বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI) এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, অটোমেশন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং শিক্ষা সহ প্রায় সব খাতে এআই-এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। দেশীয় স্টার্টআপ, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। বাংলাদেশের অগ্রগতি: দেশে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট, অটোমেটেড কাস্টমার সার্ভিস, ফেস রিকগনিশন, এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ 'AI ফর বাংলাদেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই শিক্ষা চালু করছে ধীরে ধীরে। চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা: যথাযথ ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার অভাবে এআই প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবও অন্যতম বড় বাধা। বিশেষজ্ঞ মতামত: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি সময়মতো ডেটা সুরক্ষা আইন, এআই গবেষণা তহবিল এবং শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, তবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়—এটি বর্তমানে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা করতে পারে, তবে এআই হতে পারে দেশের পরবর্তী ডিজিটাল বিপ্লবের চালিকা শক্তি।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। তবে এর বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং নীতিমালার আওতায় আনতে বিশেষজ্ঞরা এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত "এআই অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট" শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), অটোমেটেড ভুয়া সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক বলেন, "অনেকেই এখন বিশ্বাস করছে না কোন ছবি বা ভিডিও আসল। এর ফলে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে যাচ্ছে। রাজনীতি, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।" চাকরির বাজারে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অনেক শ্রমনির্ভর ও মধ্যম স্তরের পেশা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে কল সেন্টার, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং হিসাবরক্ষণ পেশায় ঝুঁকি বাড়ছে। নীতিমালার ঘাটতি বাংলাদেশে এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন বা জাতীয় নীতিমালা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা এআই-নির্ভর প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা বলছেন, এখনই উচিত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহলে এআই ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা। নৈতিক ও নিরাপদ এআই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপদেরও একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা শুরুর আগ্রহ বিগত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্টার্টআপ খাতে প্রযুক্তি, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগগুলো এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির পেছনে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কাজ করেছে। তরুণদের চোখে সম্ভাবনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী রায়হান মৃধা সম্প্রতি “EduTrack” নামে একটি এডটেক স্টার্টআপ চালু করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ ও ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। শুরুতে ঝুঁকি ছিল, তবে এখন মাসে ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পাচ্ছি।” এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা সদ্য