জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাতজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের বাধার মুখে ছয়জন ভারতে ফিরে গেলেও এক বৃদ্ধ এখনো আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়ে রয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) ভোরে আন্তর্জাতিক ১০৮২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিএসএফ সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ছয়জন ফিরে যেতে সক্ষম হলেও এক বৃদ্ধ শূন্যরেখায় থেকে যান।
স্থানীয়দের দাবি, বৃদ্ধ ব্যক্তি টানা তিন দিন ধরে অনাহারে রয়েছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি যেদিকেই যাওয়ার চেষ্টা করছেন, সেদিক থেকেই তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তার জীবন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল বলেন, “লোকটি না পারছে ভারতে যেতে, না পারছে বাংলাদেশে আসতে। কয়েক দিন ধরে তিনি শূন্যরেখায় পড়ে আছেন। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করলেও তাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “বিএসএফ একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। আমরা তাকে গ্রহণ করিনি এবং ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। বর্তমানে তিনি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
এদিকে ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। শূন্যরেখায় আটকা পড়া বৃদ্ধের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তে তার অবস্থান এখন বকশীগঞ্জজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।