স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৭ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার-ভিডিপি ও স্থানীয় প্রশাসনের হাজার হাজার সদস্য। ৩০০ আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবে, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও র্যাব হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে। ভোটের চার দিন আগে ও দুই দিন পর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালানো হবে, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা থাকবে।
ভোটের আগে ও দিনে মোটরসাইকেল, ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে এবং লাইসেন্সধারীদের জন্য অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তফশিল ঘোষণার পর বাস্তব পরিস্থিতি এবং নির্বাচনি সহিংসতার পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গৃহীত।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ২০০৬ সালে চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল হওয়া পুলিশের প্রায় সাড়ে ৬০০ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও সার্জেন্টকে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং তারা অবশ্যই চাকরি ফিরে পাবেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। তবে কী কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। মন্ত্রণালয় আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ইতোমধ্যে প্রেরণ করেছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ে এসব পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনে বাধা বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, এ অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকার পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় তিনজন সংসদ সদস্যের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। আলোচনায় এগিয়ে আছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর নেতৃত্বে রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী হিসেবে সক্রিয়। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং নোয়াখালী-1 আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ও সাংবিধানিক রীতিনীতি অনুসরণ করেই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দেশের জলসীমার নিরাপত্তা, সমুদ্রসম্পদ রক্ষা, নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকীকরণসহ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর পেশাদারি মনোভাব, দেশপ্রেম ও সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, দেশের জলসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বদা প্রস্তুত, শান্তি ও সংগ্রামে সমুদ্রে অপ্রতিরোধ্য।