বাগেরহাটের ফকিরহাটে পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাদল রায় চৌধুরী ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ গ্রামের মৃত অনন্ত রায় চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ঘাতক পিকআপ ভ্যানটির সন্ধান করা হচ্ছে এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ফাঁকা হওয়ার সময় নগরবাসীর বাসাবাড়ি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা ত্যাগের আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে। প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজনের কাছে কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানায়ও সেগুলো জমা রাখা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রোববার (১৫ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়ায় শহরের অনেক এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। এ অবস্থায় বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সচেতন থাকা জরুরি। বাসা ছাড়ার আগে দরজা–জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বা সচল রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও জানান, ঈদের সময় রাজধানীতে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের টহল ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ির মাধ্যমে মোবাইল প্যাট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। রাতের বেলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত ফুট প্যাট্রোলও পরিচালিত হচ্ছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে রাজধানীর চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রতিরোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমার চক্রের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন ও পরবর্তী কয়েক দিন ফাঁকা রাজধানীতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বা রেসিং প্রতিরোধে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী–আবদুল্লাহপুর করিডোর এবং গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখল ও আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকায় প্রবেশের জন্য একসময় ‘বিশেষ পরিচয়পত্র’ দেখাতে হতো এবং সশস্ত্র পাহারার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহজে সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন না। বহুবার অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে প্রশাসনকে ফিরে আসতে হয়েছে। তবে গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানের পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে। প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত ওই অভিযানে কোনো রক্তপাত ছাড়াই পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের পর জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও প্লট–বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ছোট ছোট প্লটে জমি ভাগ করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের পর থেকে নতুন করে জমি কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং আগের ক্রেতারাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং একাধিক মামলায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে এলাকাটিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এদিকে জঙ্গল সলিমপুর দখলমুক্ত হওয়ার পর সেখানে স্থগিত থাকা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কারাগার, মডেল মসজিদ, আইটি পার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি, পরিবেশগত ক্ষতি এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর (প্রায় ৫০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের গোলাহাট কবরস্থান সংলগ্ন বধ্যভূমি এলাকার রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে গোলাহাট কবরস্থান এলাকার রেললাইনের আশপাশে ওই নারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুতগতিতে চলাচলকারী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় তিনি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ–কে জানালে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে মাহমুদ-উন নবী জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয়দের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দুর্বৃত্তের গুলিতে সোহাগ শেখ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা পানের হাটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ শেখ একই ইউনিয়নের দৈবকান্দী গ্রামের দাউদ শেখের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, রাতে সোহাগ শেখ গাড়ফা পানের হাট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে কাজী রমজানুল হক জানান, দুর্বৃত্তের গুলিতে সোহাগ শেখ নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
ছাত্ররাজনীতি থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী ও আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। শনিবার (১৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–এর অধীন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজ–এ পড়াশোনার সময় ১৯৮৫ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এ যোগ দেন। পরে ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে এজিএস নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দল–এর সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন। একই বছর তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও মনোনীত হন। পরে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থা–এর চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন শিরিন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল সিটি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় এক দশক অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল চারটি পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য বিলকিস ইসলাম স্বপ্না। জানা গেছে, বাহাগিলি ইউনিয়নের ঠিকরীপাড়া এলাকার ‘যে পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী’ শীর্ষক একটি সংবাদ গত ৫ মার্চ দৈনিক নিখাদ খবর–এ প্রকাশিত হলে বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত তিনি ওই পরিবারসহ উপজেলার আরও তিনটি ছিন্নমূল পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। প্রতিবন্ধী পরিবারটির দুর্দশার কথা শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে ওই পরিবারের জীবিকার বিষয়ে দুশ্চিন্তা না করতে হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় তাকে দেখতে গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় করেন। এদিন তিনি নিতাই ইউনিয়নের ফরুয়াপাড়া গ্রামের শরিফা (৬১) নামের এক আশ্রয়হীন পরিবারের জন্য দুই বান্ডিল ঢেউটিন সহায়তা দেন। একই দিনে পুটিমারী ইউনিয়নের শাল্টিবাড়ী শাহপাড়া এলাকার অসুস্থ ও ছিন্নমূল মুক্তার আলীকে (৬৫) একটি চার্জার ভ্যানগাড়ী প্রদান করেন। পরে বিকেলে চাঁদখানা ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী কামারপাড়া এলাকার আশ্রয়হীন রেখা রায়কে (৩৫) একটি নতুন টিনের ঘর উপহার দেন তিনি। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে রেখা রায় বিলকিস ইসলাম স্বপ্নার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, বিলকিস ইসলাম স্বপ্নার বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের দারোগাপাড়া গ্রামে। এ সময় তার সঙ্গে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, কিশোরগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রোকসানা আফরোজ সাথীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু–এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ দাবি ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের কাজীগছ এলাকায় নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনো তাকে বহিষ্কার করেনি। মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করছেন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বরাবর পাঠিয়ে অনুলিপি ইউএনওকেও দেওয়া হয়েছে। তবে ভিজিএফ কার্যক্রমে তার নাম থাকলেও টিসিবি কার্যক্রমের তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে তার নাম ব্যবহার না করতে ইউএনও নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। তিনি দাবি করেন, তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সহযোগিতায় এবং উপজেলা পিআইও অফিসের কার্যসহকারী জহিরুলের মাধ্যমে এসব অর্থ নেওয়া হতো। উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড় পেতে প্রায় ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, ইউনিয়নের একটি প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে তিন লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। আবার শালবাহান হাটের প্রায় অর্ধকোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় সেই বরাদ্দ আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার ভিডিও, অডিও রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটসহ বিভিন্ন প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। এছাড়া প্রশাসনের একপেশে আচরণের কারণে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, চেয়ারম্যানের আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি নিজেই কিছু ভিডিও তৈরি করেছেন। সেগুলোতে তার বা তার নামে কেউ টাকা নিয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। বিষয়টি তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সীমা শারমিন–এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের গভীরে বন্যহাতির বিচরণভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি সিসি ব্লক তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দুই ইউপি সদস্য পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে বালু, পাথর ও নুড়ি উত্তোলন করে সেখানে ব্লক তৈরি করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছিলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চুড়া এলাকার ভারত সীমান্তঘেঁষা কোনাবাড়ী বড়খোল নামক দুর্গম পাহাড়ি স্থানে কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এলাকাটি গারো পাহাড়ের ভেতরে অবস্থিত এবং বন্যহাতির অবাধ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। মানুষের যাতায়াত কম থাকায় স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী ও চোরাকারবারিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, পাশের পাহাড়ি ঝিরি ‘রঞ্জনা ঝর্ণা’ থেকে অবৈধভাবে বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর উত্তোলন করে ওই কারখানায় সিসি ব্লক তৈরি করা হচ্ছিল। গত মাসের শুরু থেকে সেখানে শত শত ব্লক উৎপাদন করা হয়েছে। এতে ঝর্ণার স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নিকটবর্তী শালবনের টিলাও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য উমর ফারুক ও নবী হোসেন এই অবৈধ কারখানার সঙ্গে জড়িত। তারা উৎপাদিত সিসি ব্লক নালিতাবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে কাউসার আহম্মেদ জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে সিসি ব্লক তৈরির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা দাবি করেছেন যে আগে থেকে উত্তোলন করা বালু ও পাথর দিয়ে নিজেদের জায়গায় ব্লক তৈরি করছিলেন। বিষয়টি আইনসিদ্ধ কিনা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য উমর ফারুক বলেন, নিজের পুকুরপাড় মেরামতের জন্য কিছু ব্লক তৈরি করা হয়েছিল। তবে বিপুল পরিমাণ ব্লক তৈরির বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুটি নদীর বালুমহাল বন্ধ থাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ি ঝর্ণার বালু ও পাথর সরাসরি বিক্রি করা সম্ভব না হওয়ায় সিসি ব্লক তৈরি করে খনিজ সম্পদ পাচারের নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, রঞ্জনা ঝর্ণা থেকে বালু, পাথর বা অন্য কোনো খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবৈধ দাবি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ঈদ মানেই নতুন জামা, আনন্দ আর হাসি। কিন্তু সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে সেই আনন্দ অনেক সময়ই অধরা থেকে যায়। তবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগে এবার ঈদের আগেই হাসি ফুটেছে শতাধিক শিশুর মুখে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় একটি স্কুলের পাশে সামিয়ানা টাঙিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী একটি দোকান। দোকানের সামনে বড় ব্যানারে লেখা ছিল— “এক টাকায় ঈদের নতুন জামা”। ব্যানারটি দেখেই আশপাশের পথশিশু ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ ও কৌতূহল। দোকানের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের হাতে ছিল একটি করে এক টাকার কয়েন বা নোট। তাদের প্রত্যেকেই মাত্র এক টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের নতুন পোশাক—ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট বা প্যান্ট সংগ্রহ করে। নতুন জামা হাতে পেয়ে তাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর। সংগঠনটির সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে গোলাহাট এলাকায় বসান এই ‘১ টাকার দোকান’। এখানে শিশুদের জন্য নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাক সাজিয়ে রাখা হয়। শিশু রেহান (১০) জানায়, তাদের পরিবারে অনেক সময় ঈদের নতুন জামা কেনা সম্ভব হয় না। এক টাকায় নতুন জামা পেয়ে সে খুব খুশি। আর আকাশি (৮) হাসিমুখে বলে, “আমি নিজের পছন্দের একটা ফ্রক নিয়েছি। ঈদের দিন এটা পরবো।” শুধু শিশুদের পোশাকই নয়, এই দোকানে অসহায় মানুষের জন্য শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিসও রাখা হয়েছে। দরিদ্র মানুষরাও মাত্র এক টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক সংগ্রহ করতে পারছেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদের আনন্দে শামিল করতেই এই আয়োজন। শুধু পোশাক নয়, পর্যায়ক্রমে অসহায় মানুষের মধ্যে সেমাই, চিনি ও দুধও বিতরণ করা হবে। তিনি জানান, এই কার্যক্রম ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে। সংগঠনের সদস্য মিথুন, সামিউল, রাজা, রাব্বি ও রকিসহ অন্যরাও এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন। তাদের মতে, সমাজের অনেক শিশুই বিভিন্ন উৎসবে বঞ্চিত থাকে—এই ছোট উদ্যোগ সেই বঞ্চনার হাসিমুখে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে।
পঞ্চগড়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় পঞ্চগড় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন অফিস পঞ্চগড় এর আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় হাসপাতাল চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে হাসপাতাল চত্বরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজা বেগম রিনা, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী। ডা. মিজানুর রহমান জানান, নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ করা হবে।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে কারাগার থেকে ছাড়া হয়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর জেল সুপার মো. আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুক্তির সময় আনিস আলমগীরের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আনিস আলমগীরকে ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ জামিন দেন। তার আগে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) আটক করা হয়। পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাঁচ দিন রিমান্ডে থাকার পর কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ১৫ জানুয়ারি মামলা দায়ের করে, যেখানে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২৫ জানুয়ারি এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। উভয় মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে গোলাম মোঃ বাতেন এ কমিটি গঠন করেন এবং আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে মেজবাহ উদ্দীন-কে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মোংলা ও রামপালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর একজন পরিদর্শক। জেলা প্রশাসক জানান, খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় সংঘটিত এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং কারও অবহেলা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরায় স্ত্রীর পাশ থেকে ছিটকে পড়ে চলন্ত ট্রাকের চাপায় মোস্তফা ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে কুমিরা–সাগরদাঁড়ি সড়কের কুমিরার রাড়িপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফরহাদ হোসেন সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। জানা গেছে, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে একটি ভ্যানে করে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ ভ্যান থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গেলে পিছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে এইচ এম লুৎফুল কবির জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। রাত হওয়ায় দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
বিয়ের সাজে নতুন বউকে নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল, সামনে ছিল পরিবারের সাথে প্রথম ইফতারের আনন্দ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মোংলার কাছেই থমকে গেল সেই পথ। বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ প্রাণ হারালেন ১৪ জন। এর মধ্যে বরের পরিবারেরই ৯ সদস্য। আজ জুমার নামাজের পর মোংলায় পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো তাদের। বিয়ের আনন্দ নিয়ে ফেরা গাড়িটি পরিণত হলো মৃত্যুফাঁদে। নতুন বউ, বর আর স্বজনদের হাসিতে ভরা সেই যাত্রার সমাপ্তি হলো এক মুহূর্তের বিভীষিকায়। রাতভর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে কেঁপে ওঠা মোংলা শহর আজ বিষাদ আর নিস্তব্ধতায় ঢাকা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ভাবি ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং চার শিশু সদস্য সামিউল ইসলাম ফাহিম, আলিফ, আরফা ও ইরাম। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় বিলীন হয়ে গেল একটি পরিবারের প্রায় পুরো প্রজন্ম। অন্যদিকে, কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনার কয়রায়। এছাড়া নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক নাঈম। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহলাবুনিয়ায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল থেকেই রাজ্জাকের বাড়িতে ভিড় জমান শোকাতুর এলাকাবাসী। বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছাব্বিরের। বৃহস্পতিবার নতুন বউ নিয়ে ফেরার পথে রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৪ জন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। এরপর পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় রাজ্জাক পরিবারের ৯ সদস্যকে। বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই কবরের সারিতে ঠাঁই হলো তাদের। ইফতারের টেবিলে যাদের অপেক্ষায় ছিল প্রিয়জন, তারা ফিরলেন না আর— ফিরলো শুধু তাদের নিথর দেহ।
