শিরোনাম
সংরক্ষণের দাবি

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের দেড় শতাব্দীর পুরোনো টেলিগ্রাম অফিস

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সৈয়দপুরের দেড় শতাব্দীর পুরোনো টেলিগ্রাম অফিস

অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রায় দেড় শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক টেলিগ্রাম অফিস ভবন। একসময় উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাল রঙের এই স্থাপনাটি এখন পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কার না করা হলে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।

জানা যায়, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা প্রতিষ্ঠার সময় সৈয়দপুরে টেলিগ্রাম অফিসটি নির্মিত হয়। ব্রিটিশ আমলে রেলপথে বার্তা আদান-প্রদান এবং প্রশাসনিক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই ভবন। পরবর্তীতে এটি উত্তরবঙ্গ ও আসাম অঞ্চলের প্রধান ম্যানুয়াল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক একর ১০ শতক জমির ওপর নির্মিত ভবনটি চুন-সুরকি, পোড়ামাটির লাল ইট ও ভারী লোহার বিম দিয়ে তৈরি। খিলান আকৃতির দরজা-জানালা, বিশাল হলরুম, স্টাফ কোয়ার্টার এবং প্রাচীন টেলিকম টাওয়ার এখনও ব্রিটিশ স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই অফিস থেকে সামরিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ পরিচালিত হতো।

স্বাধীনতার পর ভবনটি বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ অ্যান্ড টেলিফোন বিভাগ, পরে টিএন্ডটি বোর্ড, বিটিটিবি এবং ২০০৮ সালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর অধীনে আসে। নব্বইয়ের দশকে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি সংযোজন করা হলেও পরে নতুন কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তরিত হওয়ায় ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের দেয়ালে বট ও অশ্বত্থ গাছ জন্মেছে, পলেস্তারা খসে পড়ছে, দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। মূল ভবনের পাশের কোয়ার্টারগুলোর কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এছাড়া রাতের আঁধারে ভবনের পুরোনো লোহার সামগ্রী ও মূল্যবান ইট চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেস হোসেন বলেন, ভবনটি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। দ্রুত সংরক্ষণ করা না হলে প্রভাবশালীদের দখল ও চুরির কারণে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

সৈয়দপুর সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক কামরুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়, এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। ভবনটি সংস্কার করে টেলিযোগাযোগ প্রদর্শনী কেন্দ্র বা তথ্যচিত্র জাদুঘরে রূপান্তর করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের যোগাযোগ ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং পর্যটন সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের নীলফামারী কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক রেজাউল হক বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। নতুন কার্যালয় থেকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম জানান, ঐতিহাসিক ভবনটি সংরক্ষণের বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভবনটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর