নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন, মুফতীয়ে আহলে সুন্নাত ও ‘সৈয়দপুরের গ্র্যান্ড মুফতী’ হিসেবে পরিচিত মরহুম মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.)-এর ১৩তম পবিত্র উরস শরীফ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দিনব্যাপী এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কোরআনখানি, বাদ জুমা নাত ও মিলাদ মাহফিল, চাদরপোশী, দোয়া মাহফিল এবং তবারক বিতরণ।
গোলাহাটে হুজুরের মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাত ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মরহুমের সাহেবজাদা মাওলানা সাবির হোসেন রিজভী।
মাহফিলে নাত ও বয়ান পেশ করেন মাওলানা মুরশিদুল নূরী রিজভী, মাওলানা মোমিনুল ইসলামী নূরী রিজভী, মাওলানা মারগুব আশরাফী, মুফতী খুরশিদ আলম নূরী রিজভী, মাওলানা কালিম মাদানী, মাওলানা আব্দুল জব্বার রিজভী, মাওলানা রিজওয়ান আত্তারী, খলিফা সৈয়্যদ আব্দুল্লাহ বখশীসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, হুজুরের ছাত্র এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.) ছিলেন এ অঞ্চলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম প্রধান অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তিনি আজীবন কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাসের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেছেন এবং অসংখ্য ওয়াজ-মাহফিল, দারস ও ইসলাহী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, তাঁর হাত ধরেই সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আহলে সুন্নাতের আদর্শ ও চিন্তাধারার ব্যাপক প্রসার ঘটে। মত-পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব।
উল্লেখ্য, মুফতী মুশতাক আহমেদ নূরী রিজভী (রহ.) ২০১৩ সালের ৩ মহররম ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজা সৈয়দপুরের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে পরিচিত।