বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে মুদ্রার শক্ত অবস্থান ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে মূল্যহ্রাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল অনুযায়ী স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭১৮.৯৮ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারি গোল্ড ফিউচারস প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৭৪২ ডলারে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্বর্ণ থেকে সরে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির প্রত্যাশা স্বর্ণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। রুপা ও প্লাটিনামের দাম কমলেও প্যালাডিয়ামের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের মূল্য স্থিতিশীল থাকলেও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত নতুন দর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দরে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপা ভরিতে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানায়, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৫৪ বার এবং রুপার দাম ৩৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে।
দেশের স্বর্ণবাজারে দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এবার বড় পতন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার রাতের সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবারের সমন্বয় অনুযায়ী, দেশের বাজারে ১১.৬৬৪ গ্রামের একটি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা একদিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে পতিত হয়েছে। এই মূল্য পরিবর্তন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে এবং স্বর্ণের বাজারে নতুন প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের স্বর্ণ ও রূপার বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে; ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরে স্বর্ণের দাম দেশের বাজারে মোট ৫৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩১ বার বৃদ্ধি এবং ২২ বার হ্রাস করা হয়েছে। রূপার ক্ষেত্রে ৩২ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ বার বৃদ্ধি ও ১৪ বার হ্রাস।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের সাহানুর ইসলাম শিক্ষকতার পাশাপাশি মধু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করছেন। জলঢাকার বগুলাগাড়ী হুসাইনিয়া (রাঃ) কওমিয়া মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে স্বল্প বেতনে চার সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মধু চাষ শুরু করেন। এখন এই পেশা থেকেই বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে তার। সরিষা ক্ষেত, মিষ্টিকুমড়া ক্ষেত, লিচুবাগানসহ বিভিন্ন ফলবাগান ও ফসলের মাঠে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেন সাহানুর। নিজ জেলা ছাড়াও ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তিনি মধু সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয় বাজার ও অনলাইনে তা বিক্রি করেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫টি মৌবাক্স রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি এপিস মেলিফেরা এবং ৫টি এপিস সেরেনা প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। এপিস সেরেনা জাতের মধুর কেজি বাজারে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, আর এপিস মেলিফেরা প্রজাতির মধু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি লিচুবাগানে বসানো ১০টি মৌবাক্স থেকে হারভেস্টিং মেশিনে প্রায় ৭ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। এটি লিচু ও মিষ্টিকুমড়া ফুলের সমন্বিত মধু। সাহানুর ইসলাম বলেন, “মধু চাষে খরচ খুব কম। মৌসুমে তেমন খরচ লাগে না। বর্ষাকালে মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছুটা চিনি দিতে হয়। তবে মৌমাছির সংখ্যা বাড়লে মধু উৎপাদনও বাড়ে।” তিনি আরও জানান, মৌমাছি শুধু মধুই দেয় না, পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও সবজির ফলনও বাড়ায়। তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিভিন্ন ফসলের জমিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্থানীয় মিষ্টিকুমড়া চাষি সহিদুল ইসলাম জানান, “মৌচাষের কারণে জমিতে পরাগায়ন ভালো হয়। গত বছর ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এবার লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছি।” এ বিষয়ে আবু মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলায় বর্তমানে ২৭ জন মৌচাষি রয়েছেন। মৌচাষের ফলে বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষে ফলন বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ খাতে আরও প্রণোদনা দেওয়া হলে উৎপাদন বাড়বে এবং অর্গানিক মধু রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে গম চাষে ইঁদুর দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্লক-৩ এলাকায় বারি গম-৩৩ জাতের প্রজনন বীজ ৪.৮০ হেক্টর, বারি গম-৩০ এবং বারি গম-৩২ যথাক্রমে ৫.৫ হেক্টর জমিতে বপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি খই ভুট্টা-১ (০.৭৫ হেক্টর) ও বারি মিষ্টি ভুট্টা-১ (০.