স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও সমন্বিত ও ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসকরা দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন— পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ. কে. এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী এবং নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ। এ ছাড়া মেহেরপুরে মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনায় এস. এম. মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠিতে মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস. এম. ওবায়দুল হক এবং শেরপুরে এ. বি. এম. মামুনুর রশিদনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় মো. নূরুজ্জামান (এড.), কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ. কে. এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরীকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, নতুন এই নিয়োগের ফলে স্থানীয় সরকার কাঠামোর কার্যক্রমে গতি আসবে এবং জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদে জানিয়েছেন, ভর্তির লটারি পদ্ধতি আগের সরকারের সময় চালু হয়েছিল, যা তিনি যুক্তিসংগত মনে করেন না। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও জানান, দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা ও সনদ সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা শুধু ইসলামিক নয়, সকল ধর্মের অনুভূতিকে সম্মান দিয়ে কার্যক্রম চালানো হবে। এছাড়া, সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়েও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং সরকার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত সব সুবিধাভোগীকে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতেই অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন। কুষ্টিয়া–১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণের বিভিন্ন স্তরে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা স্পষ্টতই দুর্নীতির শামিল। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে ভাতা বিতরণ কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে সব সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীকে একটি পরিবারভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরাসরি সুবিধা পেতে পারেন। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নোয়াখালী–২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাতা প্রাপকদের বিদ্যমান তালিকা পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। অতীত সময়ে তালিকা প্রণয়নে যে অনিয়ম বা অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার অভিযোগ ছিল, তা পর্যালোচনা করে সংশোধিত নীতিমালার ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম–১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। বর্তমানে সরকার বিদ্যমান তালিকা যাচাই করে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে, সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা থাকায় প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট জটিলতা দূর হলে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা কেবল ইসলামিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল, যা তার কাছে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আগে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ভবিষ্যতে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধী দলের ঘোষিত ‘সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রচলিত আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্য দিয়েই হতে হয়। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জুলাই সনদের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এ ধরনের যে কোনো উদ্যোগ অবশ্যই আইন, বিধি-বিধান ও সংবিধানের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন—কোনো ‘সংস্কার পরিষদ’-এর নয়। ফলে বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হলে আগে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। সংসদে আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠনের প্রশ্ন বিবেচিত হতে পারে। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। আদালতও এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বা সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের আগে সংস্কার পরিষদ গঠন বা শপথ গ্রহণের উদ্যোগকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ বলা যায় না। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন, সংবিধান অনুসারে ‘সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নয়। এই বিষয় এখনও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। সংবিধান অনুসারে কোনও সংস্কার পরিষদের নিয়ম বা কাঠামো নেই। যদি ভবিষ্যতে গণভোট বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি অনুমোদিত হয়, তা হলে সংবিধানে সংশোধন করে নির্দিষ্ট ফর্ম ও শপথের বিষয় নির্ধারণ করা যাবে।” সালাহউদ্দিন বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদত্যাগ করেছেন যাতে অধিবেশনে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বৈধতার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজ রোববার (১৫ মার্চ) জানিয়েছেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের বিক্রিতে আর কোনো রেশনিং থাকবে না; সবাই চাহিদা অনুযায়ী তেল কিনতে পারবেন। সরকারি সূত্র জানায়, দেশজুড়ে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই মাসে ১৮টি জাহাজ থেকে তেল আনবে, যার মধ্যে ডিজেলই প্রধান। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই লাখ টন ডিজেল, এবং আরও জরুরি ব্যবহারের জন্য ৬০ হাজার টন প্রস্তুত রয়েছে। অকটেন ও পেট্রল যথাক্রমে ১৬ হাজার টন মজুত। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিদেশ থেকে অতিরিক্ত তেল আনার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে ঈদযাত্রা ও সেচের চাহিদা নির্বিঘ্নভাবে পূরণ হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টায় সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাকে বহন করতে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণ করেছে। মির্জা আব্বাসকে অসুস্থতার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে আছেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার দুই প্রধান অভিযুক্তকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার (১৪ মার্চ) নদীয়া জেলার শান্তিপুর সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। কলকাতায় অবস্থানরত একটি কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশে সহায়তা করেছিলেন। পরে নিজেও গ্রেফতার এড়াতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে তাকে আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আদালত তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে জুমার নামাজের পর রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও ছয় দিন পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই অভিযুক্তরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এই মামলায় দেশে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও দুজন এখনো পলাতক রয়েছে। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালনা করছে।
