দেশীয় স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুসের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দরে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকায়। এর মাত্র এক দিন আগেই, ৬ ফেব্রুয়ারি বাজুস একই অঙ্কে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আবারও মূল্য বৃদ্ধি করা হলো। চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ২৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ দফা দাম বেড়েছে এবং ৯ দফা কমেছে। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল—যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়। এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই ঘন ঘন ওঠানামা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যা সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সরবরাহ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৯ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই ডলার ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডলার কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ও কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। একই দরে আগের দিন বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে। এর আগে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোট ৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে জানুয়ারি মাসজুড়েও একাধিক দফায় বিভিন্ন সংখ্যক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে একই দরে ডলার সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নির্ধারিত কাট-অফ রেটে ডলার কেনা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৯৭ ডলারে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ফিউচার বাজারে স্বর্ণের দর ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানান, ডলার দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা স্বর্ণের বাজারকে আরও চাঙ্গা করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বর্ণের দাম স্বল্পমেয়াদে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৪০ ডলার ছুঁতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম বছরে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৬৭৯ দশমিক ১৫ এবং ১ হাজার ৯৫১ দশমিক ৯৩ ডলারে। ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডলারের বিকল্প হিসেবে বাস্তব সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ায় ২০২৬ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতায় স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অলঙ্কারের গণ্ডি ছাড়িয়ে আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর দেশীয় ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দুরবস্থা ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবের কারণে ২০–২৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। বর্তমানে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যধিক, তাই বাস্তবতার ভিত্তিতে মাত্র ১০–১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট হবে। তিনি আরও জানান, খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে আনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে রেশনালাইজেশন করা সরকারের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক রেজ্যুলিউশন ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে ৩০–৪০ হাজার কোটি টাকা জমা রাখা হবে। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে। গভর্নর আশ্বাস দেন, মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব। তবে সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি না হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফ মোশারফ হোসেন এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তারা সবাই ব্যাংকিং খাতের সংকট ও প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
নীলফামারী জেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের ঝাড়পাড়ায় মনিরুজ্জামান (রাজু) গড়ে তুলেছেন রাজু অর্গানিক গার্ডেন অ্যান্ড নার্সারী, যেখানে বিভিন্ন জাতের মাল্টা, কমলা এবং দেশি-বিদেশি ফলের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। রাজু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পাস করার পর চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৮ সালে নিজের পৈতৃক দেড় একর জমিতে তিনি মাল্টার বাগান গড়ে তোলেন। বাগানে বর্তমানে রাজু-১ ও রাজু-২ নামে তার উদ্ভাবিত মাল্টার দুটি জাত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজুর বাগান থেকে নীলফামারীর বিভিন্ন অফিস-আদালত ও দেশের বাইরের জেলায় মাল্টা পাঠানো হচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। বাগানে কমলা, সিকি মোসাম্বি, বারী-১, বারী-২, মরক্কো, থাই পেয়ারা, বারো মাসী আমড়া, কাঁঠাল, ড্রাগন, আনার, আপেল, কাজু ও পেস্তা বাদামসহ প্রায় ৪০০ প্রজাতির ফলগাছ রয়েছে। রাজু বলেন, “২০১৯ সালে প্রথম ফল পাওয়া শুরু হয়। ২০২০ সালে ফলন ও মিষ্টিতা বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেড়ে যায়। গত বছর বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার আয় হয়েছে, এবারে ১৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে আশা করি।” পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনারুল হক বলেন, “রাজু মনেপ্রাণে কাজ করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাল্টা ও কমলার উৎপাদন ও জাত উন্নয়নে সফলতা পেয়েছে।” নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি এই বাগান থেকে বিষমুক্ত, স্বাস্থ্যকর মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে। এটি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও দিয়েছে।” নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর রহমান বলেন, “রাজুর বাগান থেকে উৎপাদিত মাল্টা ও কমলা দেশজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে। ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ও হাঁড়ের গুড়া ব্যবহার করে আশাতীত ফলন মিলছে। কৃষি বিভাগও রাজুর উদ্ভাবিত মাল্টা জাত দেশের বাজারে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।”
