জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলন সফল বা ব্যর্থ নয়, বরং তা এখনো অসমাপ্ত। বৈষম্যহীন সমাজ, জবাবদিহিমূলক সরকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষ আবারও মাঠে নামবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর দর্শনা পল্লী নিবাসে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, দেশে এখনো আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রয়েছে। মানুষের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও সহিংসতা বেড়েছে। এমনকি পুলিশের সদস্যরাও নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রকাশ করছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলেও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তাদের সমঝোতা রয়েছে। বাইরে ভিন্ন অবস্থান দেখালেও ভেতরে তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে হয়রানি, হামলা ও সহিংসতার ঘটনা কমেনি। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে নিজেদের লোক বসানোর প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টির জনপ্রতিনিধিদেরও এভাবে দায়িত্বচ্যুত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে এবং এতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এছাড়া বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নেতা আজমল হোসেন লেবু, নুরে আলম যাদু মিয়া, এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য নেতারা।
আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।