শিরোনাম
শিবপুরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধার মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ ২ ড্রাম ট্রাক ও ১ পে-লোডার
শিবপুরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধার মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ ২ ড্রাম ট্রাক ও ১ পে-লোডার

নরসিংদীর শিবপুরে জেলা প্রশাসনের এক বিশেষ অভিযানে মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ হওয়া দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মটর ওয়ার্কস’ গ্যারেজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুল।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া সরকারি যানবাহনগুলোর কোনো রেজিস্ট্রেশন বা নাম্বার প্লেট ছিল না। তবে মাধবদী পৌরসভার কর্মচারী বজলু, হাসান, কামাল, আল-আমিন ও শহীদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়িগুলো পৌরসভার সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে গ্যারেজ মালিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকৃত যানবাহনগুলো পুনরায় মাধবদী পৌরসভায় ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারেজ মালিক তাজুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কিছুদিন আগে মাধবদী পৌরসভার মোট চারটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার মেরামতের জন্য তাঁর গ্যারেজে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ড্রাম ট্রাক মেরামত শেষে ৫ আগস্টের আগেই তৎকালীন পৌর মেয়রের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে অবশিষ্ট দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজেই পড়ে ছিল।

তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না করা তাঁর একটি অনভিপ্রেত ত্রুটি ছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

মাধবদী পৌরসভা থেকে ২ কোটি টাকার ৫ সরকারি গাড়ি উধাও
মাধবদী পৌরসভা থেকে ২ কোটি টাকার ৫ সরকারি গাড়ি উধাও

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি গাড়ি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ যানবাহনের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত চারটি ড্রাম ট্রাক এবং রোগী পরিবহনের একমাত্র পৌর অ্যাম্বুলেন্স। একই সঙ্গে পৌরসভার ড্রাইভার কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে পৌরসভার গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, ২০২১ সালে কেনা সাতটি ড্রাম ট্রাকের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্যারেজে রয়েছে, তাও অকেজো অবস্থায়। বাকি চারটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও গ্যারেজে নেই।

পৌরসভার একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি ভগিরথপুর এলাকার মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তবে গ্যারেজ মালিক মনু জানান, ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি তার গ্যারেজে আনা হয়েছিল। কয়েকদিন পর সেটি সাহেপ্রতাপ এলাকার নুরুল ইসলামের গ্যারেজে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

অন্যদিকে, মেকানিক নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর তার গ্যারেজে মাধবদী পৌরসভার কোনো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য আনা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় চারটি ড্রাম ট্রাক বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ড্রাইভার কামাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পরও প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে গাড়ি মেরামতের বিল উত্তোলন করেছেন। একই সঙ্গে অন্য চালকদের পৌরসভার গাড়ি চালাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর গাড়িগুলো মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো কোথায় গেছে, তা আমি জানি না।”

এ বিষয়ে মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাব। আপনার কাছে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ বা ডকুমেন্ট থাকে, তাহলে আমাকে পাঠান।”

সরকারি সম্পদ নিখোঁজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ যানবাহন উদ্ধার, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি সম্পদের হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লার কাজ বন্ধ
শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লার কাজ বন্ধ

নরসিংদী পৌরসভার ফুটপাত দখলের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ফুটপাত দখলের সংবাদ প্রকাশের  পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লার নির্মাণস্থলের টিনের বেড়া অপসারণ করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পৌর প্রশাসক ও নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোছা. নাদিরা আখতার জানান, নরসিংদী পৌর এলাকার ডিসি রোডে স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে পৌরসভার গাইড ওয়াল ভেঙে এবং ফুটপাতের পাথরের টালি তুলে অবৈধভাবে দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাত ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় জরিমানাও  আদায় করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তাকে লিখিত ভাবে নোটিশও দেয়া হয়েছে।

দখলের পর বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ধরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। 

এর মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে বরাবরের মত মোল্লার কথিত পালিত পুত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে "এআই জেনারেটেড" বলে দাবি করে পোস্ট দেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ মানুষ বিষয়টি প্রশানের নজরে আনার চেষ্টা করেন।

