শিরোনাম
দেবহাটায় র‌্যাবের অভিযানে ১,০৩৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ১
দেবহাটায় র‌্যাবের অভিযানে ১,০৩৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ১

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় র‌্যাবের অভিযানে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১ হাজার ৩৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় কবির হোসেন (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মাঝ সখিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ফেন্সিডিল উদ্ধার করে র‌্যাব-৬, সিপিসি-১, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সদস্যরা।

গ্রেপ্তার কবির হোসেন দেবহাটা উপজেলার মাঝ সখিপুর গ্রামের নওসের আলী সরদারের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাঝ সখিপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১ হাজার ৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ কবির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত ফেন্সিডিল ও তাকে দেবহাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।

ফকিরহাটে ৪ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে কথিত চাচা আটক
ফকিরহাটে ৪ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে কথিত চাচা আটক

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া মোজাহিদ শেখ (৪০) একই গ্রামের মৃত গাউস শেখের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে অভিযুক্তকে ফকিরহাট মডেল থানা থেকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি গণশিক্ষা বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই শিশুটিকে বিভিন্ন খাবার কিনে দিতেন এবং স্নেহ করতেন। শিশুটিও তাকে ‘চাচা’ বলে ডাকত।

গত ৩ জুন দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করানোর জন্য নিয়ে যান। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করে। শিশুটি তার মায়ের কাছে অসুস্থতার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের পিতা একজন দরিদ্র দিনমজুর। সে কাজের সন্ধানে বাইরে থাকায় ও মা ঘরের কাজ্যে ব্যস্ত থাকার সুবাদে অভিযুক্ত মোজাহিদ শেখ শিশুটিকে প্রায়ই ঘুরতে নিয়ে যেত। এর আগে শিশুটির কিছু কথাবার্তায় অভিযুক্তের বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। সর্বশেষ শিশুটির অসুস্থতার পর পরিবারের সদস্যরা ধর্ষনের বিষয়ে বুঝতে পারেন।

পরে বৃহস্পতিবার রাতে বৈলতলী গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী শিশুর পিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নরসিংদীতে ধর্ষিতার পরিচয় ও ভিডিও প্রচার: মামলা, গ্রেপ্তার ১
নরসিংদীতে ধর্ষিতার পরিচয় ও ভিডিও প্রচার: মামলা, গ্রেপ্তার ১

হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয় ও ভিডিও প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলার এজাহারে নাম না থাকা আরও একজনের ছবি ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত বলে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নরসিংদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মাধবদী থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মাহাবুব নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত মাহাবুব মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলানপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। অপর আসামি মোশাররফ মিয়া একই গ্রামের মোতালিব মেম্বারের ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেহেরপাড়া ইউনিয়নের চৈতাব এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ভুক্তভোগী কিশোরী। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোশাররফ তাকে কথা আছে বলে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মাহাবুব ও মোশাররফ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মোশাররফ পালিয়ে যান। তবে মাহাবুবকে আটক করে জনতা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, "ঘটনার পর অভিযুক্তরা তার মোবাইল ফোন রেখে টাকা দাবি করে। পরে তিনি বাড়ি থেকে দুই হাজার টাকা এনে দিলে মোবাইল ফেরত পান। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে দাবি করে কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।"

তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, "অভিযুক্ত মাহাবুব ও মোশাররফ এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।"

এদিকে, মামলায় নাম না থাকা আরও একজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাকে ঘটনাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার পরিবার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, "ভুক্তভোগীর ভিডিও জবানবন্দিতে দুইজনের নাম এসেছে। এ ঘটনায় তার পিতা দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক মোশাররফকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কেউ অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

উল্লেখ্য, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়ে দেশের উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর পরিচয় বা ভিডিও প্রচার এবং যাচাই ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি বিল্লালের
পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি বিল্লালের

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শিশু সানজিদা হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার ভোরে উপজেলার কালাকুমা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও শোক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সানজিদা পানিহাটা এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর সে নানির বাড়িতে বসবাস করছিল। গত ৭ মে বিকেলে সে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

পরদিন স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে শিশুটিকে শেষবার প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে দেখা গেছে। পরে সন্দেহের ভিত্তিতে পরিবারের লোকজন বিল্লালের বাড়িতে যান। অভিযোগ রয়েছে, তখন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে বিল্লাল শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং মরদেহ বাড়ির টয়লেটে রাখা আছে বলে জানায়।

এরপর স্থানীয়রা টিনশেড টয়লেট থেকে সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন পলাতক ছিল। পরে সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।