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যাপকভাবে আলুখেতে লেটব্রাইট (কোল্ড ইনজুরি) রোগ দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও সুফল না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আলুচাষিরা। জেলায় হিমশীতল বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশার প্রভাবে শত শত বিঘা আলুখেত আক্রান্ত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, নামি-দামি বালাইনাশক ব্যবহার করেও রোগ দমন করা যাচ্ছে না। ফলে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লোকসানের হিসাব কষে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুঠি এলাকার আলুচাষি আবদুল জব্বার বলেন, গত বছর অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন পাওয়ায় এবার দ্বিগুণ জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে শীত ও কুয়াশার কারণে লেটব্রাইট রোগে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে নীলফামারী জেলায় ১৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৬২০ টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, আক্রান্ত এলাকার তথ্য পেলে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় আলুখেতে এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে লেটব্রাইট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। কৃষকরা দোকানিদের পরামর্শে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন। একই সঙ্গে শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষায় বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিচালনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ভারতের বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ ভারতে, বিশেষ করে বাংলায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রশ্ন তোলে।” তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেন, কমিশনের থ্রেট কালচার পুরো গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং প্রক্রিয়াকে “বুলডোজ” করেছে। মমতা আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় শাসকদল ও কমিশন জেলা প্রশাসকদের হুমকি দিচ্ছে, যা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। রাজনীতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মমতার এই মন্তব্য আগামী নির্বাচন এবং রাজ্য-রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সমীকরণের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বন্দুকধারীর হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত এবং অনেকজন আহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে হামলাকারীও রয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে হেলিকপ্টারে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আনুমানিক ২৫ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যদিও তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। আরসিএমপি জানিয়েছে, স্কুলের বাইরে একটি আবাসনেও দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সব শিক্ষার্থী ও কর্মচারীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে।
মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপনের একটি বিশাল পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্স চাঁদে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর গড়ে তোলার দিকে মূল মনোযোগ দিচ্ছে এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসভ্যতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সংস্থার প্রধান অগ্রাধিকার, ফলে মঙ্গল গ্রহে স্থায়ী বসতি স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আপাতত পিছিয়ে রাখা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক জানান, স্পেসএক্স ২০২৭ সালের মার্চে চাঁদে একটি মানববিহীন মহাকাশযান অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদ অভিযানের প্রস্তুতি এবং প্রাথমিক অবকাঠামো স্থাপন শুরু হবে। এর আগে মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই স্পেসএক্স অধিগ্রহণ করেছে। অধিগ্রহণ চুক্তিতে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার এবং এক্সএআই-এর মূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলার ধরা হয়েছে। মাস্কের এই উদ্যোগ স্পেসএক্সের জন্য মঙ্গল গ্রহ অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি চাঁদে মানুষের বসতি গড়ার পথকে আরও দৃঢ় করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে, যেখানে কেবল রকেট প্রেরণ নয়, বরং চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