এরপরই অভিযানে নামে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পৌর কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

পল্লীমঙ্গল মাল্টি ক্রেডিটের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক অভিযোগ
পল্লীমঙ্গল মাল্টি ক্রেডিটের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক অভিযোগ

নরসিংদীতে পল্লীমঙ্গল মাল্টি ক্রেডিটের বিরুদ্ধে ঋণের নামে হয়রানি ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঋণ পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই মাঠকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে চাপ, হুমকি-ধামকি ও অপমানজনক আচরণ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন নরসিংদীর আল-আমিন রহমানের বাড়িতে সমিতির কয়েকজন কর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় বাড়িতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে ধার-দেনা করে কিস্তির টাকা পরিশোধের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে ঋণ দিয়ে পরে কিস্তি আদায়ে কঠোর চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এতে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল পল্লীমঙ্গল মাল্টি ক্রেডিটের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রায়পুরায় ভি-ড্যাবের পল্লী চিকিৎসকদের মানোন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
রায়পুরায় ভি-ড্যাবের পল্লী চিকিৎসকদের মানোন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নরসিংদীর রায়পুরায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক এসোসিয়েশন (ভি-ড্যাব) রায়পুরা উপজেলা শাখার উদ্যোগে পল্লী চিকিৎসকদের মানোন্নয়ন বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাত ৮টায় রায়পুরা অডিটোরিয়াম হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।

ভি-ড্যাব নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি আহসান উদ্দিন আহমেদ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুবেল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শামীম, রায়পুরা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. রাসেল ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. স্বপন মিয়া ও অর্থ সম্পাদক মো. মোজাহিদুল ইসলাম মোগল প্রমুখ।

কর্মশালায় পল্লী চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সেবা, রোগ নির্ণয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

নরসিংদীতে ধর্ষিতার পরিচয় ও ভিডিও প্রচার: মামলা, গ্রেপ্তার ১
নরসিংদীতে ধর্ষিতার পরিচয় ও ভিডিও প্রচার: মামলা, গ্রেপ্তার ১

হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয় ও ভিডিও প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলার এজাহারে নাম না থাকা আরও একজনের ছবি ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত বলে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নরসিংদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মাধবদী থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মাহাবুব নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত মাহাবুব মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলানপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। অপর আসামি মোশাররফ মিয়া একই গ্রামের মোতালিব মেম্বারের ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেহেরপাড়া ইউনিয়নের চৈতাব এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ভুক্তভোগী কিশোরী। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোশাররফ তাকে কথা আছে বলে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মাহাবুব ও মোশাররফ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মোশাররফ পালিয়ে যান। তবে মাহাবুবকে আটক করে জনতা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, "ঘটনার পর অভিযুক্তরা তার মোবাইল ফোন রেখে টাকা দাবি করে। পরে তিনি বাড়ি থেকে দুই হাজার টাকা এনে দিলে মোবাইল ফেরত পান। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে দাবি করে কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।"

তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, "অভিযুক্ত মাহাবুব ও মোশাররফ এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।"

এদিকে, মামলায় নাম না থাকা আরও একজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাকে ঘটনাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার পরিবার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, "ভুক্তভোগীর ভিডিও জবানবন্দিতে দুইজনের নাম এসেছে। এ ঘটনায় তার পিতা দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক মোশাররফকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কেউ অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

উল্লেখ্য, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়ে দেশের উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর পরিচয় বা ভিডিও প্রচার এবং যাচাই ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

হত্যার ১২ দিন পরও গ্রেপ্তার নেই, বিচারের দাবিতে রাস্তায় পরিবার
হত্যার ১২ দিন পরও গ্রেপ্তার নেই, বিচারের দাবিতে রাস্তায় পরিবার

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাঁটুভাঙা এলাকায় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সি হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রায়পুরা-নরসিংদী আঞ্চলিক সড়কের হাঁটুভাঙা এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে নিহত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সির স্ত্রী লিজা আক্তার বলেন, “যারা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের চেহারা একবার দেখতে চাই। একজন নিরীহ মানুষকে দোকানের ভেতরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার চার মেয়েকে এতিম করে দিয়েছে। ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে ধরতে পারেনি। আমি দ্রুত বিচার চাই।”

