ভারতের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সাবেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব বা ‘অবিচুয়ারি রেফারেন্স’ উভয় কক্ষে আনা হবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজ্যসভা ও লোকসভা—উভয়েই এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, খবর এএনআই। খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রয়াণের পর আন্তর্জাতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। ভারতের পার্লামেন্ট এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ববহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। রাজ্যসভা ও লোকসভার যৌথ অধিবেশনের পর নিজ নিজ কক্ষের কার্যতালিকা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন এমপি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব অনুমোদন করা হবে। অধিবেশন আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আলাদা ব্যালটে ভোটাররা চারটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের ভিত্তিতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে আগামী সংসদ বাধ্য থাকবে। এর মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক এবং ৩৭টি আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। আর ‘না’ জয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে না। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকলেও পরে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক ভিডিও বার্তায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভাষা, জাতীয় পরিচয় ও মৌলিক নীতি জুলাই সনদ অনুযায়ী বাংলা রাষ্ট্রভাষা থাকলেও অন্যান্য মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হবে। নাগরিকদের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে যুক্ত হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি। মৌলিক অধিকারের তালিকায় যুক্ত হবে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার অধিকার। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা জরুরি অবস্থা জারিতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যাবে না। রাষ্ট্রপতি গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হবেন এবং একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই ভূমিকা রাখতে পারবেন। এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার প্রস্তাব রয়েছে। উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবেন, যারা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন। নারীদের সংরক্ষিত আসন বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাবও রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগ প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগের বিধান, বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া এবং ন্যায়পালসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে বহুপক্ষীয় কমিটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। গণভোটের ব্যালটে এসব বিস্তারিত বিষয় উল্লেখ থাকবে না। সেখানে কেবল চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ভিত্তিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল ফোর্সের সঙ্গে চিকিৎসা খাতে অংশীদারিত্ব জোরদার করেছে। ঢাকায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মার্কিন দূতাবাস জানায়, আর্মি প্যাসিফিকের ১৮তম থিয়েটার মেডিকেল কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল ই. ড্যারিন কক্স ১৮–২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সফর করেন। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি মেডিকেল ফোর্সের সঙ্গে সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগের ভিত্তি স্থাপন। সফরে মেজর জেনারেল কক্স ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন এবং সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাস ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) পরিদর্শন করেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় বলেন, এই সম্পৃক্ততা সামরিক স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা উন্নয়ন এবং অংশীদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও কৌশলগত প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করে। সফরের মাধ্যমে যৌথ মহড়া, বিশেষজ্ঞ বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশীদারিত্বের নতুন পথ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক চিকিৎসা খাতে সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনায় কিছু বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবার সাধারণ নির্বাচন, রেফারেন্ডাম ও পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে পরিচালনা হওয়ার কারণে গণনায় স্বাভাবিক কিছু দেরি হতে পারে। তিনি গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো ঘটনা নিয়ে গুজব ছড়ানো এড়াতে সাধারণ জনগণকে আগেভাগে তথ্য দেওয়া জরুরি। প্রেস সচিব আরও জানান, নতুন নির্বাচনী পদক্ষেপগুলো সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করতে কিছু সময় লাগতে পারে। তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালট পেপার মুদ্রণ কাজ বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের জটিলতা সমাধান হওয়ায় সমস্ত আসনে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
সাবেক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে সরকারি অনুদানের মাধ্যমে দুই কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের জানান, পরিবারকে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারকে জীবনযাপন খরচের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আরও এক কোটি টাকা প্রদান করা হবে। ফ্ল্যাটটি রাজধানীর লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’-এ অবস্থিত, আকার ১,২১৫ বর্গফুট, এবং এটি হাদির স্ত্রী ও সন্তান ব্যবহার করবেন। অনুদান অনুমোদনের শর্ত হিসেবে পরিবারকে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। অর্থ বিভাগের সূত্র জানায়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ফ্ল্যাটের জন্য অনুদানের আবেদন করেছিল এবং তার ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন পল্টন এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। এরপর ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সরকারী অনুদান এখন হাদির পরিবারকে স্থিতিশীল জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের নতুন চারটি থানা স্থাপনের প্রস্তাবসহ মোট ১১টি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সভায় ছয়জন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব এবং সরকারের আরও ১৪ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে।
