যশোরে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন জুলাই যোদ্ধা এনাম সিদ্দিকী।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার এনায়েতপুরে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি এনামের ওপর হামলা চালিয়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করেন। হামলার আগে তারা তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় এনামকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এনাম সিদ্দিকী ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, তার বুকে, ঘাড়ে ও বাহুতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং বর্তমানে তাকে সার্জারি বিভাগে রাখা হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনজারুল হক খোকন অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহম্মদ বলেন, তারা ঘটনার খবর পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। সম্পদের বড় অংশই অস্থাবর সম্পত্তি, যেখানে শেয়ার, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। ৬৪ বছর বয়সী আফরোজা খানম রিতা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত চিত্র হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, আফরোজা খানম রিতার বার্ষিক মোট আয় ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আসে চাকরি থেকে। মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বছরে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বেতন গ্রহণ করেন। এ ছাড়া কৃষিখাত থেকে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ আয় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও অন্যান্য আমানত থেকে আয় ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তিতে শেয়ারের আধিপত্য অস্থাবর সম্পত্তির হিসাবে তাঁর নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৯ টাকা। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪১ লাখ ৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। সবচেয়ে বড় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা শেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৮ টাকা। এ ছাড়া স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৮৫১ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর একটি ব্যক্তিগত গাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ৭৮ লাখ টাকা। তাঁর কাছে রয়েছে ১৬৪ ভরি স্বর্ণালংকার। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৮ টাকা। উল্লেখযোগ্য স্থাবর সম্পত্তি মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর বড় মেয়ে আফরোজা খানম রিতার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে কৃষিজমি রয়েছে ১৭ শতাংশ এবং অকৃষিজমি রয়েছে ৬২৭ শতাংশ। এ ছাড়া রাজধানীর গুলশান ও মগবাজার এলাকায় তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। কর পরিশোধের তথ্য কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আফরোজা খানম রিতা নিজে আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৯ টাকা। তাঁর স্বামী একই অর্থবছরে কর দিয়েছেন ৮ লাখ ২৪ হাজার ১২২ টাকা। এ ছাড়া তাঁদের তিন সন্তান যথাক্রমে ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা, ১৫ লাখ ১৯ হাজার ১৬৪ টাকা এবং ২২ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। ফলে ওই অর্থবছরে তাঁদের পরিবারের মোট কর পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৫ টাকা। মোট সম্পদের হিসাব হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আফরোজা খানম রিতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ কোটি ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৮ টাকা।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তিন শতাধিক অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ধামোর ইউনিয়নের পুরাতন আটোয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রধান অতিথি লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি জনকল্যাণমূলক কাজেও নিয়োজিত। ২৩০ বছরের ঐতিহ্যসম্পন্ন এই বাহিনী বিভিন্ন দূর্যোগময় মুহূর্তে জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। উপঅধিনায়ক মেজর রিয়াদ মোর্শেদ ও বিজিবির অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। লে. কর্নেল কায়েস জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তিন দিনে ভোটার ও শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছেন। ফুয়াদ বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে জানান, প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়সীমা এই আসনে ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা হলেও দেশ-বিদেশের সমর্থকদের উদ্দীপনায় তিনি তিন দিনের মধ্যে তা অতিক্রম করেছেন। তিনি বলেন, বিকাশে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, নগদে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা প্রাপ্ত হয়েছে। প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনুদান সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র স্বচ্ছতার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত অনুদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার নির্বাচনি আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। ফুয়াদ নির্বাচনের খরচ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।