নিহতের বড় মেয়ে বর্ষা আক্তার বলেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী। যারা আমাদের বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এ সময় বক্তব্য দেন নিহতের ভাই মোস্তফা মিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী কালা মিয়া, পলাশ সরকার, তোফাজ্জাল হোসেন মেম্বার, রাজিব আহমেদসহ আরও অনেকে। বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

জানা গেছে, গত ২৩ মে রাতে রায়পুরা উপজেলার হাঁটুভাঙা বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা রফিকুল ইসলাম মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি হাঁটুভাঙা এলাকার মৃত শাহারাজ খলিফার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে টাইলস ও নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), সিআইডি ও পিবিআই তদন্তে যুক্ত রয়েছে। আমরা আশাবাদী, শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”

রায়পুরায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতি ম্যুরাল ‘বাংলার ঈগল’ উদ্বোধন
রায়পুরায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতি ম্যুরাল ‘বাংলার ঈগল’ উদ্বোধন

নরসিংদীর রায়পুরায় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মরণে নির্মিত নান্দনিক স্মৃতি ম্যুরাল ‘বাংলার ঈগল’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মতিউরনগর (সাবেক রামনগর) এলাকায় নির্মিত এ ম্যুরালটির উদ্বোধন করেন বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ সম্পাদক ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার, রায়পুরা সার্কেল বায়েজিদ বিন মনসুর, রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল, রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা উপজেলার মতিউরনগর (সাবেক রামনগর) আঞ্চলিক সড়কের সম্মুখে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতি ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের ডান পাশে সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর ভূমিতে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরনগর স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়। এরপর এটির ক্ষতিপূরণের অর্থ উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক্সাভেটর দিয়ে ম্যুরালটি অপসারণের একটি ভিডিও তখনকার সময় নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহাসড়কের পাশেই আরও বড় পরিসরে আধুনিক ও নান্দনিক ডিজাইনে ‘বাংলার ঈগল’ নামে নতুন ম্যুরালটি নির্মাণ করা হয়। 
ভাস্কর্যটির ব্যাপারে শিল্পী অলি মাহমুদ জানায়, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ বাংলার ঈগলে ত্রিমুখী কালো ফ্রেমের ফলকের একটি স্তম্ভে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি, আরেকটিতে জীবনবৃত্তান্ত। অন্যটি খোলা আকাশের প্রতীক হিসেবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। মাঝে ত্রিভুজ আকৃতির স্তম্ভে টেরাকোটায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে উঠেছে। উপরের ঝুলন্ত কলামে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের প্রবেশ নির্দেশক ও অন্যটিতে ভাস্কর্যটির নাম বাংলার ঈগল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সর্ব উপরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ছিনতাই করা টি-৩৩ যুদ্ধ বিমানের হুবহু মডেল তুলে ধরা হয়েছে।

নরসিংদীতে ইত্যাদি'র শুটিং স্পট থেকে শতাধিক মুঠোফোন চুরি
নরসিংদীতে ইত্যাদি'র শুটিং স্পট থেকে শতাধিক মুঠোফোন চুরি

নরসিংদীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র শুটিং চলাকালে সাংবাদিকসহ শতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাই স্কুল মাঠসংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য পাস ব্যবস্থা থাকলেও প্রবেশপথে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাজারো দর্শকের চাপ ও ঠেলাঠেলির সুযোগে ভিড়ের মধ্যে সক্রিয় একটি চক্র একাধিক দর্শকের পকেট ও ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন চুরি করে নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার আসন থাকলেও পাসবিহীন আরও বহু মানুষ ভিড় করে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চুরির শিকারদের মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকও রয়েছেন। অন্তত ৭ জন সাংবাদিকসহ কয়েক ডজন দর্শকের ফোন হারানোর তথ্য পাওয়া গেছে। অনেকেই পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

একজন ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ভিড়ের মধ্যে প্রবেশের সময়ই মোবাইল হারিয়ে যায়। পরে আরও অনেকে একই অভিযোগ করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, ভিড়ের মধ্যে পকেটমার চক্র ঢুকে থাকতে পারে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ও প্রযুক্তিগতভাবে ফোন উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

 

চিকিৎসকের বদলে রোগী দেখছেন পিওন, বন্ধ পড়ে আছে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র
চিকিৎসকের বদলে রোগী দেখছেন পিওন, বন্ধ পড়ে আছে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র

জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। অথচ তার নিজ জেলা নরসিংদীর মনোহরদীতে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র ভয়াবহ। চিকিৎসকের অভাবে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখছেন অফিস সহায়ক (পিওন)। কোথাও তালা ঝুলছে, কোথাও বছরের পর বছর নেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের জন্য উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও রয়েছে ১০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে বাস্তবে এই কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই কার্যত অচল। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে মনোহরদীতে ১০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও নিজস্ব ভবন রয়েছে মাত্র তিনটির। দুটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম। বাকি পাঁচটির অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

সরেজমিনে গোতাশিয়া ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন অফিস সহায়ক মোশাররফ হোসেন। রোগীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে তিনি নিজেই ওষুধ দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করা এই পিওনের কাছ থেকেই বাধ্য হয়ে সেবা নিচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গোতাশিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ হাসান বর্তমানে শিবপুর উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওই কেন্দ্রে চিকিৎসক পদ কার্যত শূন্য।

একই চিত্র দেখা গেছে কাচিকাটা ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলছে। অন্যদিকে শুকুন্ধি ও লেবুতলা ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চালাচ্ছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরেই সেখানে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই।

উপজেলার বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ কেন্দ্রেই চিকিৎসক অনুপস্থিত। কোথাও জনবল সংকট, কোথাও দায়িত্বহীনতা, আবার কোথাও শুধুই কাগজে-কলমে পদায়ন।

এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান মাহমুদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে জনবল সংকট ও নানা প্রশাসনিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একইভাবে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবীরও ক্যামেরায় বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক না থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা নিয়মিত উত্তোলন হচ্ছে। এতে করে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধ করে প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে হাজারো প্রান্তিক মানুষ।

নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকায় কম লিচু দেওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকায় কম লিচু দেওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকায় ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দুই ফল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে দুটি ফলের দোকান থেকে লিচু কেনেন। এ সময় ফোর্স ও গাড়ি কিছুটা দূরে রাখা হয়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, উভয় দোকানেই প্রতিশ্রুত সংখ্যার চেয়ে কম লিচু দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় দুই দোকান মালিককে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয় এবং তাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

তিন সন্তান অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা, উদ্ধারের নির্দেশ
তিন সন্তান অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা, উদ্ধারের নির্দেশ

বরিশালের খানপুরা উপজেলার রাজগুরু গ্রামের  হাওলাদার বাড়ির মেয়ে সীমা বেগমের জীবন যেন একের পর এক নির্যাতন আর বঞ্চনার গল্প। ২০১৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরে নরসিংদীর মাধবদীর নরেসুশ্বরদি গ্রামের রমজান মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০১৬ সালে তাদের প্রথম সন্তান রোহানের জন্মের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় অশান্তি।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামী রমজান মিয়া শাহিদা নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে অন্তঃসত্ত্বা সীমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে সতীন শাহিদাকে নিজেই ঘরে তুলে নেন সীমা। পরে ২০২১ সালে কন্যা সন্তান তানহা এবং ২০২৩ সালে তৃতীয় সন্তান মোহাম্মদ ইসলামের জন্ম হয়।
সীমার অভিযোগ, তৃতীয় সন্তান জন্মের পর রমজান শিবপুর উপজেলার লামপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে ও তরুয়া নগর হাসপাতালের নার্স নাসরিনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে গিয়ে সীমা ও তার সন্তানদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন, যদিও দ্বিতীয় স্ত্রীর খরচ চালিয়ে যেতে থাকেন।
এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে গত জানুয়ারিতে সীমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে সন্ত্রাসী পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। গভীর রাতে তিন ব্যক্তি দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে প্রথমে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং পরে চাপাতি দিয়ে পায়ে কোপ দেয়। একপর্যায়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ছেলে রোহানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সীমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণনাশের আশঙ্কা ও আর্থিক সংকটের কারণে তিন সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নেন সীমা।
এরই মধ্যে গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি সীমার বাসায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে তার তিন সন্তানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও সামাজিকভাবে নানা চেষ্টা করেও সন্তানদের উদ্ধার করতে না পেরে গত ১৮ মে নরসিংদীর আদালতে নাসরিন, সাইফুল, সাব মিয়া ও গুলজার হোসেনকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করেন সীমা বেগম।
আদালত শিবপুর মডেল থানাকে দ্রুত তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে শিশুদের উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >

কিশোরগঞ্জকে হারিয়ে বিভাগীয় ফাইনালে নরসিংদী নতুন কুঁড়ি ফুটবল দল
কিশোরগঞ্জকে হারিয়ে বিভাগীয় ফাইনালে নরসিংদী নতুন কুঁড়ি ফুটবল দল

দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ময়মনসিংহ জেলা ফুটবল দলকে হারিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের ফাইনালে উঠেছে নরসিংদী জেলা নতুন কুঁড়ি ফুটবল দল।

রোমাঞ্চকর এ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরসিংদীর খেলোয়াড়রা। মাঝমাঠের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণে চাপে ফেলে কিশোরগঞ্জকে। নির্ধারিত সময়ের খেলায় দারুণ সমন্বিত পারফরম্যান্সে জয় নিশ্চিত করে নরসিংদী।

দলের কোচ ও কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রক্ষণভাগ ও ফরোয়ার্ডদের সমন্বিত খেলায় মুগ্ধ দর্শকরা।

এই জয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে শিরোপার লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল নরসিংদী জেলা নতুন কুঁড়ি ফুটবল দল। ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে জেলার ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

পলাশে জিডির পরও উপসচিবের বাড়িতে হামলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
পলাশে জিডির পরও উপসচিবের বাড়িতে হামলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

নরসিংদীর পলাশে  জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালে কর্মরত এক উপসচিবের বাড়িতে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

মোবাইলে হুমকি পেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই উপসচিব পূর্বে থানায় লিখিতভাবে নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেন। কিন্তু জিডির পরও হামলার ঘটনা ঘটায় স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, বিষয়টি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

তবে জিডির পরও হামলা ঠেকাতে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি তার কাছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, জিডি করার পরও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরসিংদীর রাজনীতিতে মোকাররম হোসেন ভুঁইয়ার অপূরণীয় শূন্যতা
নরসিংদীর রাজনীতিতে মোকাররম হোসেন ভুঁইয়ার অপূরণীয় শূন্যতা

নরসিংদী জেলা বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোকাররম হোসেন ভুইয়ার অকাল প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং পুরো নরসিংদীবাসী হারালো এক সম্ভাবনাময়, প্রাণবন্ত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে।
রাজনীতির মাঠে মোকাররম হোসেন ভুঁইয়া ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। হাসিমাখা মুখে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি ছিলেন ভদ্র, সৌজন্যপরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ।
দলের দুঃসময়ে তিনি ছিলেন সাহসী ও সক্রিয় সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।


শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভারতে চিকিৎসা নিতে হলেও সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আবারও রাজপথে সক্রিয় হন তিনি। অসুস্থতাকে জয় করে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতারই প্রমাণ বহন করে। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে তাঁকে বীরের মতো নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।
সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খাইরুল কবির খোকনের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান মোকাররম হোসেন ভুঁইয়া। দিন-রাত পরিশ্রম করে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাওয়া এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তাঁর মৃত্যুতে নরসিংদীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। একজন সংগ্রামী, মানবিক ও কর্মীবান্ধব নেতাকে হারিয়ে শোকাহত পুরো জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মোকাররম হোসেন ভুইয়ার রাজনৈতিক আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে নরসিংদীবাসী।