ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য টাঙ্গাইলের আটটি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ও শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুই দিনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ৬৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি, আয়-ব্যয়ের সঠিক কাগজপত্র জমা না দেওয়া, সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং অবসর পরবর্তী নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়া প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনে নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদের মনোনয়ন বাতিল হয়। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার হোসেন সাগরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা ও ডা. শাহ আলম তালুকদারের মনোনয়ন বাতিল হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) চারটি আসনে আরও ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে পাঁচজন, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলমুয়ার) আসনে পাঁচজন, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে তিনজন এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করা হবে। তিনি বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিলের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মহান শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই স্থান ত্যাগ করেন। ঘটনার পর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার সমর্থকরা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সমর্থকদের দাবি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং সংসদ সদস্যকে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা দেয়। তারা অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে নিজ গ্রাম শাহবাজপুরে সাংবাদিকদের কাছে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, তার ওপর পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পঞ্চগড় শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ইফতার সামগ্রীর দোকানে তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানার নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন ইফতার বিক্রয়কেন্দ্র, ফলের দোকান ও মুদি দোকানে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জয় চন্দ্র রায়, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসাদুন্নবী, পঞ্চগড় পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় খাদ্য বিক্রেতাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও হেয়ার ক্যাপ বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানো, নোংরা তেল ব্যবহার বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কিশোরগঞ্জে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গোলাম মোস্তফা (৬০) নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম মোস্তফা সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানা মসজিদের পেশ ইমাম ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফজরের নামাজ আদায় শেষে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার সময় জজ কোর্টের সামনে সড়কে রাখা নির্মাণাধীন বালুর স্তূপে ধাক্কা লাগে। এতে ইমাম ও চালক সড়কে ছিটকে পড়ে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমামকে মৃত ঘোষণা করেন। অটোরিকশাচালক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের ছেলে অভিযোগ করেন, ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য সড়কে বালু ফেলে আংশিকভাবে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে অটোরিকশাটি বালুর স্তূপে ধাক্কা দেয়। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পড়ে গিয়ে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।