পাস করা তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোও এখন বাংলাদেশি স্টার্টআপে অর্থ ঢালতে আগ্রহী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১২টি স্টার্টআপ প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে। উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘BD Venture’–এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের ধারণা অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের হয়, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও পুঁজি। এখন সেই সুযোগ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে।” সরকারি উদ্যোগ ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে আইসিটি বিভাগের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি উদ্যোগে প্রাথমিক অর্থায়ন করেছে। একইসঙ্গে রয়েছে উদ্যোক্তা হাব, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির সুযোগ।
এআই প্রযুক্তি: কী কাজ হারাবে মানুষ, আর কোন কাজে হবে সহায়ক? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) — একসময় যা ছিল কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বিষয়, এখন তা বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম থেকে শুরু করে চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, মুখ চিনে ফেলা ক্যামেরা, কিংবা রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যার—সব কিছুতেই এখন এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে: “আমার চাকরি কি এখন নিরাপদ?” সত্যি বলতে, এআই কিছু চাকরি মানুষের কাছ থেকে নিয়ে নিচ্ছে—তবে একইসঙ্গে নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করছে। প্রথমেই দেখা যাক, কোন ধরনের কাজ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। সাধারণত, যেসব কাজ বারবার একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি করে—সেগুলোই প্রথমে এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। যেমন: ডাটা এন্ট্রি ও প্রসেসিং: এই ধরনের কাজ এখন সহজেই সফটওয়্যার দ্বারা করা যাচ্ছে, সময়ও কম লাগে। কাস্টমার সার্ভিস: চ্যাটবট ও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ইতোমধ্যেই হাজার হাজার কাস্টমার সার্ভিস কর্মীর কাজকে সীমিত করে ফেলেছে। টেলিমার্কেটিং ও ব্যাসিক অ্যাকাউন্টিং: সহজ হিসাব বা স্ক্রিপ্টভিত্তিক সেলস কলগুলো এখন এআই করতে পারে নিখুঁতভাবে। সার্ভিল্যান্স ও সিকিউরিটি মনিটরিং: স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি মানুষের জায়গায় দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে কাজ করছে। এই তালিকা দেখে ভয় পাওয়ার কারণ থাকলেও, একে একপেশেভাবে দেখলে ভুল হবে। কারণ এআই প্রযুক্তি অনেক কাজে মানুষের সহায়ক হিসেবেও কাজ করছে, বিশেষ করে যেখানে বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা ও মানবিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়: এআই এখন ক্যানসার শনাক্তকরণ, হার্ট ডিজিজ বিশ্লেষণ, ওষুধের গবেষণা—এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারদের সহায়তা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও মানুষের। ডিজাইন ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন: গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, এমনকি কবিতা বা গল্প লেখায় এআই সাহায্য করছে—but human touch is still irreplaceable. এডুকেশন ও পার্সোনাল লার্নিং: এআই ভিত্তিক অ্যাপ যেমন Duolingo বা Khan Academy এখন শিক্ষার্থীদের জন্য পার্সোনালাইজড শিখন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট: কোডিং এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে কোড-সহায়ক এআই টুলের কারণে, যা সময় ও শ্রম দুটোই