সংসারের অভাব-অনটন আর মায়ের স্নেহহীন শৈশবও দমিয়ে রাখতে পারেনি নীলফামারীর ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ মো. রিফাত ইসলামকে (১১)। লেখাপড়ার পাশাপাশি অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতার রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। এখন তার লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা।
রিফাত কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কৃষক বাবার সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যেই বেড়ে ওঠা রিফাত চার বছর আগে মাকে হারিয়েছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে একজন। বিমাতার সংসারে থেকেও কখনো মনোবল হারায়নি সে।
ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে রংপুর বিভাগে ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার নজর কাড়ে রিফাত। নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
রিফাত বলে, “আমি আরও কঠোর অনুশীলন করছি। জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হতে চাই। আমার স্বপ্ন পূরণ হলে পরিবার, বিদ্যালয়, উপজেলা, জেলা ও বিভাগের সবার মুখে হাসি ফুটবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “রিফাত অত্যন্ত মেধাবী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একজন শিক্ষার্থী। তার মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আশাবাদী, সে জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করবে।”
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুল গনি ওসমানী বলেন, “রিফাতের খেলার ভঙ্গি ও গতি দেখে মনে হয়, ভবিষ্যতে সে দেশের দ্রুততম ক্রীড়াবিদদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।”
নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম জানান, ১০ জুন অনুষ্ঠিত বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় রিফাতসহ জেলার পাঁচজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ছয়জন বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যায়েও নীলফামারীর শিক্ষার্থীরা সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”
দারিদ্র্য, পারিবারিক প্রতিকূলতা আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রিফাতের এগিয়ে চলা প্রমাণ করে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে স্বপ্নের পথ কখনো থেমে থাকে না। জাতীয় পর্যায়ে সোনালি সাফল্য অর্জনের অপেক্ষায় এখন পুরো নীলফামারী।