স্পাইনাল কর্ডের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশ গমনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। শুনানিকালে মোয়াজ্জেম হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্র জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবমুক্ত করে এক মাসের জন্য বিদেশ গমনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তিনি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত নন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করা হয়। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল ভিসা ইনভাইটেশন লেটার ও আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির চিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ মে একই আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের সামনে দ্বিতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে নাছির উদ্দীন বলেন, একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আসিফ মাহমুদ নির্বাচন কমিশনে এসে হুমকিসূচক আচরণ করছেন, যা একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ছাত্রদল নেতা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, কমিশন অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করলেও ব্যালট কীভাবে বাসাবাড়িতে পৌঁছেছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তিনি ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির সাদৃশ্য টেনে বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে উপাচার্যের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন নাছির উদ্দীন নাছির। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠি গোপন রেখে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে অবহিত করা হয়েছে এবং অনিয়মের মধ্য দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে ‘মব’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘মব’ শব্দটি প্রয়োগের মাধ্যমে গণ–অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মানসিকতা কাজ করতে পারে, তাই এ শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সংলাপে তিনি বলেন, গণভবনের পতনের আন্দোলন এবং বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক সহিংসতাকে এক কাতারে বিচার করা আইনসম্মত নয়। বিপ্লবের অর্জনের সঙ্গে ‘মব’ শব্দ জুড়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের দায়ী করার প্রবণতা সংযত হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি। তবে তাজুল ইসলামের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন একাধিক বক্তা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ একে ‘হুমকিস্বরূপ’ মন্তব্য হিসেবে দেখেন। তাঁদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মব সহিংসতার কোনো যুক্তিকরণ গ্রহণযোগ্য নয়। সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মব সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়, ‘মব’ সহিংসতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পার্থক্য নির্ধারণে রাষ্ট্র ও সমাজকে আইনগতভাবে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রত্নস্থল ও বাগেরহাট জাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ই-টিকিটিং ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগকে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ই-টিকিটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, ষাটগম্বুজ প্রত্নস্থলের কাস্টোডিয়ান মো. জাহেদসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্বোধনী বক্তব্যে ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব বলেন, “ডিজিটাল সেবার বিস্তারের অংশ হিসেবে প্রত্নস্থল ও জাদুঘরে ই-টিকিটিং চালু করা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ভোগান্তি কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং সার্বিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই ব্যবস্থা টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।” নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ষাটগম্বুজ প্রত্নস্থল ও বাগেরহাট জাদুঘর ভ্রমণ হবে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ই-টিকিটিং চালুর ফলে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রথম চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিনকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর দুদক প্রধান কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনুসন্ধানটি সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগের অংশ। দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান তদন্তের জন্য বুশরা আফরিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার ও পরিবারের সম্পদ, বিদেশ ভ্রমণ ও সরকারের অর্থ ব্যবহারে কোনো অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা জানা হয়েছে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে এবং তার স্ত্রী ও কন্যার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দুদক অভিযোগ অনুসারে, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মশার লার্ভা নিধনের ওষুধ ক্রয়সহ সরকারি তহবিল অপচয় ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনায় অবস্থিত প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের এজেন্ডা ও আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
