লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সাম্প্রতিক বিমান হামলায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) হামরা এলাকায় সংঘটিত এ হামলায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বাসিন্দা দিপালী শেখ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, নিয়োগকর্তার পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে হামলার শিকার হন তিনি। একই ঘটনায় তার নিয়োগকর্তা ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ বৈরুতের একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ও কনস্যুলার কার্যক্রম সম্পন্নে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এ হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি এমকিউ–৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংঘটিত এ ঘটনায় ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপে ভূপাতিত হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগর এলাকায় নির্ধারিত নজরদারি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথে ড্রোনটি জরুরি সংকেত (‘কোড ৭৭০০’) প্রেরণ করে এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে। পরবর্তীতে এর সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য যে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কৌশলগত নজরদারি প্ল্যাটফর্মটির নিখোঁজ হওয়া সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধ সমর্থনে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে বলে একাধিক জরিপে উঠে এসেছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট (আইডিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় জনমতের বড় অংশ সমর্থন দিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। জরিপে দেখা যায়, শুরুতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসরায়েলি যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও বর্তমানে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একইসঙ্গে আরব জনগোষ্ঠীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে সমর্থন কাঠামোয় পরিবর্তন স্পষ্ট। নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও জনমত জরিপে আরও উঠে এসেছে, যুদ্ধের লক্ষ্য ও ফলাফল নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা এবং দৈনন্দিন জীবনের বিঘ্ন জনমনে ক্লান্তি সৃষ্টি করেছে। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস)-এর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব লক্ষ্য নিয়ে জনসমর্থন ছিল, সময়ের সঙ্গে সেগুলোর প্রতি আস্থা কমেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ সামরিক বিজয়ের প্রত্যাশা আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘায়িত সংঘাত সাধারণত জনমতকে যুদ্ধবিরতির দিকে ঠেলে দেয়—ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও এখন সেই প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে, যেখানে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মতামত ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রদান করেছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সমন্বিত সামরিক হামলার মাধ্যমে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শামিল। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে সংঘটিত হামলায় খামেনির মৃত্যু ঘটে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনাকে ‘ইসলামি উম্মাহর বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি জনগণকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, শোকাবহ এই সময়কে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্যটি মূলত অভ্যন্তরীণ সংহতি সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশলগত প্রয়াস।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই কুয়েতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের এ ঘটনায় কুয়েত সরকার সরাসরি ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমন্বিতভাবে পরিচালিত এ হামলায় দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির সময়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়নি। বরং তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, ঘটনাটি তৃতীয় কোনো পক্ষের পরিকল্পিত উসকানি হতে পারে। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, যদি হামলার ঘটনা সত্য হয়ে থাকে, তবে তা ‘বহিরাগত শক্তির’ কৌশলগত প্রচেষ্টা, যার উদ্দেশ্য চলমান যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। ঘটনাটি ঘিরে কুয়েত আন্তর্জাতিক মহলে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ-প্রতিআরোপ চলতে থাকলে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চুক্তির শর্তাবলী পুরোপুরি মেনে না চললে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের চারপাশে মোতায়েন সব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সরঞ্জাম আগের অবস্থানে থাকবে এবং সর্বদা পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়ে তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন আক্রমণ করবে যা আগে কখনো বিশ্বের কেউ দেখেনি। তিনি আরও জানান, ইরানের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু মার্কিন বাহিনী ও অতিরিক্ত গোলাবারুদ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। প্রেসিডেন্টের বিবৃতিতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না এবং চুক্তির শর্তাবলী মানা না হলে শান্তিকালীন বিরতি শেষে পুনরায় ‘লড়াকু অভিযান’ শুরু হবে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি পাকিস্তান ও ইরানের উদ্যোগে ইসলামাবাদে আগামী ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইরানকে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার একটি শক্তিশালী আল্টিমেটাম হিসেবে কাজ করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযানে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। উক্ত হামলার প্রেক্ষিতে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। গোষ্ঠীটি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধমূলক আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি আক্রমণ বন্ধ না করে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে কঠোর ও প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, তা বাস্তবায়ন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি নিশ্চিত করলেও লেবানন এই সমঝোতার আওতায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বিরাজ করছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যা তারা সামরিক প্রয়োজনীয়তার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। অপরদিকে, ইরান এ ধরনের পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ অভিযানে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার দাবি করে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধেও পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, তেহরানের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির একাধিক ধারা ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলমান আলোচনা ও সমঝোতা অব্যাহত রাখাকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের কাছে সামরিক সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, যদি কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানিকৃত সমস্ত পণ্যের ওপর সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, তবে তেহরানের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেছিলেন, এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম বা ছাড় দেওয়া হবে না এবং এটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