৮০ হেক্টর) চাষ করা হচ্ছে। দেবীগঞ্জ বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান, “লাইন বা সারিভিত্তিক নালাভিত্তিক চাষাবাদ বীজের অপচয় কমায়, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে। সঠিক জাত ও সময়ে বপন করলে কৃষকরা বেশি ফলন পাবেন। বারি গম-৩৩ জাতে প্রতি কেজিতে ৫০–৫৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ব্যবহার করা হয়, যা পুষ্টি বৃদ্ধিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।” BWMRI-এর নতুন উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি বিএডিসি (BADC) মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের গম উৎপাদনে মানসম্মত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামের কৃষক আজিজুল হাকীম শীতপ্রবাহ উপেক্ষা করে নিজের এক একর জমিতে কুইক স্টার বিটকপি চাষ করে বাম্পার ফলন তুলে নিয়েছেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের কৃষিজীবনে এটি তার অন্যতম সফল চাষ বলে জানাচ্ছেন তিনি। চাষি আজিজুল হাকীম জানান, তার ক্ষেতে কুইক স্টার এবং জিরো-৫ প্রজাতির বিটকপি চারা রোপণ করা হয়েছে। ৮৫ দিনের চাষে তিনি প্রায় ৫০০ মন বিটকপি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তবে ফলন অনুযায়ী তিনি আশা করছেন প্রায় ৫ লাখ টাকার লাভ করতে পারবেন। এ ফসল থেকে তিনি নিজের পরিবারে বৃদ্ধ মাতা, স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ সংসারের সব ব্যয় মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করতে পারবেন। আজিজুল হাকীম বলেন, “পৈত্রিক জমিতে কুইক স্টার চাষ করে এত ভালো ফলন পেয়েছি, এটি আমার জন্য এক অনন্য আনন্দ। পরিশ্রমের মূল্য এই ফলন দেখিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষক শীতকালীন রবি শস্য ও সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।” উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম আলী আশরাফ জানান, “আজিজুল হাকীমের সফলতা পুরো ইউনিয়নের জন্য দৃষ্টান্ত। কৃষি দপ্তর নতুন নতুন ফসল উৎপাদন ও আধুনিক চাষপ্রণালীর প্রশিক্ষণ দিয়ে এমন চাষিদের উৎসাহিত করছে। শীতকালীন সবজি চাষে এ ধরনের সফলতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” সরেজমিন দেখা যায়, আজিজুল হাকীমের একর জমিতে সবুজ কুইক স্টার বিটকপি ঘনবিপুলভাবে ছড়িয়ে আছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের চোখে স্বচ্ছ আনন্দ ও চাষির মুখে সন্তুষ্টির হাসি প্রকৃত অর্থেই তার সফলতার প্রমাণ বহন করছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত রুট হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে উভয় দেশ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে আলোচনা হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, প্রস্তাবিত মিশনটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধরত কোনো পক্ষের বাইরে থেকে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, হরমুজে অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এদিকে চীন সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ব্যর্থতার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করেছে। কূটনৈতিক সমঝোতার পথ ভেস্তে যাওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই বিপরীতমুখী যে আপাতত কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। কোনো চুক্তি ছাড়াই উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দল দেশ ত্যাগ করে। এর মধ্যেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজধানীতে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আবুধাবি, তেহরান ও তেল আবিবসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ভাঙন শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকেই নতুন সংকটের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছু তেল স্থাপনা পুনরুদ্ধারের খবর এলেও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক হিসেবে বর্ণনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সংলাপ ভেঙে পড়ায় এখন মধ্যপ্রাচ্য কার্যত উচ্চঝুঁকির এক অনিশ্চিত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে যেকোনো ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে পাশ কাটিয়ে পূর্ব–পশ্চিম রুটে তেল পরিবহনের কৌশলগত পাইপলাইন পুনরায় সচল করেছে সৌদি আরব, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী জানান, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি দীর্ঘ মেরামত শেষে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে। হরমুজ প্রণালি বাইপাস করে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই অবকাঠামোর মূল উদ্দেশ্য। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পূর্বে সংঘাতে এই কৌশলগত পাইপলাইনটি হামলার শিকার হয়ে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছিল। পুনরায় চালুর পর এর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাইপলাইনটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে সৌদি আরবের রপ্তানি সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং হরমুজ প্রণালিনির্ভরতা কমে যাবে। অন্যদিকে, চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে এই উন্নয়নকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের তেল আবিবে সরকারবিরোধী ও ইরান যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে আদালত-নির্ধারিত জনসমাগম সীমা উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শনিবার (১১ এপ্রিল) হাবিমা স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্তত দুই হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, যদিও আদালতের নির্দেশনায় সর্বোচ্চ এক হাজার জনের সীমা নির্ধারিত ছিল। জননিরাপত্তার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আরোপিত এই বিধিনিষেধ উপেক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলনামূলক সংযত ভূমিকা পালন করে এবং বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। টানা ষষ্ঠ সপ্তাহ ধরে চলমান এই আন্দোলনে বামপন্থী ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন অংশ নিচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি ছিল ইরান যুদ্ধের অবসান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার এবং অতি-অর্থোডক্স জনগোষ্ঠীর সামরিক সেবা সংক্রান্ত নীতির বিরোধিতা। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এদিন বিক্ষোভে অংশ নেয়। সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিরুদ্ধে ‘স্থায়ী জরুরি পরিস্থিতি’ তৈরি করে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করার অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে জেরুজালেম ও হাইফাতেও। জেরুজালেমে ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরে জরিমানা সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে তেল আবিবে সমাবেশ সীমা ১ হাজার এবং হাইফায় ১৫০ জন নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জনসমাগম ঘটে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শুধুমাত্র সংখ্যাগত সীমা অতিক্রম করলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, বিশেষ করে নির্দিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি সীমিত থাকলে। বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি সত্ত্বেও উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জটিল রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং চীনা অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকালের অনুষ্ঠানে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং অন্তরীপ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এই অংশটি ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিকেলের অনুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়, যা দিবসটির তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে। আলোচনা সভায় ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ বেঙ্গল স্টাডিজের সভাপতি প্রফেসর দং ইয়ুচেন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু গুয়াংয়ু বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেন। প্রফেসর দং ইয়ুচেন বলেন, "ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্র্যের সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" ইয়ু গুয়াংয়ু যোগ করেন, "চীনে বাংলা ভাষার প্রসারে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, এবং এই দিবসটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে।" রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, "১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমি আহ্বান জানাই, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।" অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর ইফতার আয়োজন এবং আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানটি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগরূক করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে ঘিরে রোববার (১২ এপ্রিল) একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবার বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে—এমন তথ্য জানিয়ে কিছু সূত্র দাবি করে, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ না থাকায় বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। আশা ভোঁসলে ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি হাজারো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন, যা তাকে উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ঘিরে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত ও সংগীতাঙ্গনে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিবার বা হাসপাতালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসা পর্যন্ত তার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দম’-এর সংবাদ সম্মেলনে আবেগের ঢেউয়ে ভেসে গেলেন আফরান নিশো। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি অঝোরে কাঁদতে বাধ্য হন। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর অভিজাত একটি স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিশোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নায়িকা পূজা চেরি, প্রযোজক রেদোয়ান রনি ও শাহরিয়ার শাকিল। তবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিনেমার মূল চরিত্র নূরের উপস্থিতি, যিনি বাস্তব জীবনের সংগ্রামকে পর্দায় প্রতিফলিত করেছেন। নিজের অভিনীত চরিত্রের গভীরতা ও বাস্তব জীবনের নূরের যাপন শোনার পর নিশো প্রকাশ্যেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “দেখুন, দিনশেষে আমিও তো রক্ত-মাংসের গড়া মানুষ।” নিশো জানিয়েছেন, চরিত্রের যথার্থ প্রয়োজনে তিনি নূরের গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প শোনেন এবং সেই বাস্তব অনুভূতি পর্দায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘দম’-এর শক্তিশালী ও বাস্তবমুখী চিত্রনাট্যই তাকে এই কাজের প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে নিশো দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানান সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার জন্য, যাতে সাধারণ মানুষের অদম্য লড়াই ও সহ্যক্ষমতা অনুভব করা যায়। মুক্তির পর ‘দম’ সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি দেশের সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। দর্শকরা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন নিশো ও পূজা চেরির অনবদ্য রসায়ন এবং নূরের জীবনের বাস্তবধর্মী চিত্রায়নকে। প্রযোজকরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশে এই ধরনের গল্পে নির্মিত সিনেমা আগে কখনও দেখা যায়নি। সর্বশেষ, ‘দম’ ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে দেশের সিনেমাপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে শিল্প মহলে। দিঘার তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, তাঁর