কমায়। তবে এই সবের মাঝেও একটা বিষয় পরিষ্কার—মানবিক গুণাবলি এখনও অপরিহার্য। নেতৃত্ব, সহানুভূতি, জটিল সমস্যা সমাধান, সৃজনশীল চিন্তা—এই গুণগুলো এখনো কোনো এআই পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি। তবে ভবিষ্যতের কাজের দুনিয়া কেমন হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে, আজকের নির্ভরযোগ্য কাজও আগামী দিনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে। তাই করণীয় একটাই—মানুষকেও পরিবর্তিত হতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, নতুন স্কিল শেখা—এই তিনটি দিকেই বেশি জোর দিতে হবে। সবশেষে বললে বলা যায়, এআই শত্রু নয়, বরং এক শক্তিশালী সহচর, যদি আমরা তাকে বুঝে ব্যবহার করতে পারি। কাজ হারানোর ভয় না পেয়ে বরং নতুন কাজের ধরন ও দক্ষতার জন্য প্রস্তুত হওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
“আপনার কি কখনও মনে হয়েছে, আপনার কাজটা একদিন হয়তো AI করে ফেলবে?” একসময় যে কাজগুলো ছিল কেবল মানুষের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, আজ সেগুলো একে একে চলে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে। লেখালেখি, ডিজাইন, কাস্টমার সার্ভিস, এমনকি কোডিং পর্যন্ত—সবখানে এখন AI-এর হাতছানি। এই পরিবর্তনের গতি দেখে অনেকেই আতঙ্কিত। কেউ বলছেন, "চাকরি হারাবো", আবার কেউ বলছেন, "AI আমাদের দাস বানাবে!" কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আতঙ্কের পেছনে আসল সত্যটা কী? বস্তুত, AI হচ্ছে একটা দ্বিমুখী বাস্তবতা: একদিকে এটি অনেক কাজ অটোমেট করছে, কম খরচে, বেশি গতিতে। অন্যদিকে, এটি এমন কিছু কাজ তৈরি করছে, যা আগে কখনো ছিল না। ফলে ভয় যেমন আছে, তেমনি সুযোগও অসীম। এই লেখায় আমরা চেষ্টা করবো সেই “ভয়ের কুয়াশা” সরিয়ে দেখে নিতে বাস্তবতা কতটা গাঢ় বা আশাব্যঞ্জক। আপনি জানতে পারবেন— AI ইতিমধ্যে কোন কোন খাতে প্রভাব ফেলছে ভবিষ্যতে কোন পেশা ঝুঁকিতে, আর কোনটা উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন এই প্রযুক্তির ঢেউয়ে টিকে থাকার জন্য চলুন, চোখ রাখি সেই সত্যের দিকে—যেটা আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতার গল্প বলে। ১. AI কোথায় কোথায় কাজ করছে ইতিমধ্যে? এক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মানেই ছিল সাই-ফাই সিনেমার রোবট। এখন সেটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঢুকে পড়েছে—চুপচাপ, কিন্তু গভীরভাবে। আপনি হয়তো বুঝতেও পারছেন না, দিনে ৫–১০ বার আপনি AI-এর সাথে যোগাযোগ করছেন! চলুন দেখি AI ইতিমধ্যে কোন কোন জায়গায় কাজ করছে— 📝 কনটেন্ট তৈরি চ্যাটজিপিটি (ChatGPT): ব্লগ লেখা, ইমেইল লেখা, এমনকি কবিতা বা স্ক্রিপ্টও লিখে দিচ্ছে Grammarly, Quillbot: লেখার ভুল ধরছে, লেখাকে প্রফেশনাল করছে Jasper.ai, Copy.ai: মার্কেটিং কনটেন্ট তৈরি করছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে 👉 অনেক কনটেন্ট রাইটার এখন AI-কে সহকারী হিসেবে নিচ্ছেন, কেউ কেউ চাকরি হারাচ্ছেনও। 🎨 ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট Canva AI, Midjourney, DALL·E: ব্যানার, পোস্টার, থাম্বনেইল—সবই বানিয়ে দিচ্ছে AI Runway: ভিডিও জেনারেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ, অডিও ক্লিনিং—সেকেন্ডের মধ্যে ব্র্যান্ডিং/ক্যাম্পেইন ডিজাইনেও এখন মানুষ AI-এর সাহায্য নিচ্ছে 👉 ফলে গড়পড়তা ডিজাইনারদের কাজ কমে যাচ্ছে, কিন্তু দক্ষদের জন্য AI শক্তি বাড়াচ্ছে। 💬 কাস্টমার সার্ভিস ও কমিউনিকেশন চ্যাটবট (Like Zendesk, Intercom): কাস্টমার সার্ভিসে মানুষ বসানো লাগছে না ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট (Siri, Alexa, Google): মানুষের ভাষা বুঝে উত্তর দিচ্ছে AI এখন এমনকি কল করে কথা বলছে (Google Duplex!) 