ওয়াশিংটন–নয়াদিল্লি সম্পর্কের টানাপড়েন কাটিয়ে আবারও ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথে অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি সপ্তাহে ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে অঙ্গীকার করেছে এবং পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য ক্রয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি আগামী এক দশকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি কাঠামো তৈরিতেও দিল্লি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার কার্যকর হবে। নতুন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পাল্টা শুল্কের হারও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ধাপে ধাপে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল বাণিজ্যিক সমঝোতাই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার প্রতিফলন। অতীতে ট্রাম্প একাধিকবার মোদিকে তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্বের গবেষণা অঙ্গনে আবারও দৃশ্যমান হলো বাংলাদেশি মেধার শক্ত অবস্থান। মালয়েশিয়া প্রবাসী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়নে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র্যাঙ্কিং ২০২৬ অনুযায়ী, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় তিনি মালয়েশিয়ায় শীর্ষস্থান, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে সপ্তম অবস্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বের ৩৩ হাজারের বেশি বিজ্ঞানীর মধ্যে এই অবস্থান তার গবেষণাগত প্রভাব ও একাডেমিক উৎকর্ষের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের বছরেও তিনি একই বৈশ্বিক অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায়ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে তার। স্কলারজিপিএস ২০২৫ অনুযায়ী তিনি এই ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম হন। একই সঙ্গে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের যৌথ বিশ্লেষণে প্রকাশিত শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় মালয়েশিয়ার এনার্জি গবেষকদের মধ্যে তিনি শীর্ষে অবস্থান করেন। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্ভাবনে অবদানের জন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন ড. সাইদুর রহমান। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ওবাদা পুরস্কারে ‘বিশিষ্ট বিজ্ঞানী’ বিভাগে নির্বাচিত হন তিনি, যেখানে বিশ্বব্যাপী মাত্র আটজন বিজ্ঞানীকে সম্মান জানানো হয়। গুগল স্কলার অনুযায়ী তার এইচ-ইনডেক্স ১৪৫ এবং গবেষণাকর্মে সাইটেশন সংখ্যা ৮৬ হাজারের বেশি। ময়মনসিংহের সন্তান ও বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ড. সাইদুর রহমান বর্তমানে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জন একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধার সক্ষমতাকেই তুলে ধরেছে।
মানিকগঞ্জে একটি রেস্তোরাঁয় সংঘটিত সহিংস হামলায় একজন গ্রাহক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মানিকগঞ্জ শহরে চিত্রনায়ক ওমর সানী-র মালিকানাধীন চাপওয়ালার শ্বশুর বাড়ি বাংলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট-এ এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম মো. আতিকুর রহমান খান। তার চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আতিকুর ও তার কয়েকজন বন্ধু রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গেলে নারী ক্রেতাদের সঙ্গে এক কর্মীর অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আতিকুরকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—ইমরান, লিখন, হাসান, জীবন, মুন্না ও মঞ্জুরসহ মোট ১৩ জন; বাকিরা অজ্ঞাত। ঘটনার বিষয়ে ওমর সানী জানান, অভিযুক্ত কর্মী লিখনকে স্বল্প সময় আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার আচরণ নিয়ে আগেই সন্দেহ ছিল। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি বিচার দাবি করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার কথাও জানান। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
দেশে ইতিহাসে প্রথমবার একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উদ্বেগ ও আগ্রহ। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কাড়লেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল শবনম ফারিয়া। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পহেলা ফাল্গুনে শাড়ি না আবায়া পরার প্রশ্ন তুলেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে লাইক, শেয়ার ও মন্তব্যের ঝড়ে পরিণত হয়। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের ভোট প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে এবং দেশের ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে ভোটাররা ইতোমধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।