ফুসফুসে বিপুল পরিমাণ বালি ও নোনাজল জমে গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা পানির নিচে থাকা এবং গভীর পানির চাপের কারণে শরীরে বালি ও নোনাজল প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিনেতা সাঁতার জানতেন বলে জানা গেলেও, হঠাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। শুটিং ইউনিটের কয়েকজন সদস্য তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। অভিনেতার ব্যক্তিগত গাড়িচালক অভিযোগ করেছেন, শুটিং স্পটে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা ছিল না। দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছালে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। রবিবার (২৯ মার্চ) এবং সোমবার (৩০মার্চ) প্রিয় অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তমলুক হাসপাতালে ভক্ত ও সহকর্মীদের ঢল নেমে আসে। কলকাতার বিজয়গড়ে তাঁর বাসভবন সংলগ্ন ভোলা বসু ভবনে মরদেহ রাখা হবে, যাতে চলচ্চিত্র ও নাট্য অঙ্গনের সহকর্মী ও ভক্তরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতের একটি স্ট্যাটাসে অভিনেতা আলভী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ করেছেন, যা ইকরার মৃত্যুর তদন্তকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি জানিয়েছেন, নেপাল শুটিংয়ের দিন থেকে বাড়িতে ইকরার বন্ধু ও সন্তানদের নিয়মিত যাওয়া-আসা চলত এবং মধ্যরাত পর্যন্ত মদ ও গাঁজার পার্টি হত; বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাবে। এছাড়া আলভী বলেছেন, ইকরার ফোনে কে ‘ডিসেবল’ করেছে তা ফরেনসিক রিপোর্টে নির্ধারণ করা প্রয়োজন এবং তিনি নিজেও তার ফোনের আলাপচারিতা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইকরার মৃত্যুর পর তা করাতে বাধা দেওয়া হলো এবং রিপোর্টে কারও চাপের কারণে তথ্য পরিবর্তন হওয়া যাবে না। নিজের স্ত্রীর সম্ভাব্য পরকীয়া বিষয়েও আলভী জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নাবিদ’ নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, যা তিনি ‘ভালোবাসার কারণে’ মেনে নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, উপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং কর্মক্ষেত্রের অমনোবল তার তদন্তে বাধা দেবে। তাই অনুরোধ করেছেন, ছেলে রিজিকের স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের জন্য ভক্তরা ইকরা মৃত্যুর আসল রহস্য প্রকাশে সহায়তা করবেন। ইকরার মৃতদেহ ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাকালে আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। দম্পতির ১৪ বছরের সম্পর্কের ফলস্বরূপ রিজিক নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
• জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট • অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি • নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য • ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি চার ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ । এগুলো হলো জ্বালানি স্বল্পতা,অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীত,নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্য এবং ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণ। চলতি এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত এসব ইস্যুগুলো প্রকাশ করা হয়। চলমান জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভঙ্গুরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং নীতিগত কাঠামোর সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা শীর্ষক সংলাপে সম্প্রতি তিনি এ কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। এতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাতে ইতোমধ্যেই ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতিতে ইতোমধ্যে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে শিল্প ও পরিবহন খাতে বড় প্রভাব ফেলছে । শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ এবং শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,আগামী ৩ মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।জরুরিসেবা ছাড়া সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে। এদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন থেমে গেলে অর্থনীতির ওপর বহুমাত্রিক চাপ তৈরি হয়। এতে কর্মসংস্থান কমে, রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে। তাই শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আশার কথা হলো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে নতুন কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। এর আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের নিত্যপণ্য বাজার এক অদৃশ্য আগুনে পুড়ছে। প্রতিদিন মানুষ যা দেখছে, তা শুধু পণ্যের দাম নয় একটি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। মূল্যস্ফীতি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ও মানসিক সংকটও। মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান যত বাড়ে, সমাজে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও অপরাধপ্রবণতা তত বাড়ে।মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক চিত্র হলেও বড় ধরণের মুদ্রাস্ফীতিকে অর্থনীতির জন্য অভিঘাত হিসেবে দেখা হয়। দেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামছে না। মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের জীবনে কষ্ট বাড়ছে। বিনিয়োগ, ব্যবসা -বানিজ্য, রপ্তানি আয়- কোথাও স্বস্তির খবর নেই। ব্যাংকিং খাত এখনো নড়বড়ে অবস্থায়। এসব বিষয় অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ, যুদ্ধ, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিনিয়োগ কমায় এবং ভোক্তাদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে । মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ায় সরকারের আয়ও কমেছে অনেক। এতে বিভিন্ন খাতের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। রাজস্ব সংগ্রহের এই ধীরগতি ও ঘাটতির কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংকুচিত হচ্ছে, ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে সরকার। এর পেছনে কর ফাঁকি, আয়ের বৈষম্য ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা দায়ী। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেই ধারা থেকে এখনও বের হতে পারছে না সংস্থাটি। এতে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এনবিআরের রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এতে করে ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম অবস্থায় সরকার। চলতি অর্থবছরের কোনো মাসেই আদায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়নি, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ঘাটতি মেটাতে এনবিআর-এর করজাল বিস্তার ও কর ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পরিবহন খরেচের অজুহাতে ও জ্বালানি তেলের সংকটের ফলে পরিবহন ভাড়া, এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে । উৎপাদন ঘাটতি, আমদানিতে ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস ও চাল-ডালসহ সবকিছুর দাম চড়া।জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় ট্রাক ও ভ্যান ভাড়া বেড়েছে, ফলে পণ্য পরিবহনে খরচ ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে । সার, বীজ ও সেচের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে । পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে । টাকার অবমূল্যায়নের ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বেড়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বড় সমস্যাগুলোর একটি খেলাপি ঋণ। সময়ের সঙ্গে এই সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে উৎপাদনমুখী শিল্প খাতেও। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের বড় একটি অংশ রয়েছে শিল্প খাতে, আর এই খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে তীব্র তারল্য সংকট এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। খেলাপি ঋণ ক্যানসারের মতো আর্থিক খাতকে ক্ষয় করছে, যার ফলে আমানতকারীদের আস্থায় চাপ এবং নতুন বিনিয়োগে শ্লথগতি তৈরি হয়েছে । রাজনৈতিক প্রভাব, বিগত সরকারে আমলে অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দৌরাত্ম্য এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেলাপির হার এখনো অত্যন্ত বেশি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তবুও এটি আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি। জানা গেছে, ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ ৫০ কোটি টাকার ওপরে। এসব ঋণে খেলাপির হার ৫১ শতাংশ। ছোট ঋণে খেলাপি মাত্র সাড়ে ২১%। ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের ধরন ও খেলাপির হার নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, যত বড় ঋণ, খেলাপিও তত বেশি। আর ছোট ও মাঝারি ঋণে খেলাপি কম। প্রতিবেদনের তথ্য ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তুলনামূলক বেশি সুদে ঋণ নেন। তারপরও তাঁরা সেই ঋণ পরিশোধে অত্যন্ত তৎপর থাকেন। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ কম। তার বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণে সুদহার থাকে কম। তারপরও বড় ঋণের গ্রাহকেরা কম সুদের সেই ঋণ ফেরতে নানা গড়িমসি করেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ঋণ পরিশোধ না করে উল্টো নানা ধরনের ছাড় পান। ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেছেন, এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতের প্রধান সংকট তারল্য নয়, বরং উচ্চ খেলাপি ঋণ, যা এক ধরনের ‘ক্যানসারের মতো’ ভিতর থেকে খাতটিকে ক্ষয় করছে। এদিকে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি শনাক্ত করতে তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ অটোপাশ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলার শিকার হয়েছেন। গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তাঁর গাড়িতে শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে ভিসি চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। ঘটনাটি মূলত ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীরা কিছু বিষয়ে ফেল করলেও অটোপাশের দাবিতে আন্দোলন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দাবি অযৌক্তিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২১ মে একই ধরনের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ভিসি আহত হয়েছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ-সংযোগ বিভাগ স্পষ্ট করেছে, ‘অন্যায্য দাবি ও অযৌক্তিক আবদারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সহানুভূতি দেখাবে না। অটোপাশ চালু হলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ‘কোরাম’ বা গোষ্ঠীভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করেন তিনি। পোস্টে নেপাল-এর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আম্মার মন্তব্য করেন, সেখানে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা সরকার গঠন করতে পেরেছেন—কারণ সেখানে ঢাবিকেন্দ্রিক ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম’ ধরনের রাজনীতির প্রভাব নেই বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের সঙ্গে অনেকেই একমত হতে পারেন। রাকসুর এই নেতা তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের দাবি, সংগঠনিক ভূমিকা বা ব্যক্তিগত অবদান নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা তার ভাষায় ‘অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন চলাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর উদ্যোগ বা কর্মসূচি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। পোষ্য কোটা আন্দোলনের সময়ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, জুলাই-সম্পর্কিত নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন ঢাবিকেন্দ্রিকভাবে বড় পরিসরে হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে তিনি অবহেলার মুখে পড়েছেন। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে জনপ্রিয়তা বা অনুসারীর সংখ্যার ভিত্তিতে মূল্যায়নের প্রবণতার সমালোচনা করেন এবং নেপাল-এর নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে শুভকামনা জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ প্রকাশ করেছে, যা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত। নীতিমালা সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় করতে পারবে না। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কোনো নতুন খাত তৈরি করে অর্থ আদায় করা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুসারে পরিচালনা করতে হবে। হিসাব সংরক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির উপর যৌথভাবে চাপানো হয়েছে। আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ থাকবেন। নীতিমালায় ব্যাংকিং ও অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত সব ফি, দান-অনুদান ও সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক বা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। জরুরি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নগদ অর্থ গ্রহণ সম্ভব, যা দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া, আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করার আগে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা নিরাপদ ও সুষ্ঠু করতে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী। সভায় জানানো হয়, বি.এস-সি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা সকাল ৯টা ৩০ থেকে দুপুর ১২টা ৩০ পর্যন্ত, আর বিআর্ক প্রোগ্রামের অংকন পরীক্ষা দুপুর ১২টা ৪৫ থেকে ১টা ৪৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডীনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের নিরাপত্তা, যানজট ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধসহ পরীক্ষা চলাকালীন সকল প্রস্তুতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মাকসুদ হেলালী বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত দায়িত্ব অপরিহার্য।”
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ১৮ বছর বয়সী স্প্রিন্টার গাউট গাউট। মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড় শেষ করে তিনি অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। এই সময়ের মধ্য দিয়ে তিনি ভেঙে দেন কিংবদন্তি দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের তরুণ বয়সে করা ১৯.৯৩ সেকেন্ডের রেকর্ডও। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাথলেটিকস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো স্প্রিন্টার ২০০ মিটার ২০ সেকেন্ডের নিচে শেষ করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। দৌড় শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গাউট বলেন, এ সাফল্যের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। তবে নিজের অর্জনকে বড় করে না দেখে তিনি বলেন, তিনি এখনো শুরুর পর্যায়ে আছেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তার দৌড়ের ধরন, লম্বা স্ট্রাইড ও শেষ পর্যায়ের গতিকে ‘বোল্ট-সদৃশ’ বলে অভিহিত করছেন। ইতোমধ্যে তাকে অনেকে ‘পরবর্তী বোল্ট’ হিসেবেও দেখছেন। আগামী অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই তরুণ প্রতিভা। তবে চাপ না নিয়ে নিজের মতো করেই এগোতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘদিন অবস্থান ও সাম্প্রতিক অনিয়মিত ক্রিকেট কার্যক্রমের কারণে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক। শনিবার (১১ এপ্রিল) নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, সাকিবের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ হয়েছে, তবে তার বর্তমান প্রস্তুতি ও ফিটনেস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানদণ্ডে যথেষ্ট কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সাকিবের অবস্থানস্থলে নিয়মিত ক্রিকেট ও ট্রেনিংয়ের সুযোগ সীমিত, যা জাতীয় দলে ফিরতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিসিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে দলে রাখতে আগ্রহ থাকলেও তার পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত না হলে তা সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেললেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু টুর্নামেন্টে দল পাননি তিনি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে তিন মাস মেয়াদের ১১ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের পেছনে কমিটির গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ রয়েছে। নতুন এডহক কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা। এনএসসি জানিয়েছে, পুরনো পরিচালনা পর্ষদ ভাঙার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসিকে ইমেইলে জানানো হয়েছে এবং এডহক কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, নতুন কমিটি দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। বিস্তারিত আসছে...
