নীলফামারীতে মৌসুমের শুরুতেই দাম নেই বোরো ধানের, তবে কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে বোরো ধান মাড়াই ও খর সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন কৃষক।
এ বছর আগাম বৃষ্টির কারণে বোরো ধান সংগ্রহ হিমশিম খেয়েছিল কৃষক। গত এক সপ্তাহ ধরে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে প্রকৃতি। চারদিক ঝলমল করছে রোদ। এই মৌসুমে এমন কাঠফাটা রোদেই দরকার কৃষককুলের। ধান সংগ্রহ, মাড়াই, বাছাই ও প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার জন্য তীব্র রোদের বিকল্প নেই। এ কারণেই কৃষকরা কোমর বেঁধে নেমেছে বোরো ধান মাড়াইয়ের কাজে। গবাদীপশুর খাদ্যের প্রধান উৎস হল বোরো ধানের খড়। এতে করে কৃষকরা একই সাথে গরুর অন্যতম খাবার শুকনো খড় উঠোনজাত করতে পারছেন।

মৌসুমের শুরুতে বোরো ধানের দাম মাত্র ৫২০ টাকা(২৮ কেজি)। এতে প্রান্তিক চাষীরা পড়েছে বিপাকে। হাত খরচ ও ধারের টাকা শোধ করতে অনেক প্রান্তিক চাষী স্বল্প মূল্যে ধান বিক্রি করছেন। ঝলমলে রোদকে কাজে লাগিয়ে মাঝারি ও বড় ধরনের কৃষকরা বোরো ধান মাড়াই করে গোলা ভর্তি করছেন। ভাল দাম পেলে তারা তাদের মজুদ করা ধান বিক্রি করবেন বলে অনেকেই জানান। নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের মানুষগড়া গ্রামের মোশফিকুর রহমান জানান, ১ বিঘা(৩০ শতক) জমি চাষাবাদ করতে প্রায় সতেরো হাজার টাকা খরচ পরে। অতিবৃষ্টির কারণে বোরো খেতে নেক ব্লাস্ট সহ নানা ধরনের বালাইয়ে ফলন কমে যায় ধানের। এতে করে আসল টাকা বোরো চাষাবাদ থেকে উঠবে না আশঙ্কা করছেন কেউ। এদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুড়াকুটি গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান জানান, এবারে সেচের খরচ কম পরলেও; শ্রমিক মজুরি অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশি। গতবার মওসুমের শুরুতে বোরো ধানের দাম ১০০ টাকা বেশি ছিল।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ৩৮.০৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানান। যা এ বছর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে তিনি জানান।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মঞ্জুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৮১ হাজার ৮ শত ৫৯ হেক্টর বোরো ধান লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কৃষক ভাইয়েরা ধৈর্য ধরে উঠতি মূল্যে ধান বিক্রি করলে লাভবান হবেন বলে জানান।