শিরোনাম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ

নরসিংদীতে ধর্ষিতার পরিচয় ও ভিডিও প্রচার: মামলা, গ্রেপ্তার ১

নরসিংদীতে ধর্ষিতার পরিচয় ও ভিডিও প্রচার: মামলা, গ্রেপ্তার ১

হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয় ও ভিডিও প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলার এজাহারে নাম না থাকা আরও একজনের ছবি ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত বলে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নরসিংদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মাধবদী থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মাহাবুব নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত মাহাবুব মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলানপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। অপর আসামি মোশাররফ মিয়া একই গ্রামের মোতালিব মেম্বারের ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেহেরপাড়া ইউনিয়নের চৈতাব এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ভুক্তভোগী কিশোরী। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোশাররফ তাকে কথা আছে বলে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মাহাবুব ও মোশাররফ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মোশাররফ পালিয়ে যান। তবে মাহাবুবকে আটক করে জনতা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, "ঘটনার পর অভিযুক্তরা তার মোবাইল ফোন রেখে টাকা দাবি করে। পরে তিনি বাড়ি থেকে দুই হাজার টাকা এনে দিলে মোবাইল ফেরত পান। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে দাবি করে কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।"

তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, "অভিযুক্ত মাহাবুব ও মোশাররফ এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।"

এদিকে, মামলায় নাম না থাকা আরও একজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাকে ঘটনাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার পরিবার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, "ভুক্তভোগীর ভিডিও জবানবন্দিতে দুইজনের নাম এসেছে। এ ঘটনায় তার পিতা দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক মোশাররফকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কেউ অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

উল্লেখ্য, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়ে দেশের উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর পরিচয় বা ভিডিও প্রচার এবং যাচাই ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর