ওয়াশিংটন–কারাকাস উত্তেজনার মধ্যে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পদক্ষেপ ও ভিডিও প্রকাশ।
হোয়াইট হাউসের সরকারি ‘র্যাপিড রেসপন্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যা ‘পার্প ওয়াক’—অর্থাৎ অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ভিডিওতে কালো হুডি পরা মাদুরোকে একটি করিডোর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়, যেখানে নীল কার্পেটে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিইএর নিউইয়র্ক শাখার নাম লেখা ছিল। ভিডিওটির শিরোনামে লেখা হয়, ‘পার্প ওয়াক সম্পন্ন হয়েছে’। এ সময় মাদুরোকে সেখানে উপস্থিত একজনকে ‘শুভ নববর্ষ’ জানাতেও দেখা যায়। সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের খবর সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য উভয়ই রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তার প্রাথমিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে কাতিয়া লা মার এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে যুদ্ধবিমান হামলা চালানো হয়। এতে ৮০ বছর বয়সী রোজা গঞ্জালেজসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। হামলায় উইলম্যান গঞ্জালেস নামে এক ব্যক্তি আহত হন এবং তাঁর বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরেক প্রতিবেশী ৭০ বছর বয়সী জর্জ জানান, এই হামলায় তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, মাদুরোকে আটক করার উদ্দেশ্যে চালানো অভিযানে কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। যাচাই করা ভিডিও অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে লা কারলোতা বিমানঘাঁটি, ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক স্থাপনা, পোর্ত লা গুয়েরা বন্দর, হিগুয়েরোতে বিমানবন্দর এবং মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যের এল ভলকান টেলিকম টাওয়ার।
এই ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলা সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
এসপিপিএ, জেআর জয়েন্ট, বেসটিনেট এবং সিনেরফ্লাক্স নামে চারটি কোম্পানির মালিক আমিন। মালয়েশিয়ায়র নাগরিকত্ব কেনার পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানির নাম ব্যাবহার করে বাংলাদেশ থেকে মানুষ নেয়ার ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি। জানাগেছে, বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়ার নাগরিক হতে পারেন না। তবে পূর্বের সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের প্রচুর ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশি আমিন মালয়েশিয়ান পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট নিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় আদম ব্যবসা করে রীতিমত রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি আমিনুর রহমান স্বদেশিদের নিয়ে করেন জমজমাট ব্যবসা। শুধু মালয়েশিায় মানুষ নেয়া নয় বরং দেশে অবৈধ মানুষকে ফেরত পাঠাতেও টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাতে প্রতিজনের কাছ থেকে হাজার রিঙ্গিত (২২ হাজার টাকা) পর্যন্ত ব্যবসা করেন আমিনুর রহমান এবং তার বেসটিনেট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটিকে “সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার” হুমকি দিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) তিনি এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি না হলে ইরান ব্যাপক হামলার মুখোমুখি হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরান তছনছ হয়ে গেছে, প্রতিদিন তাদের সবকিছু পুনর্নির্মাণ করতে হবে—বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, সব কিছু। এর আগে কোনো দেশ এমন ক্ষতির মুখোমুখি হয়নি।” তিনি সময়সীমাও কিছুকাল থেকে “কয়েক দিনের মধ্যে” পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছেন, প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে সর্তক অবস্থা মেনে চলতে হবে, নাহলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হবে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইরান দাবি করছে, নিখোঁজ মার্কিন সেনা উদ্ধারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি ফার্স নিউজ জানায়, ধ্বংস হওয়া বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীর ‘সি-১৩০’ পরিবহন বিমান ছিল। ইরানের পুলিশ বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ফারাজ রেঞ্জার্স অভিযান পরিচালনা করে বিমানটি ধ্বংস করেছে বলে খবরে বলা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পবিত্র মাতৃভূমি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি তখন এলাকার “আক্রমণকারী শক্তিকে” জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিযুক্ত ছিল। ইরান এটিকে অনুপ্রবেশকারী বিদেশি বাহিনীর সহায়তা হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজ মার্কিন সেনা উদ্ধারের এই অভিযান ও ভূপাতিত দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।