সপ্তাহের বিশেষ দিনে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পালিত হলো ‘চকোলেট ডে’, যখন প্রিয়জনকে চকোলেট উপহার দিয়ে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, চকোলেট কেবল মিষ্টি খাবার নয়, এটি অনুভূতি প্রকাশের একটি সহজ ও প্রিয় মাধ্যম। যারা সরাসরি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারছেন না, তাদের জন্যও এক টুকরো চকোলেটের মাধ্যমে মন খুলে অনুভূতি জানানো সম্ভব। উপহার হিসেবে ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে জনপ্রিয়, কারণ এতে কম চিনি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। মিল্ক চকলেট শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সকলের কাছে সমান প্রিয়, এবং ক্যারামেল বা বাদাম যুক্ত মিল্ক চকলেট বিশেষ দিনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। স্বাদের ভিন্নতা পছন্দকারীদের জন্য হোয়াইট চকলেট বা থিমভিত্তিক কাস্টমাইজড চকলেট বক্সও বিকল্প হিসেবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ দিনটি শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বন্ধু, পরিবার ও কাছের মানুষের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগাভাগি করার সুযোগও এটি এনে দেয়। এমনভাবে চকোলেট ডে মনে করিয়ে দেয়, আন্তরিকতা থাকলে একটি ছোট্ট মিষ্টি উপহারও বড় অনুভূতির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। আগামীকাল ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের ‘টেডি ডে’ পালিত হবে।
চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর লেখা ‘এক নজরে কুরআন’ গ্রন্থকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বর্ষা বইটির প্রশংসা করেন এবং কোরআন অধ্যয়ন সহজতর করার জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে বইটির ছবি প্রকাশ করে বর্ষা লেখেন, বইটি তাঁর পরিবারে কোরআন বোঝার আগ্রহ ও সুযোগ আরও বাড়িয়েছে। তিনি জানান, তিনটি কপি সংগ্রহ করেছেন—এর মধ্যে দুটি তাঁর বোনদের জন্য। পোস্টে বর্ষা উল্লেখ করেন, সংক্ষিপ্ত ও সহজ উপস্থাপনার মাধ্যমে কোরআনের মূল বিষয়গুলো অনুধাবনে বইটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি ড. আজহারির জন্য দোয়া কামনা করেন। উল্লেখ্য, ‘এক নজরে কুরআন’ সাম্প্রতিক সময়ে পাঠকমহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
বাবা তারেক রহমানকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি লিখেছেন, আমার আব্বু হলেন আমার দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এ কথা লেখেন। ছোটোবেলায় আমাদের সকলের মনেই বিশ্বাস জন্মে যে, আমাদের বাবারা সবকিছুতেই পারদর্শী। অনেক সময় তাঁরাই হয়ে ওঠেন আমাদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে বড় আদর্শ। পোস্টে তিনি লেখেন, আমার আব্বু হলেন আমার দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ। আমার জীবনে তিনিই হলেন সেই একজন ব্যাক্তি- যার ওপর আমি নিশ্চিন্তে যেকোনো পরিস্থিতিতে ভরসা করতে পারি। বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও লেখেন, আমি খুবই আনন্দিত যে, সমগ্র বাংলাদেশ অবশেষে তাঁর এই অনন্য গুণাবলিগুলো প্রত্যক্ষ করবে। তাঁর মধ্যে থাকা অসাধারণ গুণাবলিগুলোই তাঁকে এই দেশ ও জনগণের একজন সত্যিকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। কোন ধরনের অনিয়ম বা ঘুষ-বাণিজ্যের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং বেতন বিলম্বের বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ, স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এআই অ্যাপের সহায়তায় উত্তর খোঁজার অভিযোগে এক ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ‘সি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীর নাম দিব্য জ্যোতি সাহা। তার রোল নম্বর ৩১১০০০৫২। তিনি ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা হলেও স্থায়ী নিবাস খুলনায়। তার বাবা ড. সাহা চঞ্চল কুমার জনতা ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এবং মা অল্পনা সাহা গৃহিণী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায়, তিনি মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ‘ডিপসিক’ নামের একটি এআই অ্যাপ ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন। পরীক্ষা শেষে তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর গিয়াসউদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট আরও প্রকট। অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে করে পাঠদানের মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহও কমে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়েই শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি বিদ্যালয়ে তিন থেকে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়, কোনো কোনো স্কুলে মাত্র একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষককে একসঙ্গে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান করতে হয়, যা কোনোভাবেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। একজন শিক্ষক যখন একই সময় একাধিক শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ান, তখন স্বাভাবিকভাবেই কোনো শ্রেণির উপর পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হয়। এইভাবে ধাপে ধাপে শিখনের ঘাটতি তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনেও। শুধু পাঠদানের ক্ষেত্রেই নয়, একজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, মিডডে মিল, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হিসাব রাখা, নানা রিপোর্ট প্রস্তুত করাসহ আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষক যতই আন্তরিক হোন না কেন, সীমিত জনবল ও অপ্রতুল সময়ের কারণে শিক্ষার মান উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরাও এই সংকটের কারণে দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে। একজন শিক্ষক একসঙ্গে দুই-তিনটি শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি সৃষ্টি হয় এবং তারা ধীরে ধীরে স্কুলে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে ঝরে পড়ার হারও বাড়ছে। সরকার শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংকট কাটছে না। অনেক সময় নিয়োগপ্রাপ্তরাও দুর্গম এলাকায় যোগদান করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, ফলে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত ও কার্যকর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। বিশেষ করে দুর্গম ও গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থায়ী পদ সৃষ্টি, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রণোদনা প্রদান এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প শিক্ষা পদ্ধতিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যাতে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠ গ্রহণ করতে পারে। প্রাথমিক স্তরেই যদি শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষা না পায়, তবে তা পুরো শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এখনই সময় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যেন একজন শিক্ষককে আর একা একাধিক শ্রেণির ভার বইতে না হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারে।
দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবার থেকে নজরদারির আওতায় আসছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পদ্ধতিতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় এক হাজার স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এই ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ✅ কীভাবে কাজ করবে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি? ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রেকর্ড হবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইডি কার্ড স্ক্যান অথবা ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে। প্রতিদিন সকালের শুরুতে হাজিরা রেকর্ড হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং তা অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। শিক্ষকরা মোবাইল অ্যাপ অথবা অনলাইন ড্যাশবোর্ড থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হাজিরার তথ্য দেখতে পারবেন। এর ফলে শিক্ষকের সময় বাঁচবে এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। 🎯 উদ্দেশ্য কী এই পদক্ষেপের? এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— ✅ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ✅ বিদ্যালয়ে সময়মতো উপস্থিতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা ✅ অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ✅ শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও পাঠদানে স্বচ্ছতা আনা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, "ডিজিটাল হাজিরা শুধু উপস্থিতির হিসাব রাখার জন্য নয়, এটি শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করার একটি আধুনিক মাধ্যম।" 📊 পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক ফল প্রাথমিক পর্যায়ে চালু করা স্কুলগুলো থেকে ইতিমধ্যেই আসছে আশাব্যঞ্জক ফলাফল। হাজিরার হার বেড়েছে ৮৫% থেকে ৯৬% পর্যন্ত। ময়মনসিংহের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, "আগে অনেক শিক্ষার্থী বেলা ১১টায় এসে ক্লাসে ঢুকত, কিন্তু এখন সবাই ঠিক ৮টায় হাজির। অভিভাবকেরাও সময়মতো স্কুলে পাঠাতে সচেষ্ট হচ্ছেন।" 📱 অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিভাবক পর্যবেক্ষণ এই ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে একটি মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, যেখানে প্রতিদিনের হাজিরা, ফলাফল, পরীক্ষার সময়সূচি ও শিক্ষকের মন্তব্য অভিভাবকরা দেখতে পারবেন। একজন অভিভাবক বলেন, "আগে আমরা জানতাম না সন্তান স্কুলে যাচ্ছে কিনা। এখন প্রতিদিন সকালে এসএমএস পেয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারি।" 🏫 চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যদিও এই পদ্ধতি অত্যাধুনিক, তবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ইন্টারনেট সংযোগ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ—এই তিনটি ক্ষেত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার ইতোমধ্যে ৫০০০ বিদ্যালয়ে সফটওয়্যার ও প্রশিক্ষণ বিতরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 📌 উপসংহার সরকারি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু উপস্থিতির হিসাব রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।
নবনিযুক্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পল্লবীতে নিজের বাসভবনে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রীড়া ও কূটনৈতিক নীতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার ভারতের সঙ্গে চলমান ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতের চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তবে শপথ গ্রহণের পর ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি সমাধান সম্ভব হবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভাবনাও তুলে ধরে তিনি জানান, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সহনশীল ও নমনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, “যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্রুত সমাধান করা হবে যাতে খেলোয়াড়রা বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারে।” প্রতিমন্ত্রী দেশব্যাপী ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ ও গ্রাসরুট পর্যায়ে খেলাধুলা প্রসারে তার পরিকল্পনার কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জনতার সঙ্গে সংলাপে তিনি সবাইকে আশ্বাস দেন, “আমি মন্ত্রী হয়েছি, তবে আপনাদের সেই আমিনুলই আছি। আমার দরজা সব সময় খোলা।”
বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের স্থান গ্রহন করেছে স্কটল্যান্ড। আইসিসি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছে, গ্রুপ ‘সি’-তে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে স্কটল্যান্ড খেলবে। স্কটিশরা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ম্যাচের আগে দলের স্পিনার মার্ক ওয়াট বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি আমরা গভীর সহমর্মী, তবে আমাদের উপস্থিতি এই টুর্নামেন্টে নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যে কোনো দলকে হারাতে সক্ষম এবং পুরোপুরি প্রস্তুত।” স্কটল্যান্ডের এই অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের গতিশীলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যেখানে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকেও চমক দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছে দলটি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি)-কে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে ফেলেছে। পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভার্চুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকে প্রতিক্রিয়া জানাবে আইসিসি। পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে তথ্য দেয়নি, তবে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকার আজই ই-মেইলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানাবে। আইসিসি জানিয়েছে, নির্বাচিত কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়া হলে তা টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও চেতনা ক্ষুণ্ন করবে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আর্থিক জরিমানা, ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সীমাবদ্ধতা। আইসিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্প্রচারক সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য পিসিবিকে দায়ী করা হতে পারে এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট বিশ্ব ক্রিকেট এবং কোটি কোটি ভক্তদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫–২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ আলীমুজ্জামান। খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান মোল্লা খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, বিসিবির জেলা ও দলীয় প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক এবং অংশগ্রহণকারী দলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আফগানিস্তানে নারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিধান সংযোজন করে নতুন ফৌজদারি আইন জারি করেছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Independent–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে ‘শাস্তি’ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে ‘হাড় ভাঙা’ বা দৃশ্যমান জখমের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯০ পাতার নতুন দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। পশতু ভাষায় প্রণীত ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি বিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলি) ইতোমধ্যে দেশটির আদালতগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, স্বামী ‘অতিরিক্ত শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর হাড় ভাঙলে বা দৃশ্যমান জখম করলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণের দায় সম্পূর্ণভাবে নির্যাতিত নারীর ওপর বর্তাবে। নির্যাতনের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে—নারীকে পূর্ণ হিজাব পরিহিত অবস্থায় জখম দেখাতে হবে এবং তার সঙ্গে স্বামী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া স্বামীর অনুমতি ছাড়া বিবাহিত নারীর আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সাজা তিন মাসের কারাদণ্ড। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন দণ্ডবিধিতে সমাজকে চার শ্রেণিতে—উলামা, আশরাফ, মধ্য ও নিম্ন শ্রেণি—বিভক্ত করা হয়েছে। একই অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা অপরাধের ধরন নয়, বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে। এই আইন জারির পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও শক্তি প্রদর্শন করল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার USS Theodore Roosevelt এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ সম্প্রতি বিতর্কিত এই অঞ্চলে প্রবেশ করে টহল মিশনে অংশ নেয়। পেন্টাগনের দাবি, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত কার্যক্রম, যার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌপরিবহন স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে চীন এই পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে এবং তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে তারা ‘প্রত্যুত্তর’ দিতে প্রস্তুত। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও ২০১৬ সালের হেগ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এই দাবি খারিজ হয়েছে। আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা শুধু চীনের জন্য নয়, বরং সমগ্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু নিজেরাই নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি ফিলিপাইনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল আকারের যৌথ সামরিক মহড়া, যেখানে উভয় দেশের নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড অংশগ্রহণ করে। এতে অংশ নেয় ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ড্রোন। এই মহড়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত স্কারবোরো শোল এলাকার কাছাকাছিও কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যেটি চীন এবং ফিলিপাইন উভয় দেশের দাবির কেন্দ্রবিন্দু। এই যৌথ মহড়া চীনকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে এককভাবে নয় বরং মিত্রদের নিয়ে সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে। ফিলিপাইন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া—এই চার দেশকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীন এই মহড়াকে ‘সীমান্ত লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিজের ভূখণ্ড ও জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো প্রকার বাহ্যিক চাপ আমাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে না।” বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর বর্তমানে একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ ইস্যু হিসেবে দেখলেও চীন বিষয়টিকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের অবমাননা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. লি ঝাও বলেন, “দুই পক্ষের সেনাবাহিনী যখন এত ঘন ঘন এবং এত কাছাকাছি এলাকায় কার্যক্রম চালায়, তখন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কোন পক্ষ ভুলক্রমেও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলটাই অস্থির হয়ে উঠতে পারে।” বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই উত্তেজনা শুধুই সামরিক নয়, বরং বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে। দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য হয়, ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে ইরান ও কাতার দুই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। যদিও তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কাতারের আমিরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমন দুঃখ প্রকাশ সাধারণত কূটনৈতিক মহলে খুব সচরাচর দেখা যায় না। তাহলে কী হয়েছিল? কী ঘটেছিল? ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইরানের একটি সামরিক ড্রোন ভুলবশত কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অনেক দেশের মতো কাতারের পক্ষেও উদ্বেগজনক ছিল। যদিও ড্রোনটি কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি এবং দ্রুত ইরানের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে, তবুও কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন একটি গুরুতর কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। প্রেসিডেন্টের দুঃখ প্রকাশ ঘটনার পরদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট একটি ফোনালাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন: “ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে অনিচ্ছাকৃত ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে ঘটেছে। ইরান কাতারের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ শ্রদ্ধা জানায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।” কাতারের প্রতিক্রিয়া কাতার ইরানের দুঃখ প্রকাশ গ্রহণ করলেও তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়— “আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন একটি গুরুতর বিষয়। যদিও বিষয়টি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান হয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।” এর রাজনৈতিক তাৎপর্য এই ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এর কূটনৈতিক প্রভাব গভীর। এর মাধ্যমে বোঝা যায়: ইরান এখন কূটনৈতিকভাবে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে চাচ্ছে, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। কাতার তার আঞ্চলিক গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করেছে—একটি ছোট দেশ হয়েও তারা তাদের সার্বভৌমত্বে আপসহীন। এটি মধ্যপ্রাচ্যের বড় দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসকেও সামনে এনেছে, যেখানে যেকোনো ছোট ঘটনা বড় উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। উপসংহার ইরানের প্রেসিডেন্টের কাতারের আমিরের কাছে দুঃখ প্রকাশ নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একদিকে যেমন ইরানের কূটনৈতিক পরিপক্বতার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণও তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এমন দায়িত্বশীল আচরণ আরও প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কেন তিনি এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে এখনও রহস্য কাটেনি। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মেঘমল্লার বসু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা স্থিতিশীল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই মর্মান্তিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়ে তার সহকর্মী বা সংগঠন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানানো হয়নি।