👉 কোম্পানি খরচ কমাচ্ছে, অথচ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ঠিক রাখছে। 💻 কোডিং ও ডেভেলপমেন্ট GitHub Copilot: ডেভেলপাররা কোড লেখার সময় AI থেকে সাজেশন পাচ্ছেন Code Interpreter/AI Debuggers: বাগ ধরছে, কোড অপটিমাইজ করছে 👉 জুনিয়র ডেভেলপারদের কাজ অনেকটাই অটোমেটেড হচ্ছে, কিন্তু সিনিয়রদের দক্ষতা আরও মূল্যবান হয়ে উঠছে। 📊 ডেটা অ্যানালাইসিস ও বিজনেস ইনটেলিজেন্স AI Tools (Tableau AI, Power BI, ChatGPT plugins): বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করছে, ট্রেন্ড বের করছে পূর্বাভাস, গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টেও AI ব্যবহৃত হচ্ছে 👉 যেসব কাজ আগে এক্সেল আর বিশ্লেষকের ওপর নির্ভর করতো, এখন সেখানে AI কাজের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। 🔍 তাহলে প্রশ্ন: AI কি মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে? আসলে AI “চাকরি নিচ্ছে” না, বরং চাকরির ধরন বদলে দিচ্ছে। যারা AI জানে না বা মানিয়ে নিচ্ছে না, তাদের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু যারা শিখছে, তারা AI-কে সহকারী বানিয়ে আরও বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে। ২. কোন পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে? প্রযুক্তি এসেছে সুবিধা দিতে, তবে সেটা সবসময় সবার জন্য সুখবর নয়। বিশেষ করে যেসব পেশা পুনরাবৃত্তিমূলক (repetitive), পূর্বনির্ধারিত নিয়মে চলে বা খুব বেশি মানুষের সংবেদনশীলতা দরকার হয় না—সেই কাজগুলো এখন AI ও অটোমেশন দ্বারা প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিতে। চলুন দেখে নিই কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ও সেক্টর: 🧮 ১. ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক-অফিস কাজ এই কাজগুলোতে শুধু নিয়ম মেনে তথ্য বসানো হয়—যা AI খুব সহজে করতে পারে। এক্সেল-ভিত্তিক ইনপুট ডকুমেন্ট প্রসেসিং রিপোর্ট তৈরি 👉 কোম্পানিগুলো এখন সফটওয়্যার বা AI টুল দিয়ে এসব কাজ মিনিটেই করে নিচ্ছে। 📞 ২. কাস্টমার সার্ভিস / কল সেন্টার চ্যাটবট ও ভয়েসবট এখন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। FAQ support প্রোডাক্ট ইনফো বেসিক সমস্যা সমাধান 👉 ফলে মানবিক কল সেন্টার এজেন্টদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ✍️ ৩. সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং AI এখন ব্লগ, ক্যাপশন, প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন লিখে ফেলতে পারে কয়েক সেকেন্ডে। কম্পিটিশন বাড়ছে কনটেন্টের দাম কমছে 👉 যারা কেবল rewriting বা basic writing করতেন, তারা ঝুঁকিতে। তবে যারা স্ট্র্যাটেজি ও ক্রিয়েটিভিটি জানেন, তারা এখনো নিরাপদ। 🔁 ৪. অ্যাকাউন্টিং-এর নির্দিষ্ট কিছু অংশ বেসিক হিসাব, ইনভয়েস, রিপোর্টিং—সবই সফটওয়্যার দিয়ে করা যাচ্ছে QuickBooks, Xero, Zoho Books ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো অটোমেট করছে রেকর্ড কিপিং আর রিপোর্ট জেনারেশনের কাজ কমে যাচ্ছে 👉 তবে কনসালটিং, ট্যাক্স স্ট্র্যাটেজি ও জটিল অডিট এখনো মানুষের ওপর নির্ভরশীল। 🌍 ৫. ট্রান্সলেশন ও সাবটাইটলিং Google Translate, DeepL, বা AI-চালিত সাবটাইটল টুল এখন অনেক বেশি নিখুঁত বহুজাতিক মিডিয়া, ইউটিউবাররা এখন AI দিয়ে সাবটাইটেল বানাচ্ছেন Human translator এর প্রয়োজন কমে যাচ্ছে 👉 তবে সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক অনুবাদে এখনো AI পুরোপুরি দক্ষ নয়। 📌 কেন এই কাজগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? কারণ এগুলোর কাজ খুব স্ট্রাকচার্ড ও পুনরাবৃত্তিমূলক AI এসব কাজ অল্প সময়ে, কম খরচে, ভুল কম করে করতে পারে কোম্পানিগুলো efficiency ও cost-saving-এর জন্য AI বেছে নিচ্ছে 🎯 তাহলে করণীয় কী? এইসব পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলে এখনই নিজেকে রিস্ক থেকে বাঁচানোর সময়— শুধু কাজ না, মূল্য যোগ করা শিখুন Creative thinking, emotion, human judgment যেখানে দরকার—সেই স্কিলে জোর দিন AI-কে প্রতিদ্বন্দ্বী না, সহযোগী বানিয়ে ফেলুন ৩. AI চাকরি নিচ্ছে, কিন্তু তৈরি করছে না? আমরা যখন বলি “AI চাকরি কেড়ে নিচ্ছে”, তখন একটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়—"তাহলে মানুষ কোথায় যাবে?" কিন্তু প্রশ্নটা শুধু চাকরি হারানোর না, বরং এটা জানা দরকার, AI কি নতুন চাকরিও তৈরি করছে না? 📊 বাস্তবতা: কিছু চাকরি যাচ্ছে, অনেক নতুন সুযোগ আসছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে: ২০২৫ সালের মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন চাকরি বিলুপ্ত হবে, তবে ৯৭ মিলিয়ন নতুন ধরনের চাকরি তৈরি হবে। মানে স্পষ্ট—পুরনো কাজ হয়তো কমে যাচ্ছে, কিন্তু নতুন ধরণের স্কিলভিত্তিক কাজ বাড়ছে। 🌱 AI-ভিত্তিক নতুন পেশা ও রোল 🧠 ১. Prompt Engineer AI-কে কাজ করাতে হলে তাকে ঠিকভাবে প্রশ্ন করতে হয়। 👉 যারা জানে কীভাবে গঠনমূলক, কৌশলী প্রম্পট দিতে হয়—তাদের চাহিদা বাড়ছে। 🛠️ ২. AI Trainer / Evaluator AI যেন ভুল না শেখে, সেটা নিরীক্ষণ করার জন্য দরকার মানুষ। 👉 এই ট্রেইনাররা সিস্টেমকে “মানবিকভাবে” শেখাতে সাহায্য করেন। 🔍 ৩. AI Ethicist / Policy Expert AI যেন পক্ষপাত না করে বা মানুষের ক্ষতি না করে—এ জন্য নীতিমালা দরকার। 👉 এই ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নতুন চাকরি। 🧩 ৪. Human-AI Collaboration Specialist মানুষ ও AI একসাথে কাজ করবে—এই সমন্বয় যারা বুঝবেন, তারা অনেক মূল্যবান হয়ে উঠবেন। 👉 বিশেষ করে বড় কোম্পানিতে AI Integration ম্যানেজ করতে। 📈 ৫. Automation Manager / Analyst যেসব কোম্পানি AI বা অটোমেশন চালু করছে, তাদের জন্য দরকার বিশেষজ্ঞ 👉 যিনি বুঝবেন কোন অংশ অটোমেট করা উচিত, আর কোনটা নয়। 📌 উপসংহার: বদলাবে কাজ, থাকবে কাজ AI হয়তো কিছু পুরনো স্কিলের দাম কমিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু নতুন কাজের বাজার তৈরি করছে অন্যদিকে। ✅ যারা বদলাবে, শিখবে, মানিয়ে নেবে—তারা আগেই থাকবে ❌ যারা ভাবছে “AI তো আমার জায়গা নিচ্ছে”, কিন্তু কিছু করছে না—তারা সত্যিই ঝুঁকিতে ৪. বাংলাদেশে কী হবে? বিশ্বে যখন AI নিয়ে বিপ্লব চলছে, তখন প্রশ্নটা খুব প্রাসঙ্গিক—বাংলাদেশ এর প্রভাবে কতটা বদলাবে, আর আমরা কতটা প্রস্তুত? বাংলাদেশের চাকরির বাজার এখনও মূলত শ্রমনির্ভর, তবে ডিজিটাল রূপান্তরের ঢেউ লাগতে শুরু করেছে। আর এই সময়েই AI ধীরে ধীরে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে আমাদের জীবনে—অনেকে টেরও পাচ্ছেন না। 🖥️ 🧾 ১. আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে AI-এর প্রভাব বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটা অংশ কাজ করেন: কনটেন্ট রাইটিং গ্রাফিক ডিজাইন ভিডিও এডিটিং ডেটা এন্ট্রি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এই সব কাজেই এখন AI বিকল্প হয়ে উঠছে। যেমন— Fiverr বা Upwork-এ অনেক ক্লায়েন্ট AI দিয়ে বেসিক কনটেন্ট করাচ্ছেন বেসিক ডিজাইন বা সাবটাইটল বানাতে Midjourney বা Descript ব্যবহার হচ্ছে Virtual Assistant-এর কাজ অনেকটাই এখন Zapier বা AI চ্যাটবট দিয়েই সেরে ফেলা যাচ্ছে 👉 যারা শুধু টাস্ক-ভিত্তিক কাজ করতেন, তাদের আয় হ্রাস পাচ্ছে বা কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। 🎓 ২. শিক্ষার মানসিকতা ও স্কিল-গ্যাপ AI ব্যবহারের জন্য শুধু প্রযুক্তি না, দরকার mindset. কিন্তু এখনও— অনেক শিক্ষার্থী টাইপিং শিখে মনে করছে, “আইটি পারি” কোডিং না শিখেও “ডেভেলপার” দাবি করা হয় বাস্তবভিত্তিক স্কিল শেখার চেয়ে সনদপত্র বেশি গুরুত্ব পায় 👉 এভাবে AI-সহযোগী বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে, যদি না mindset বদলানো যায়। 