ইরানের ওপর পরিচালিত সামরিক হামলাকে “একতরফা ও উসকানিবিহীন আগ্রাসন” হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পুতনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এই অভিযানে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব “শোচনীয় পরাজয়” বরণ করেছে। তিনি বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই এই সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। জাখারোভার ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই; বরং কূটনৈতিক উদ্যোগই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। রাশিয়ার অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। যদিও এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্নমত লক্ষ্য করা গেছে, মস্কো পুনরায় সংলাপভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
১. আর কোনো আগ্রাসন নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে অঙ্গীকার করতে হবে ২. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে ৩. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ইরানের থাকবে ৪. সব প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে ৫. দ্বিতীয় পর্যায়ের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে ৬. নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে সব প্রস্তাব বাতিল করতে হবে ৭. আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা (IAEA)-তে ইরানের বিরুদ্ধে সব প্রস্তাব বাতিল করতে হবে ৮. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৯. মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনাকে প্রত্যাহার করতে হবে ১০. লেবাননসহ সব অঞ্চলে আক্রমণ বন্ধ করতে হবে সূত্র: তাসনিম নিউজ, ইরান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার (৭ এপ্রিল) ঘোষণা করেছেন, তার দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব প্রান্তে অবিলম্বে কার্যকর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার দু’দেশের প্রতিনিধিদলকে বৈঠকের জন্য স্বাগত জানানো হবে, যেখানে চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। শাহবাজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছে, তার দেশ এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরানকে এমন অবস্থানে নিয়ে আসা যাতে তারা পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি তৈরি করতে না পারে। যদিও ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যকে সমর্থন জানাচ্ছে, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে লেবাননের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও ছাড় নেই। এই অবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন হয়ে উঠেছে, যেখানে ইসলামাবাদে আসন্ন আলোচনাই সম্ভাব্য সমাধানের মূল কেন্দ্রে রয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মন্তব্য করেছেন, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতের শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। টাইমস অব ইসরায়েলের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে এবং তারা দীর্ঘ সংঘাতের ক্লান্ত। ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যানজট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা প্রদান করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর সম্পূর্ণ ও নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রণালীটি খুলে দেবে। এই শর্তসাপেক্ষ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রাতভর কমতে শুরু করেছে।
ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে অপ্রচলিত এক নাম ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পেশাদার কূটনীতিকের বাইরে গিয়ে বিহারের সদ্য সাবেক রাজ্যপাল ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক আরিফ মোহাম্মদ খানকে এ পদে বিবেচনার ইঙ্গিত মিলেছে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্রাসেলসে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ঢাকায় তার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। ভারতের কূটনৈতিক নীতিমালায় রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পদে শুধুমাত্র ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট নিয়োগের বাধ্যবাধকতা না থাকায়, বিশেষ কৌশলগত বিবেচনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে—এমন নজির অতীতে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম সামনে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আরিফ খান দীর্ঘদিন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিকবার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালের ‘মুসলিম মহিলা (বিবাহবিচ্ছেদে অধিকার সুরক্ষা) বিল’ ইস্যুতে নীতিগত বিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা ত্যাগের ঘটনা তার রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দেন এবং সর্বশেষ বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এমন উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তা হবে একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ, যার কৌশলগত তাৎপর্য আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে তেহরান পেশ করল ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব, পাকিস্তান মধ্যস্থতায় কাল হবে উচ্চপর্যায় বৈঠক। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে স্থায়ীভাবে শিথিল করার লক্ষ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পর ১০ দফার বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ জানিয়েছে, এই প্রস্তাব পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। প্রস্তাবের মূল অংশে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে আদায়কৃত প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি ওমানের সঙ্গে ভাগ করে দেশীয় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরান চায়, তার ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির একক নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি দিতে হবে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানি সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকারও প্রস্তাবের শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে। ইরান আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সীমিত আকারে ‘সেফ প্যাসেজ প্রোটোকল’ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠন ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি চুক্তির সুযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও ইরান শর্তগুলোতে কঠোর, তবে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য দুই পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন কালকের ইসলামাবাদ হাই-প্রোফাইল বৈঠকের দিকে। সূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের কৌশলগত অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করেছে হোয়াইট হাউজ। বুধবার (৮ এপ্রিল) একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে, যা পরবর্তীতে কূটনৈতিক আলোচনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অগ্রগতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে শক্তিশালী দরকষাকষির সুযোগ তৈরি করে এবং তা সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ সুগম করেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে মার্কিন স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসনের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হলে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ‘সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে’ নিশ্চিত করতে হবে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা গড়ে ওঠে। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সম্মত হওয়ায় যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার পথে রয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে আপাত শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ইরানও তাদের সামরিক অবস্থানে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ থাকলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরোধমূলক অভিযান স্থগিত রাখবে। এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে তেহরান। আগামী দুই সপ্তাহ প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা মেনে চলার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা ইসরায়েলও মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের জ্বালানি খাতের কেন্দ্রবিন্দু খারগ দ্বীপে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহরের বরাতে জানা গেছে, দ্বীপটিতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ সংঘটিত হলেও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খারগ দ্বীপ থেকেই ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়, ফলে ঘটনাটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এ ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্র বা পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে একাধিকবার খারগ দ্বীপসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি প্রদান করেছিলেন। গত ৩০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খারগ দ্বীপ ধ্বংসের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন।
ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণের সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ নাগরিক দেশের জন্য জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি নিজেও ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।” সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রাণহানি ও হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬,৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাপ, কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্পকে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হলে ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে চলে যায়। অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, “ট্রাম্প অবৈধ যুদ্ধ উসকানি দিচ্ছেন এবং ইরানের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করছেন, যা গত ৪৮ ঘণ্টায় সীমা অতিক্রম করেছে।” মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর বলেন, “এই অস্থির মানসিকতার ব্যক্তিকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরানো প্রয়োজন।” নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যান্সবুরি যোগ করেন, “২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের সময় এসেছে, কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভা এখনই পদক্ষেপ নিক।” ইলিনয়ের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশ মন্তব্য করেন, “ট্রাম্প চিরস্থায়ীভাবে দেশ ও বিশ্বের জন্য কলঙ্ক। এখনই সংশোধনী প্রয়োগ করা উচিত।” ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফিও বলেন, “মন্ত্রিসভা এখনই সাংবিধানিক আইনজীবীদের সঙ্গে ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করা উচিত।” সবমিলিয়ে, ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপকে কৌশলগতভাবে ব্যর্থ বলে দাবি করেছে ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানবিরোধী কঠোর ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন। উক্ত সূত্রের মতে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে গৃহীত সামরিক পদক্ষেপসমূহ প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি জনগণের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করে তা ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করলে দেশটির অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ইঙ্গিত দেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সংঘাতের অবসান চায়; তবে তা কোনো একতরফা শর্তে নয়। সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিখোঁজ এক সেনা সদস্যের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ফলে চলমান সামরিক উদ্ধার অভিযান গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রেসিডেন্টের দাবি, তথ্যটি প্রকাশের আগে ইরান কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল না। তবে সংবাদ প্রকাশের পর তারা সতর্ক হয়ে অনুসন্ধান জোরদার করে এবং নিখোঁজ সেনাকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে। এ প্রেক্ষিতে ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে উৎসের পরিচয় চাওয়ার কথা জানান। ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্য প্যারাসুটে অবতরণ করেন। একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অপরজনকে উদ্ধার করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে বিশেষ বাহিনী অংশ নেয় এবং বিভ্রান্তিমূলক কৌশল ব্যবহার করে সফলভাবে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে উদ্ধারকৃত উভয় সেনা সদস্য চিকিৎসাধীন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।