দুয়ারে কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। সংসদ সদস্য হতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী। এর মধ্যে মোট এক হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। যার মধ্যে ৫০১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। বিএনপির কোটিপতি প্রার্থী ২১২ জন। জামায়াতে ইসলামী থেকে ৬৪ জন কোটিপতি প্রার্থী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫, জাতীয় পার্টির ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১২, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) পাঁচজন করে এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের চারজন প্রার্থী কোটিপতি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ৫৮ জন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ৭১ জন প্রার্থী কোটিপতি। প্রার্থীদের শির ভাগই চালচলনে বিলাসী ও বিত্তবান। চলাফেরা করেন দামি গাড়িতে। এবারও হলফনামায় দেওয়া অনেক প্রার্থীর বার্ষিক আয় বা সম্পদের বিবরণ বাস্তবসম্মত কিনা, এমন প্রশ্ন সামনে আসছে। প্রার্থীদের হলফনামায় থাকা তথ্য নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে যাচাই করে না, অতীতে এমন অভিযোগ থাকলেও এবার এখান থেকে বেরিয়ে আসার কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু হলফনামায় দেওয়া তথ্যের যথার্থতা এবং এর যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে অতীতের মতোই প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের অনেকে। তারা বলছেন, বাৎসরিক আয়-ব্যয় এবং সম্পদের যে হিসেব প্রার্থীরা দেন তার বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ। হলফনামা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবলই যেন আনুষ্ঠানিকতা। এর মধ্য দিয়ে সঠিক তথ্য উঠে আসেনা। যদিও নির্বাচন আইন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কেউ যদি ভুল তথ্য দেয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি। তিনি বলছেন, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওতে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া হলে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। এছাড়া নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, হলফনামায় দেওয়া তথ্য মিথ্যা বা ভুল প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী জেল জরিমানার বিধান রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টু। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদমূল্য ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ১৭১ টাকা। স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সম্পদ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি চার লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, বিএনপিতে রয়েছেন সর্বোচ্চ কোটিপতি প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে এ রকম শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, যার সম্পদের পরিমাণ ৩৬৫ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৬ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান, যার সম্পদ ২৬৫ কোটি ৩ লাখ ২ হাজার ৯৫৭ টাকা। চতুর্থ স্থানে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের, যার সম্পদ ২০৪ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার ৪৩০ টাকা। এরপর লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন পাটওয়ারী ১২৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৬ টাকা এবং চাঁদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ ১১৮ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৯ টাকা) অবস্থান করছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের হাতে নগদ পৌনে ৪ কোটি টাকা, মোট সম্পদ ৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোটি টাকার নিচে সম্পদ আছে ৪৬ জনের। পেশার দিক থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ ছাড়া আইনজীবী ২৯, প্রকৌশলী ২৪, শিক্ষক ২০, চিকিৎসক ১১ ও কৃষিজীবী চারজন। চাকরি অথবা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন আটজন। এ ছাড়া গৃহিণী বা অন্য পেশায় আছেন মাত্র দুজন। বিএনপির পরেই কোটিপতির তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। ইসির হলফনামায় দেখে গেছে, বিভাগওয়ারী সর্বোচ্চ কোটিপতি রয়েছে ঢাকায় ১৪৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৪ জন, রংপুর বিভাগে ৫১ জন, রাজশাহীতে ৪৭, খুলনায় ৪০, বরিশালে ৩৯, সিলেটে ৩৭ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন প্রার্থীর কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে। ঢাকায় ৫১, চট্টগ্রামে ৩৬ এবং কুমিল্লা জেলায় ২১ জন প্রার্থীর কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে ১৭, ময়মনসিংহে ১৬, নারায়ণগঞ্জে ১৫ এবং সিলেটে ১৩ প্রার্থী আছেন যাদের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। বরিশাল, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলায় ১২ জন করে কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১১, বগুড়া ১০, গাজীপুর ১০, রংপুর ৯, সুনামগঞ্জ ৯, চাঁদপুর ৮, গাইবান্ধা ৮, দিনাজপুর ৮, মাদারীপুর ৮ এবং মৌলভীবাজার ৮ জন প্রার্থী কোটিপতি। বাগেরহাট, লালমনিরহাট, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, ফেনী, নেত্রকোনা, নীলফামারী, খুলনা, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ ও ঝালকাঠিতে ৭ জন করে প্রার্থী কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। জামালপুর, কক্সবাজার, নাটোর, ফরিদপুর, ভোলা, মানিকগঞ্জ, যশোর, লক্ষ্মীপুর ও সিরাজগঞ্জে ৬ জন করে, শরীয়তপুর, পিরোজপুর, পাবনা, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম ও কুষ্টিয়ায় ৫ জন করে, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নড়াইল, বরগুনা ও মুন্সিগঞ্জে ৪ জন করে এবং রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা, পঞ্চগড় ও ঝিনাইদহে ৩ জন করে প্রার্থী কোটিপতি। মেহেরপুর, মাগুরা ও জয়পুরহাটে ২ জন করে, আর রাঙামাটি, শেরপুর, খাগড়াছড়ি ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। জেলা হিসেবে বান্দরবানে কোনো কোটিপতি প্রার্থী নেই। হলফনামা অনুযায়ী তারেক রহমান ২০২৫-২৬ আয়কর বর্ষে তাঁর আয় দেখিয়েছেন ছয় লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা। তিনি কোনো স্বীকৃত পেশার সঙ্গে যুক্ত না থাকায় শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের বিপরীতে আয় দেখিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের গত এক বছরে আয় ছিল ১৩ লাখ ৫১ টাকা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বছরে আয় আট লাখ ৬৩ হাজার টাকা। রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের আয় দেখিয়েছেন চার লাখ টাকা। যাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এবং বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। প্রতিদিনই তাঁরা বিপুল অর্থ খরচ করেন। অথচ হলফনামায় এর প্রতিফলন তেমন একটা দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বিএনপির সানজিদা ইসলামের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলমের দেখানো তথ্য অনুযায়ী তাঁর মাসিক আয় আট হাজার ৫০০ টাকারও কম। একই দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের গত এক বছরে আয় চার লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এদিকে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। এর আগে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একত্রে হেঁটেছে জামায়াত। ইতঃপূর্বে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তির বলয় দেখেনি বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ কার্যত মাঠশূন্য হওয়ার পর বিএনপির জন্য মাঠ ফাঁকা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জিং জায়গা দখল করে নিয়েছে জামায়াত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকে দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে কিছুটা অনীহা ছিল জামায়াতের। আগে পুরোপুরি সংস্কার ও জুলাই গণহত্যার বিচার, তারপর নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল দলটি। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে চিন্তাভাবনার পরিবর্তন আসে জামায়াতের। তবে ভোটের মাঠে সম্প্রতি কিছু নেতা বা প্রার্থীর বেফাঁস বক্তব্যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে জামায়াতকে। সম্প্রতি জামায়াত ঘরানার কয়েকজন ইসলামি বক্তার বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে দল থেকে তাদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি দলের পক্ষ থেকে ‘বিশিষ্ট দাঈ ও ওয়ায়েজ সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়। সেখানে সারাদেশ থেকে শতাধিক জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিতর্কিত বক্তব্যে শীর্ষে থাকা মাওলানা তারেক মনোয়ার ও মুফতি আমীর হামজাও ছিলেন। সেখানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ময়দানে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না যাতে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে কথাবার্তা বলতে হবে। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা যাবে না।তারপরও থেমে নেই তারা।
ড. রেজা কিবরিয়া গণ অধিকার পরিষদ ত্যাগের কারণ স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি কোনো দলেই থাকতে পারবেন না যা ইসরাইলের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয়। সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যেখানে ইসরাইলের অর্থ আসে, সেখানে আমার অবস্থান সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক পথচলায় আগে তিনি গণফোরামে ছিলেন, কিন্তু সেখানে দলীয় কোন্দল ও এমপির পদ নিয়ে ভিন্নমতের কারণে তিনি দল ছেড়ে আসেন। গণ অধিকার পরিষদে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উৎসাহে গ্রহণ করেছিলেন, তবে পরে দলটির ইসরাইলের সঙ্গে আর্থিক সংযোগের তথ্য তিনি নিশ্চিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন। ড. কিবরিয়া বলেন, “মিডিয়ায় প্রকাশিত মিটিংয়ের তথ্য এবং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের উল্লেখিত মোসাদ সংক্রান্ত তিনটি বৈঠকের খবর আমাকে দৃঢ়ভাবে বোঝালো, আমি সেখানে থাকতে পারি না।” এই বক্তব্যে রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগকে কেন্দ্র করে তার অবস্থান পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।
রাজধানীসহ সারা দেশে ক্রমেই বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছে এবং এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুন ও সহিংসতা চালাচ্ছে। এতে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে জনমনে শঙ্কা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু নির্দেশ মোতাবেক সফলতা আসছে না। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের জন্য যেসব অস্ত্র মজুদ করা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। ফলে সেই অস্ত্রই আসন্ন নির্বাচনে বড় নিরাপত্তাঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এখনো উন্নতি ঘটেনি। তবে, শিগগিরই এর সমাধান হবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার এখনো কোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি, যা সরকারের ব্যর্থতা। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি। তবে বিএনপি আশাবাদী খুব শিগগিরই এটির সমাধান হবে।’ জামায়াতের নবগঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক বৈঠকে শুক্রবার বলা হয়, দেশে সন্ত্রাস নির্মূলে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে। অথচ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এদিকে ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনার পর নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি, ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের ভয় তৈরি হয়েছে। তবে সেটা এখন কমেনি। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই গুলি করে অন্তত চারটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কারওয়ান বাজার এলাকার অদূরে তেজতুরী বাজারে বুধবার রাতে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে। গাজীপুরে এনসিপির এক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করে তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি ঘরে বিস্ফোরণে দুই যুবক নিহত হন। পুলিশ বলছে, ককটেল তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ হয়। এসব ককটেল নির্বাচনী প্রচারে হামলা বা নাশকতার জন্য তৈরি হচ্ছিল কি না, সে সন্দেহও রয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা, গুলি, হত্যা, বিস্ফোরণ, মব সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার একের পর এক ঘটনা নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। এর আগে নির্বাচনী জনসংযোগে হামলা, গুলি হয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে অতীতে লুট হওয়া পুলিশের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়া। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি অস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশ উদ্ধার হলেও এখনো এক হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। এসব অস্ত্র যদি অপরাধী চক্রের হাতে সক্রিয় থাকে, তাহলে নির্বাচনকালীন সহিংসতার মাত্রা বহুগুণে বাড়তে পারে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর কাছে থাকা বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রেরও নির্ভরযোগ্য হদিস এখনো মেলেনি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, পালিয়ে যাওয়া কিছু নেতাকর্মী এসব অস্ত্র গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি কমে যেতে পারে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আইএসপিআর জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪৯ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১০টি ককটেল, ধারালো অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবি সূত্র জানায়, শুধু গত ডিসেম্বরে এক মাসেই উদ্ধার হয়েছে ৯টি পিস্তল, দুইটি এয়ারগান, ১৩টি ম্যাগাজিন, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গানপাউডার, ১২ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ১৭ কেজি ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম নাইট্রেট এবং ৩১৬ রাউন্ড গুলি। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থানাগুলো থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং সীমান্তে ফাঁকফোকর গলিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্ত্র এসে সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছানোর ফলে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এই পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হতে পারে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে, তবে অস্ত্র উদ্ধার খুব সীমিত পরিসরে হয়েছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকার অন্তত ১৮টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র পাচার হতে পারে, এসব পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যেগুলোর মধ্যে নিয়মিত অবৈধ অস্ত্র আসছে টেকনাফ, বেনাপোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও মেহেরপুর পয়েন্ট দিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে যে পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র জব্দ হয়, তার কয়েক গুণ বেশি অস্ত্র দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। এসব অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে গত সোমবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘দু-চারটা অস্ত্র যে ঢুকছে না, তা না। ঢুকছে এবং এগুলো কিন্তু ধরা হচ্ছে। প্রতিদিনই দেখবেন ধরা হচ্ছে। একটা-দুইটা করে কিন্তু প্রতিদিন, একদিন কিন্তু পাঁচটি বিদেশি পিস্তলও ধরা হয়েছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, গণভোট শুধুমাত্র আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে নেওয়া উচিত। এজন্য নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব গণভোটকে সফল করা এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া। অধ্যাপক আলী রিয়াজ উল্লেখ করেন, জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও, গণভোট বিষয়ে সব দল একমত। তিনি এটিকে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আরও একজন বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী নগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান। ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের নামে নেওয়া উদ্যোগগুলো প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাস্তবায়নে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার কার্যত আমলাতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কেন এই আত্মসমর্পণ হলো এবং দুর্বলতা কোথায়, তা মূল প্রশ্ন।” সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য প্রণয়নে সংস্কার বিমুখতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশের বিষয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত আপিলের শুনানি শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানায়, শুনানি আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আগামী পাঁচ দিনে মোট ৬৪৫টি আপিল শুনানির জন্য কমিশনে জমা পড়েছে। কমিশন সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল, পরবর্তী দিনগুলোতে নির্ধারিত পরিসরের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী তারিখ ও সময়সূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এর আগে, সারা দেশে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনদিনই প্রভাব ফেলেনি এবং আশা করি এবারেও প্রভাব পড়বেনা এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কালিবাড়ী এলাকায় তার নিজ বাসভবনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সুযোগ পায়নি। তাদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসার উদ্দেশ্য নিয়ে। মির্জা ফখরুল বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ, জুলাই যোদ্ধা নিহতদের কবর জিয়ারত ও আহত পরিবারের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এটাকে বলা যেতে পারে যে, তার ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা সফর। তিনি আরো বলেন, এবারে একদিনেই নির্বাচন ও গণভোট হবে। যে সংস্কার নিয়ে গণভোট হচ্ছে এটি মূলত আমাদের পূর্বের কার্যক্রম ছিল। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেখানে না বলার মতো কোন কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না। বিএনপির মহাসচিব বলেন, অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে উন্নত করার জন্য বিএনপি আগেও কাজ করেছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নিঃসন্দেহে আমাদের নেতা তারেক রহমান অবশ্যই চিন্তা করবেন এবং নির্বাচিত হলে উত্তরাঞ্চল সহ অবহেলিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে আমরা কাজ করব। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্যরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৭ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার-ভিডিপি ও স্থানীয় প্রশাসনের হাজার হাজার সদস্য। ৩০০ আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবে, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও র্যাব হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে। ভোটের চার দিন আগে ও দুই দিন পর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালানো হবে, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা থাকবে। ভোটের আগে ও দিনে মোটরসাইকেল, ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে এবং লাইসেন্সধারীদের জন্য অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তফশিল ঘোষণার পর বাস্তব পরিস্থিতি এবং নির্বাচনি সহিংসতার পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গৃহীত।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশপথে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফ্লাইটগুলো প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার চলাচল করবে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৮টা ছেড়ে করাচিতে পৌঁছাবে রাত ১১টায়। বিপরীতে, করাচি থেকে রাত ১২টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে। বিমান কর্তৃপক্ষের মতে, এই রুট চালুর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যাত্রী পরিবহন আরও সহজ, নিয়মতান্ত্রিক ও সময়সাশ্রয়ী হবে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বৈধ ভ্রমণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।