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের আধিপত্যের অবসান হয়েছে। এতে জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হলেও এখন আলোচনার কেন্দ্রে—নতুন মন্ত্রিসভায় মানিকগঞ্জ থেকে কেউ স্থান পাবেন কি না। ২০০৮ সালের আগে মানিকগঞ্জে চারটি সংসদীয় আসন থাকলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর তা কমে তিনটি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেলার সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ওই সময়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও পরে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ায়। এর আগে বিএনপি সরকারের সময় মানিকগঞ্জ থেকে একাধিক মন্ত্রী ছিলেন। ফলে জেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেয়ে আসছে—যা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে। ২০০৮ সালের পর মানিকগঞ্জে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও নেতৃত্বে আসেন প্রয়াত হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খানম রিতা। তিনি জেলা বিএনপির দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি নানামুখী চাপের মুখেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি মানিকগঞ্জের তিনটি আসনেই জয়ী হয়। এর মাধ্যমে দলটি জেলার ঐতিহ্যগত ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানিকগঞ্জে দীর্ঘদিন মন্ত্রী থাকার একটি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে। বিএনপির একাংশ মনে করে, আফরোজা খানম রিতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা হবে ত্যাগের স্বীকৃতি। তবে মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। মানিকগঞ্জে বিএনপির নতুন যাত্রা শুরু হলেও এই অর্জন ধরে রাখা এবং উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব সেই প্রক্রিয়ায় কতটা ভূমিকা রাখবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, “আমি কোনো ধনী পরিবারে জন্ম নিইনি। আল্লাহর রহমতে আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই কৃষক-শ্রমিকদের সম্মান না করলে তা আমার বাবাকে অপমান করার শামিল।” রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাক দক্ষিণহাটি এলাকায় জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে সম্মান করা আমার ঈমানি দায়িত্ব। কৃষক-শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করে হালাল রুজি উপার্জন করেন। তাদের ঘামের গন্ধ আমার কাছে আতরের মতো। অনেক সময় দেখি কেউ কেউ গরিব মানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে গিয়ে হাত মুছে ফেলেন—আমি তা করি না; আমি সেই ঘামকে সম্মানের চোখে দেখি।” ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমি দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই—একদল নিষ্পাপ শিশু, যাদের কাছে গেলে ফেরেশতার সান্নিধ্যের অনুভূতি হয়; আরেকদল দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হালাল খাবার তুলে দেন।” স্মরণসভায় তিনি শাহ আলমের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমি যতদিন সংগঠনের দায়িত্বে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করব। ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারাও তা পালন করবেন বলে আশা রাখি।” ইটনার স্মরণসভা শেষে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নিকলীর ছাতিরচরের আব্দুস ছালামের পরিবারের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন। স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কাপাসিয়ার নবনির্বাচিত এমপি সালাউদ্দিন আইয়ুবী, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি শামছুল আলম সেলিম, ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ, জেলা অমুসলিম সেক্রেটারি কৃষ্ণচন্দ্র বণিকসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ওই জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন। এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সংসদে আসন পেতে সক্ষম হয়েছেন মাত্র ৯টি দল। এদের মধ্যে চারটি ইসলামি দল মোট ৭২টি আসনে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস রচনা করেছে—১৯৭৩ সালের পর প্রথমবার একাধিক ধর্মভিত্তিক দল সংসদে প্রবেশ করলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান সরকার গঠনের জন্য বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক তিনটি ছোট ইসলামি দলও সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ‘রিকশা’ প্রতীকে দুটি আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়ী, জামায়াতে ইসলামি ৬৮ আসন পায়, আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬ আসনে জয়লাভ করে। ইসলামি দলের বিজয় মধ্যম ও ছোট জেলা থেকে এসেছে, যেখানে নির্বাচিত প্রার্থীরা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও জোটের সমর্থন রেখেছেন। উল্লেখযোগ্য বিজয়গুলো: মাদারীপুর-১: মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস/জামায়াত জোট) ময়মনসিংহ-২: মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস/রিকশা) সিলেট-৫: মুফতি আবুল হাসান (খেলাফত মজলিস/দেয়ালঘড়ি) বরগুনা-১: মো. অলি উল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ/হাতপাখা) বাকি ইসলামি দলের প্রার্থীরা বেশ কয়েকটি আসনে শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিলেন। এই ফলাফলে স্পষ্ট যে, ইসলামি দলগুলো ২০২৪ সালের নির্বাচনে পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশ করবে।