ইতালির রাজধানী রোমে নোয়াখালীর এক প্রবাসী পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার পর পরিবারের বড় ছেলে আমির উদ্দিন অয়নকে (২০) হত্যার অপেক্ষায় ছিল ঘাতক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া আমিরের জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ সময় গত শনিবার (২৭ জুন) ভোরে রোমের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও (Via Montiglio) এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী কামাল হোসেন, তার স্ত্রী জাহানারা এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরাওয়া।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয়েছিল আমিরের। কিন্তু মা-বাবার কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খাটের নিচ থেকে ছোট বোন আরাওয়ার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখে তিনি সন্দেহ করেন। এরপর ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিক সেই সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা শাহাদাত হোসেন (৪৩) ধারালো চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। প্রাণপণ প্রতিরোধ ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ভবনের সামনে থেকে উদ্ধারকারীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মাথা ও পায়ে গভীর ক্ষত ছিল। চিকিৎসার সময় তিনি উদ্ধারকর্মীদের জানান, “সে আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে। বাসায় ফিরে আমি এই দৃশ্য দেখেছি।”
তদন্তকারীদের ধারণা, তিনজনকে হত্যার পর শাহাদাত কয়েক ঘণ্টা ধরে বাসার রক্তের দাগসহ বিভিন্ন আলামত মুছে ফেলে। পরে কামাল হোসেনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানে এবং জাহানারা ও আরাওয়ার মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এরপর আমির বাসায় ফিরলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করছিল বলে পুলিশের ধারণা।
আমির পুলিশকে আরও জানান, শাহাদাতের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার বাবা কামাল হোসেন তাকে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে শাহাদাতের সঙ্গে আমিরের তীব্র বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল।
এদিকে স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে শাহাদাত ও আমিরের মায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও ইতালীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
আমিরের জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রধান সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে ইতালীয় পুলিশ।
নিহত কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রোমে সপরিবারে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় কাসাল সেলস এলাকার একটি সুপারমার্কেটে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।