স্থানীয় সরকার প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, রাজশাহী সিটিতে মো. মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটিতে মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটিতে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটিতে মো. ইউসুফ মোল্লাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪–এর ধারা ২৫ক অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী তারা নির্ধারিত ভাতা গ্রহণ করবেন। এর আগে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে যানজট কমাতে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল ঈদের আগে ও পরে সীমিত থাকবে। শনিবার (১৪ মার্চ) গাবতলী বাস টার্মিনালে বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সেবা নিশ্চিত করতে টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, র্যাব এবং সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে এবং ভ্রাম্যমাণ ঝকঝকে বাস রাস্তায় নামবে না।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশের জনগণের ভোটের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকার ভোটের ফল প্রকাশের আগ থেকেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর জাতি গঠনের লক্ষ্য সরকারের। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হয়েছে এবং ১৪ এপ্রিল থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ কার্যক্রম শুরু হবে। ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। তিনি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় শক্তির হাত থেকে স্বাধীনতা রক্ষা করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখযোগ্যভাবে, অনুষ্ঠানে ইসলামী ধর্মের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা সারাদেশে পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ করা হবে।
দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবায় নিয়োজিত ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের নতুন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক স্বীকৃতি বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির অধীনে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতকে মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে। এছাড়া ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে। অন্যদিকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোর জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে—যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত বা যাজক ৫ হাজার এবং সহকারী বা সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষকে নতুনভাবে সংস্কার করে মর্যাদাশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ আকার দেওয়া হয়েছে। স্পিকারের পেছনের উঁচু দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে পবিত্র কালেমা তাইয়্যেবা, যা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংসদ ভবনে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশন কক্ষে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” লেখা কালেমা স্থাপনের নির্দেশ দেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ে বসে সরকারি কাজ সম্পাদন করেন এবং বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করেন। সূত্র জানায়, এই উদ্যোগ নতুন সংসদের কার্যক্রমকে নিয়মতান্ত্রিক ও মর্যাদাশীলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। অধিবেশনের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেন। স্পিকারের বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন। বিরোধীদের অনুপস্থিতিতেও রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন, যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং নতুন সরকার ও বিরোধী দলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সরকারি বেঞ্চের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণে উল্লসিত হয়ে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ প্রদানের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও জামায়াতের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে অবস্থান নেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’—যা রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রেক্ষাপটে সাংসদদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বক্তব্য চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে, যার প্রভাবে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একপর্যায়ে ওয়াক আউট করেন। এই ঘটনাটি সংসদে প্রস্তাবিত নীতিনির্ধারণ ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসন দেশের অবস্থাকে ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জানান, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে যা নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে। তিনি সরকারি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরেন এবং গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অবদানও উল্লেখ করেন। অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমান সরকারের নীতিমালার সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে। কৃষি ও অর্থনীতিতে সরকারের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে দেশের উন্নয়ন দর্শন ও রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতির নাম প্রস্তাবের সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক স্বার্থ রক্ষাই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সংসদের সব দলের নির্বাচিত সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় সংসদকে যুক্তি, বিতর্ক ও নীতিনির্ধারণের কার্যকর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানও স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। সরকারের নীতিগত অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের অংশ। প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করবে।
ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে তার প্রার্থীতা নাটোর-সদরের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পেশ করেন, যা সমর্থন দেন এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম। সংসদের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করেন। এই নির্বাচনের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহযোগী হিসেবে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা পুনরায় শুরু হলো। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি বলেন, সরকার এই সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধান ও তর্ক-বিতর্কের মূল কেন্দ্রে পরিণত করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং জীবনব্যাপী গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে যাওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমন্বিত প্রতিনিধিত্বে কাজ করবে এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য হাসিলের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও যোগ করেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকার দল–বিরোধী নির্বিশেষে দেশের কল্যাণে কাজ করবে, যেখানে কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য থাকবেনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে দায়িত্ব নিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম তার নাম প্রস্তাব করেন, যা খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম সমর্থন করেন। সভাপতির দায়িত্বে থাকা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব সংসদে পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংসদীয় নেতা তারেক রহমান সভাপতিত্বের জন্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে, প্রস্তাবের পূর্ণ সমর্থন জানান। বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মন্তব্য করেন, বিষয়টি আগে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হলে তারা খুশি হতেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির শীর্ষ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনের উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্যদের সম্মতিতে তিনি দায়িত্ব নেন। সভাপতির পদে নির্বাচনের প্রস্তাব সমর্থন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ড. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আগামী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন সম্পন্ন হবে।