নওগাঁর মহাদেবপুরে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ সেজে মহাসড়কে অটোরিকশা থামিয়ে ডাকাতির অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বগুড়া জেলার বড় রেললাইন হিন্দু পাড়ার মানিক চন্দ্রের ছেলে খোকন চন্দ্র (৩৩) এবং গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী থানার আমবাগ জয়ের টেক এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে শুভ (২৮)।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে গত শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে গাজীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মামলার বিবরণী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা থেকে মহাদেবপুরগামী ফাঁকা রাস্তায় একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অবস্থান নেয় একদল ডাকাত। তারা পুলিশের ‘রিফ্লেক্টিং ভেস্ট’ পোশাক পরিধান করে এবং লেজার লাইট ব্যবহার করে সিগন্যাল দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থামায়। এরপর অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রীকে প্রাইভেটকারে তুলে চোখ-মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। চক্রের অন্য সদস্যরা অটোরিকশাটি নিয়ে চম্পট দেয়।
পরবর্তীতে চালক ও যাত্রীকে গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে একপর্যায়ে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী এলাকায় ফেলে রেখে তাদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর মহাদেবপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ডাকাত দলের অন্যতম হোতা বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকার আজাদুলের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শাওনকে (স্বাধীন) প্রায় দেড় মাস আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সে ডাকাতির দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এপ্রিলের ওই ঘটনার পর মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ডিবি দল দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে গত ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর থেকে খোকন ও শুভকে গ্রেপ্তার করে।
এসপি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পুলিশ পরিচয়ে মহাদেবপুরের মহাসড়কে দস্যুতার ঘটনার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে আসামি খোকন চন্দ্র আজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।