দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে : ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ২০: ৫৯
Thumbnail image
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির জাতীয় সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। জামায়াত আমির বলেন, একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। দুর্নীতির মূল উদঘাটন করার জন্য যা দরকার, আমরা তারুণ্য এবং যৌবনের শক্তিকে একত্রিত করে সেই লড়াইয়েও বিজয় লাভ করব। যারা ত্যাগের বিনিময়ে সাড়ে ১৫ বছরের কঠিন অন্ধকার যুগের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, যারা লড়াই করে আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন আমরা তাদের সকলের কাছে গভীরভাবে ঋণী।

বক্তব্য দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে দুইবার মঞ্চে পড়ে গিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম দফায় পড়ে যান তিনি। এরপর উঠে বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। পরে আবার পড়ে যান এবং বসে বক্তব্য দেন। চিকিৎসকরা বক্তব্য দিতে নিষেধ করলেও তিনি শোনেননি।

এ সময় হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ডা. শফিকুর রহমান বসে বসে প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, আমার যতক্ষণ হায়াত থাকবে ততক্ষণ বাঁচবো। তিনি নিজের শহিদি মৃত্যু কামনা করেন। আমিরের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা আবার উজ্জীবিত হন।

মঞ্চে বসে বক্তব্য দেওয়ার সময় দলের চিকিৎসকরা শফিকুর রহমানের রক্ত পরীক্ষা করেন। ছোট পাখা নিয়ে বাতাস করেন কেউ কেউ। এ সময় জামায়াতের আমির জানান, তিনি রক্তচুক্ষকে উপেক্ষা করেছেন। জামায়াতের কেউ এমপি হলে হাতে টাকা বিনিময় করবেন না বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের কেউ এমপি হলে ট্যাক্সবিহীন গাড়ি চড়বে না।

পুরানা পল্টনের ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন ডা. শফিকুর রহমান। শাপলা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে তার বিচার দাবি করেন। বক্তব্য দেওয়ার সময় পুরো মঞ্চের নেতারা দাঁড়িয়ে থাকেন। বেশ কয়েকজন তার পাশে বসে সেবা-শুশ্রূষা করেন। পাশাপাশি বারবার পাশ থেকে বক্তব্য শেষ করার কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, আমার মওত নির্ধারিত। এক সেকেন্ড আগেও আমার মৃত্যু হবে না। এ সময় নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অনুরোধ করে বলেন, আমিরে জামায়াত বক্তব্য হয়ে গেছে আপনার। এরপর শফিকুর রহমান স্লোগান ও সালাম দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির সব নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়ান। তখন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন প্রচণ্ড গরমে অনেকে যেমন অসুস্থ হয়েছেন, আমাদের আমিরে জামায়াতও সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে কথা বলা ও সমাপ্ত ঘোষণার তৌফিক দিয়েছেন। এ সময় জামায়াত আমিরকে দুই পাশ থেকে ধরে ছিলেন দুজন নেতা।

সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর পদ্ধতি) নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। সারা দেশ থেকে দলটির নেতা–কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। বেলা দুইটায় আয়োজনের মূল পর্ব শুরু হয়। আমিরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।

জামায়াত সূত্র জানা গেছে, সমাবেশস্থল থেকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বেলা ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তবে সকাল ১০টার পর থেকেই বক্তব্য রাখেন জেলা ও ঢাকা মহানগর পর্যায়ের নেতারা। এর ফাঁকে ফাঁকে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ-আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং ১ কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

জামায়াত ছাড়াও সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এতে অংশ নেন। এর আগে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান। উদ্যানে প্রবেশের সময় রাস্তার দুপাশে নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দেন। আপ্লুত আমির হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাকে হাসিমুখে দেখা গেছে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

জামায়াতে ইসলামী নিয়ে আরও পড়ুন

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেমন নেতারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি, তেমনি সাংবাদিকরাও সব সত্য প্রকাশ করতে পারেননি। তাই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এখন জরুরি

৪০ মিনিট আগে

একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চেষ্টা করছি। জাতীয় পার্টির উপর ভর করে আওয়ামীলীগের পুনর্বাসন কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। জাতীয় পার্টি দেশে ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে কাজ করেছে দীর্ঘদিন যাবৎ। আমরা অতিদ্রুত জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধ চাই। নাহলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে

১ ঘণ্টা আগে

নুরসহ নেতাকর্মীদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণ অধিকার পরিষদ পঞ্চগড় জেলা শাখা

২ ঘণ্টা আগে

নুরুল হক নূর গণমানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত

৪ ঘণ্টা আগে