল এ প্রস্তাবকে নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের একমাত্র বৈধ পথ হলো মাঠে অর্জিত যোগ্যতা, কোনো প্রকার প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। একইসঙ্গে ইতালির অলিম্পিক কমিটি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও প্রস্তাবটিকে ‘অপমানজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক কোনো বাধা আরোপ করা হয়নি, যদিও নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে রোমে অবস্থিত ইরান দূতাবাসও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইন ও যোগ্যতাভিত্তিক অংশগ্রহণের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ১৮ বছর বয়সী স্প্রিন্টার গাউট গাউট। মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড় শেষ করে তিনি অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। এই সময়ের মধ্য দিয়ে তিনি ভেঙে দেন কিংবদন্তি দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের তরুণ বয়সে করা ১৯.৯৩ সেকেন্ডের রেকর্ডও। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাথলেটিকস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো স্প্রিন্টার ২০০ মিটার ২০ সেকেন্ডের নিচে শেষ করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। দৌড় শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গাউট বলেন, এ সাফল্যের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। তবে নিজের অর্জনকে বড় করে না দেখে তিনি বলেন, তিনি এখনো শুরুর পর্যায়ে আছেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তার দৌড়ের ধরন, লম্বা স্ট্রাইড ও শেষ পর্যায়ের গতিকে ‘বোল্ট-সদৃশ’ বলে অভিহিত করছেন। ইতোমধ্যে তাকে অনেকে ‘পরবর্তী বোল্ট’ হিসেবেও দেখছেন। আগামী অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই তরুণ প্রতিভা। তবে চাপ না নিয়ে নিজের মতো করেই এগোতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘদিন অবস্থান ও সাম্প্রতিক অনিয়মিত ক্রিকেট কার্যক্রমের কারণে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক। শনিবার (১১ এপ্রিল) নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, সাকিবের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ হয়েছে, তবে তার বর্তমান প্রস্তুতি ও ফিটনেস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানদণ্ডে যথেষ্ট কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সাকিবের অবস্থানস্থলে নিয়মিত ক্রিকেট ও ট্রেনিংয়ের সুযোগ সীমিত, যা জাতীয় দলে ফিরতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিসিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে দলে রাখতে আগ্রহ থাকলেও তার পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত না হলে তা সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেললেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু টুর্নামেন্টে দল পাননি তিনি।
এবার ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ আরোপ করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। আজ ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০মিনিট) থেকে অবরোধ কার্যকর করা হবে। এই অবরোধ কার্যকর হলে ইরানের বন্দরগুলোতে কোনো জাহাজ ভিড়তে পারবে না এবং বর্তমানে যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরগুলোতে আছে, সেগুলো বন্দর ত্যাগ করে বাইরে যেতে পারবে না। কোনো জাহাজ যদি অবরোধ অমান্য করে, তাহলে সেটি লক্ষ্য করে হামলা চালাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে সেন্টকোমের পক্ষ থেকে। বার্তায় বলা হয়েছে, “সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় (ইরানি) সময় সকাল ১০টা থেকে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি বন্দরগুলোসহ ইরানের সব বন্দরে অবরোধ জারি করা হচ্ছে। এসব বন্দরে প্রবেশ কিংবা নির্গমনে ইচ্ছুক এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী সব দেশের জাহাজের ওপর এ অবরোধ নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হবে। তবে যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ব্যতীত অন্য কোনো দেশের বন্দরের উদ্দেশে যাওয়া-আসা করছে—সেসব জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতায় সেন্টকোম কোনো বাধা দেবে না।” বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য জাহাজগুলোর সুবিধার জন্য অবরোধ কার্যকরের আগে নোটিশ দিয়ে এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেন্টকোমের এক্সবার্তায়। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের ২১ ঘণ্টার সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর গতকাল রোববার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক্সে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা বিষয়ক পোস্ট দিয়েছে সেন্টকোম।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা আরও একবার সামনে এনে জাতিসংঘ একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটির বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পৃথিবীজুড়ে গড় তাপমাত্রা পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক মাস ধরেই বৈশ্বিক উষ্ণতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২4 সালের জুলাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গরম মাস, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছর সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনার মিলিত প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এই সংকেত মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন ভবিষ্যতের ভয় নয়, এটি বর্তমানের বাস্তব দুর্যোগ।” রেকর্ডভাঙা উষ্ণতা ও এর পরিণতি WMO-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রধান সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাকে বাস্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আগেই অস্বাভাবিক দাবদাহ শুরু হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, স্পেনে জলসংকট এবং চীনের নদীগুলোতে পানি শুকিয়ে যাওয়া—এইসব ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবের সরাসরি উদাহরণ। এ ছাড়া গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা, এবং খরার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে অনেক দেশে। জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তাপমাত্রার এই রেকর্ডব্রেকিং ধারা অব্যাহত থাকলে লাখো মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু হওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও পৃথিবীর বড় অর্থনীতিগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জলবায়ু সংকটের সময়েও কয়লা পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা চলতে পারে না। সময় এসেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাহসিকতার সঙ্গে।” এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান নির্গমন কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবায়নে গতি কম। চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল শক্তিগুলোও উন্নয়ন চাহিদার দোহাই দিয়ে নিঃসরণ কমাতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। সম্প্রতি ৫০টিরও বেশি দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশ পরিবেশবান্ধব নীতিমালায় সরে আসছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু আন্দোলনকারীরা আবারও রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, “এই লড়াই শুধু পরিবেশের নয়, এটি মানবতার অস্তিত্বের লড়াই।” পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক ঐক্য ছাড়া কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। জুলাই মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা যদি সত্যিই বাস্তবে পরিণত হয়, তবে সেটি হবে মানবজাতির জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত। বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে—এই সংকেতকে নেতারা কতটা গুরুত্ব দেন, আর মানুষ কতটা প্রস্তুত থাকে এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে।
ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের বিশদ বিবরণে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও আর্থিক সম্পদের তথ্য—যা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নিপুণ রায় চৌধুরী। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত এ প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার নিজ নামে ৫০২ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না রয়েছে। পাশাপাশি তার স্বামী অমিতাভ রায়ের নামেও অতিরিক্ত ১০০ ভরি গয়নার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অলংকারের বাজারমূল্য বা অর্জনকালীন মূল্য হলফনামায় নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি; এগুলো উপহার হিসেবে প্রাপ্ত বলে জানানো হয়েছে। হলফনামায় পেশাগত পরিচয়ে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে নিপুণ রায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আয় হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, তার স্বামীকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, নিপুণ রায়ের নামে ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। তার মালিকানায় থাকা দুটি গাড়ির ক্রয়মূল্য ১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার নামে অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিপরীতে, তার স্বামীর নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাটের তথ্য দেওয়া হয়েছে, যার ক্রয়মূল্য ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান হলফনামায় প্রকাশ করা হয়নি। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণীতে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও, উল্লিখিত গয়নার মূল্য অনির্দিষ্ট থাকায় বিষয়টি ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীকে মনোনীত করেছে বিএনপি। আজ (সোমবার, ২০ এপ্রিল) মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর আগে দলটির পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড গত দুই দিনে প্রায় ৯০০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন, সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ সংক্রান্ত প্রচারিত তথ্যকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছেন। নিজের পোস্টে একটি ইংরেজি উদ্ধৃতি শেয়ার করে তিনি পরোক্ষভাবে গুঞ্জনকারীদের সমালোচনা করেন, যা রাজনৈতিক মহলে তার অবস্থান পরিষ্কার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। এমনকি দলটির শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের খবরও সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও দলীয় পর্যায় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় এবং রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়েছে যে, আপাতত এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বাস্তবায়নের পর্যায়ে নেই।
গণভোট-সংক্রান্ত জনরায় বাস্তবায়নে বিলম্বের অভিযোগ তুলে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার উদ্যোগে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিল শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহ। সংগঠনের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মুহাম্মদ দাউদ খান জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে তারা গণভোটের আলোকে জনমতের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করবে।