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার খুলনা-মাওয়া মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অত্যন্ত ৫ জন আহত হয়েছে। ১৩ মার্চ (শুক্রবার) পালেরহাট এলাকায় দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে চালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে। অপরদিকে, মহাসড়কের বৈলতলী রাস্তার মাথা নামক স্থানে অপর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, এসময় ট্রাক চালক ও হেলপার আহত হয়েছে। ফকিরহাটে উদ্বেগজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাইওয়ে পুলিশের উদাসীনতা এবং দ্রুত গতির যানবাহন চলাচলের ফলে এমন ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করেন সচেতনমহল।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহে সাড়ে ৭ হাজার দরিদ্র-অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের আরাপপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ ও জোহান পরিবারের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সকালের প্রথম প্রহর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ও বয়স্ক মানুষ খাদ্য সহায়তা নিতে আরাপপুর এলাকায় জড়ো হন। অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারের জন্য ৮ কেজি চাল, ১ কেজি চিনি এবং আধা কেজি সেমাই প্রদান করা হয়, যা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানায়, সমাজের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহে দুস্থ, অসহায়, ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে ঝিনাইদহ জেলা পরিবেশক সমিতি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে শহরের এইচ. এস. এস সড়কে অবস্থিত ঝিনাইদহ জেলা পরিবেশক সমিতির কার্যালয়ে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদকে সামনে রেখে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় বলে জানান আয়োজকরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা পরিবেশক সমিতির সভাপতি আহসান হাবিবুর রনক, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, নজরুল ইসলাম ও আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক সুশীল সরকার, যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন লিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান লিটন, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, সহ-সভাপতি এম. রবিউল ইসলাম রবি, সমিতির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, অর্থ সম্পাদক খুরশিদ আলম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার শওকত হোসেন হিলু মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুদ্দিন জুলিয়াস, সমিতির দপ্তর সম্পাদক ইমরান হামিদসহ কার্যনির্বাহী সদস্য গাউস গোরকি ও দাউদ হোসেন খান। এ সময় অসহায় পরিবারের মাঝে চাল, চিনি, সেমাই, ডাল, আলু ও তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদকে সামনে রেখে এমন সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপকারভোগী পরিবারগুলো। এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। তারা সমাজের বিত্তবানদেরও দরিদ্র মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মেজবাহ উদ্দীনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মোংলা ও রামপাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর একজন পরিদর্শক। জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় সংঘটিত এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং কারও অবহেলা রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের মোংলার যে বিয়ে বাড়িতে এখন ছিল হইহুল্লোড় আর আনন্দ উৎসবের ভাগাভাগির প্রস্তুতি, সেখানে আজ কারো জন্য কান্নার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে আব্দুর রাজ্জাক সহ তার পরিবারের ৮ সদস্যের প্রাণ। বাড়ির উঠান এখন লাশে ভর্তি, সারি সারি খাটিয়ায় শুয়ে আছে ৯ জনের নিথর দেহ। তাদের দাফনের অপেক্ষায় সবাই। যেখানে প্রস্তুতির কথা ছিল বধূবরণের, সেখানে নিষ্ঠুর নিয়তি বদলে দিয়েছে দাফন কাফনের মতো পরিস্থিতিতে। এখন সেই বাড়িতে শুধুই শোকের মাতম। বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। একই রকমের শোক চলছে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের রামপালের বাড়িতে। আলোচিত হৃদয়বিদারক এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাগেরহাট ৩ আসনের সংসদ সদস্য বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। সকালে তিনি নিহত মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের বাড়িতে গিয়ে জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া জুমার নামাযের পর মোংলার শেলাবুনিয়ায় নিহতদের জানাজাতে তিনি অংশ নেবেন। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত দুই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে গভীর রাতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে মোংলায়, ৪ জনের কয়রায় এবং মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখসহ উভয় পরিবারের বেশ কয়েকজন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ সেই সংঘর্ষে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় বহু মানুষের জীবন, থেমে যায় বহু স্বপ্নের গল্প। কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, “এই মৃত্যুর ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।” যে বাড়িতে আজ উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। হাসি-আনন্দের সেই উঠান আজ সাক্ষী হয়ে আছে এক নির্মম নিয়তির।
খুলনা–মোংলা মহাসড়কে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নবদম্পতি, শিশুসহ ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য থাকায় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে উভয় যানবাহনের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ৯ জন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য। তাদের মরদেহ মোংলায় আনা হয়েছে এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে জুমার নামাজের পর উপজেলা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারজনের মরদেহ স্বজনরা গ্রহণ করেছেন; তাদের জানাজা ও দাফন খুলনার কয়রা উপজেলায় সম্পন্ন করা হবে। রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহতদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।