ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ নতুন রাষ্ট্রনীতির রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র এবং জ্বালানি সম্পদের কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
মাচাদো দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়েছে এবং এটি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় আঞ্চলিক অপরাধচক্র দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে, একই সঙ্গে বাজার উন্মুক্তকরণ ও বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো ভেনেজুয়েলাবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট অর্জনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা মাচাদো অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের কাছে সামরিক সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, যদি কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানিকৃত সমস্ত পণ্যের ওপর সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, তবে তেহরানের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেছিলেন, এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম বা ছাড় দেওয়া হবে না এবং এটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মন্তব্য করেছেন, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতের শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। টাইমস অব ইসরায়েলের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে এবং তারা দীর্ঘ সংঘাতের ক্লান্ত। ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যানজট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা প্রদান করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর সম্পূর্ণ ও নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রণালীটি খুলে দেবে। এই শর্তসাপেক্ষ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রাতভর কমতে শুরু করেছে।
আঞ্চলিক সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে আপাত শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ইরানও তাদের সামরিক অবস্থানে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ থাকলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরোধমূলক অভিযান স্থগিত রাখবে। এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে তেহরান। আগামী দুই সপ্তাহ প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা মেনে চলার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা ইসরায়েলও মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।