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ ও পক্ষপাতিত্ব বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তবে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাক্ষাৎকারে অংশ নেননি। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে কমিটি জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কাউকে অভিযুক্ত করা নয়, বরং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা। কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান জানান, আসিফ মাহমুদকে চিঠি প্রেরণ করে সাক্ষাৎকারের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি হাজির হননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এবং উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় থাকা কারণে তিনি তদন্ত কমিটির ডাক মেনে চলতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং অংশগ্রহণ করলে তিনি নিয়মবিরুদ্ধভাবে আদালত অবমাননার পরিস্থিতিতে পড়তেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি নিয়ম ও সংবিধানের সীমারেখা অতিক্রম করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবো না।” এ বিষয়ে কমিটি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করা, কোনো ব্যক্তির দোষারোপ নয়। এই ঘটনায় বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
এবার ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ আরোপ করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। আজ ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০মিনিট) থেকে অবরোধ কার্যকর করা হবে। এই অবরোধ কার্যকর হলে ইরানের বন্দরগুলোতে কোনো জাহাজ ভিড়তে পারবে না এবং বর্তমানে যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরগুলোতে আছে, সেগুলো বন্দর ত্যাগ করে বাইরে যেতে পারবে না। কোনো জাহাজ যদি অবরোধ অমান্য করে, তাহলে সেটি লক্ষ্য করে হামলা চালাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে সেন্টকোমের পক্ষ থেকে। বার্তায় বলা হয়েছে, “সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় (ইরানি) সময় সকাল ১০টা থেকে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি বন্দরগুলোসহ ইরানের সব বন্দরে অবরোধ জারি করা হচ্ছে। এসব বন্দরে প্রবেশ কিংবা নির্গমনে ইচ্ছুক এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী সব দেশের জাহাজের ওপর এ অবরোধ নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হবে। তবে যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ব্যতীত অন্য কোনো দেশের বন্দরের উদ্দেশে যাওয়া-আসা করছে—সেসব জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতায় সেন্টকোম কোনো বাধা দেবে না।” বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য জাহাজগুলোর সুবিধার জন্য অবরোধ কার্যকরের আগে নোটিশ দিয়ে এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেন্টকোমের এক্সবার্তায়। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের ২১ ঘণ্টার সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর গতকাল রোববার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক্সে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা বিষয়ক পোস্ট দিয়েছে সেন্টকোম।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা আরও একবার সামনে এনে জাতিসংঘ একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটির বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পৃথিবীজুড়ে গড় তাপমাত্রা পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক মাস ধরেই বৈশ্বিক উষ্ণতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২4 সালের জুলাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গরম মাস, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছর সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনার মিলিত প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এই সংকেত মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন ভবিষ্যতের ভয় নয়, এটি বর্তমানের বাস্তব দুর্যোগ।” রেকর্ডভাঙা উষ্ণতা ও এর পরিণতি WMO-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রধান সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাকে বাস্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আগেই অস্বাভাবিক দাবদাহ শুরু হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, স্পেনে জলসংকট এবং চীনের নদীগুলোতে পানি শুকিয়ে যাওয়া—এইসব ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবের সরাসরি উদাহরণ। এ ছাড়া গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা, এবং খরার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে অনেক দেশে। জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তাপমাত্রার এই রেকর্ডব্রেকিং ধারা অব্যাহত থাকলে লাখো মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু হওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও পৃথিবীর বড় অর্থনীতিগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জলবায়ু সংকটের সময়েও কয়লা পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা চলতে পারে না। সময় এসেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাহসিকতার সঙ্গে।” এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান নির্গমন কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবায়নে গতি কম। চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল শক্তিগুলোও উন্নয়ন চাহিদার দোহাই দিয়ে নিঃসরণ কমাতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। সম্প্রতি ৫০টিরও বেশি দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশ পরিবেশবান্ধব নীতিমালায় সরে আসছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু আন্দোলনকারীরা আবারও রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, “এই লড়াই শুধু পরিবেশের নয়, এটি মানবতার অস্তিত্বের লড়াই।” পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক ঐক্য ছাড়া কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। জুলাই মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা যদি সত্যিই বাস্তবে পরিণত হয়, তবে সেটি হবে মানবজাতির জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত। বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে—এই সংকেতকে নেতারা কতটা গুরুত্ব দেন, আর মানুষ কতটা প্রস্তুত থাকে এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে।
ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর অবশেষে বিষয়টির অবসান ঘটেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কবি মাসুদ অরুণ পারস্পরিক সাক্ষাতে স্পষ্ট করেছেন, ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড়জনিত পরিস্থিতির ফল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো আচরণ নয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাতের পর মাসুদ অরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার বিকৃত উপস্থাপন। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত জনসমাগমের মধ্যে স্বাভাবিক ধাক্কাধাক্কির একটি অংশ বিশেষভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, যা দুই নেতার পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনায় কোনো প্রকার ইচ্ছাকৃত আক্রমণ বা অসদাচরণের উপাদান প্রতীয়মান হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। উভয় পক্ষই বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যায়িত করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বাদশ দিনে একাধিক বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলীয় জোট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে তারা সম্মিলিতভাবে কক্ষ ত্যাগ করে। ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষের উত্থাপিত যৌক্তিক আপত্তি উপেক্ষা করে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বিল পাস করা হয়েছে, যা জনস্বার্থবিরোধী। এ প্রেক্ষাপটে উক্ত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার দায়ভার এড়াতেই তারা সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এদিন অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয় এবং কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়। যেসব প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারায় বিরোধী জোট আপত্তি জানিয়েছে, তার মধ্যে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল, জেলা পরিষদ সংশোধন বিল ২০২৬, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন-সংক্রান্ত বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিলসহ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল উল্লেখযোগ্য। ঘটনাটি সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী মতামতের প্রতিফলন ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
নির্বাহী সরকারের প্রভাববহুল দুর্নীতি দমন পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “যে কমিশন সরকারের দয়ায় গঠিত হয়, তা কখনোই স্বতন্ত্রভাবে সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।” জারা উল্লেখ করেছেন, সরকার একটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে যা দুদককে প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই বড় আর্থিক দুর্নীতি বা অর্থপাচারের মামলা দায়েরের ক্ষমতা দিত। এছাড়া, একটি স্বতন্ত্র বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও স্থগিত রাখা হয়েছে। জারা বলেন, “হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধানকে ব্যবহার করে অপরাধীদের পালানোর সুযোগ দেওয়া অযৌক্তিক। একটি কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত হতে হবে।” তিনি সতর্ক করেছেন, সরকার যদি স্বাধীন বাছাই কমিটি গঠন না করে, তবে দুদক হবে “সরকার নির্ভরশীল” এবং বিরোধী দলকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে। তিনি আইন বাতিলের পরিবর্তে সংশোধনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন সংস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জমে উঠছে রাজধানীতে বিরোধী জোটের গণভোট সমর্থক বিক্ষোভের প্রস্তুতি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংসদের ষষ্ঠ দিনে, বুধবার (১ এপ্রিল) বিরোধী দলীয় সদস্যরা মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর প্রস্তাবিত জুলাই সনদ আদেশ না দেওয়া এবং বিরোধী নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগ তুলে হঠাৎ সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে আমরা গভীর বিস্মিত এবং আহত।” বিক্ষোভ-সমাবেশের মূল দাবি গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমাবেশ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে আরও দৃশ্যমান করবে এবং সরকারের প্রতি চাপ বাড়াবে।