💡 ৩. AI-র মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সব খবর খারাপ না! বরং যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, বাংলাদেশ অনেকদূর এগোতে পারে। ✅ গ্রামে বসেই একজন তরুণ ChatGPT, Canva AI, এবং freelancing দিয়ে আয় করতে পারেন ✅ AI দিয়ে কাস্টমার সার্ভিস, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট অটোমেশন করে ছোট ব্যবসাও চালাতে পারেন ✅ SME বা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো অল্প খরচে প্রযুক্তিগত সমাধান পেতে পারেন বাংলাদেশের তরুণদের অনেকেই এখন AI Tools-ভিত্তিক কোর্স, ইউটিউব চ্যানেল, এমনকি স্টার্টআপ গড়ে তুলছেন—এটাই ভবিষ্যতের পথে আশা জাগায়। ⚠️ তাহলে চ্যালেঞ্জ কী? AI নিয়ে সচেতনতা কম স্কিল গ্যাপ বেশি ইংরেজি দুর্বলতা AI ব্যবহারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণের অভাব 📌 সমাধানের দিক AI ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্কিল শেখাতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে উদ্যোগ বাংলাভাষায় AI শেখার কোর্স, টিউটোরিয়াল তৈরি ফ্রিল্যান্সারদের রিস্ক থেকে বেরিয়ে “AI-Augmented Worker” হওয়ার প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে AI একদিকে সুযোগ, আরেকদিকে হুমকি। যাদের মানসিকতা দ্রুত শিখে মানিয়ে নেওয়ার, তাদের জন্য AI হতে পারে জয় করার অস্ত্র। আর যারা পরিবর্তন মানতে ভয় পান—তাদের জন্য এটা হতে পারে পিছিয়ে পড়ার সাইরেন। ৫. আতঙ্ক নয়, প্রস্তুত হও AI নিয়ে যে ভয়, তা একেবারেই স্বাভাবিক। যখনই বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, মানুষ উদ্বিগ্ন হয়। তবে ভয় আর হতাশায় আটকে থাকলে কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। আসল কথা হলো—আমাদের কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। 🔑 AI কে শত্রু না, বরং সহযোগী মনে করুন AI আসছে মানুষকে বদলাতে নয়, সাহায্য করতে। যারা AI-কে বোঝে, তাকে হাতিয়ার বানায়, তারা আজকের পৃথিবীর শীর্ষে। 🧰 নিজের কাজকে AI-proof করতে করণীয় ১. সৃজনশীলতা (Creativity) যেসব কাজ AI করতে পারে না, যেমন নতুন কিছু ভাবা, নকশা করা, গল্প বলা—সেগুলো শিখুন। নতুন আইডিয়া দিয়ে কাজের মান বাড়ান। ২. সমস্যা সমাধান (Problem Solving) জটিল পরিস্থিতি বোঝা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া AI-এর চেয়ে মানুষের হাতে। এই দক্ষতা উন্নত করুন। ৩. মানবিক স্পর্শ (Human Touch) মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, বোঝাপড়া, সহানুভূতি—এগুলো AI এখনো সম্পূর্ণ অনুকরণ করতে পারে না। এই স্কিলগুলো বিকাশ করুন। ৪. সফট স্কিলস ও নেতৃত্ব (Soft Skills & Leadership) টিম ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিকেশন, এবং নেতৃত্বের কাজ AI দিয়ে করা যায় না। এগুলো শিখে নিজেকে আলাদা করুন। 📚 লাইফটাইম লার্নিং—অর্থাৎ সারাজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা শুধু একবার কিছু শেখা নয়, বরং নিয়মিত নিজেকে আপডেট করতে হবে নতুন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, ট্রেন্ড জানতে আগ্রহী থাকতে হবে কোর্স, ওয়েবিনার, টিউটোরিয়াল থেকে শিখতে থাকা এখন জীবনের অপরিহার্য অংশ 🎯 ছোট থেকে শুরু করুন, বড় বদল আসবে প্রতিদিন অল্প একটু AI টুল ব্যবহার করে অভ্যস্ত হোন নিজের কাজের ক্ষেত্রে AI কীভাবে সাহায্য করতে পারে, সেটা খুঁজে বের করুন নতুন স্কিল শেখার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করুন ভয়কে পেছনে ফেলে, সামনের দিকে এগোতেই হবে। AI-কে শত্রু নয়, ক্ষমতাবর্ধক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করুন। সেই শক্তি নিয়ে আপনার ক্যারিয়ার ও জীবনকে উন্নত করুন। ৬. উপসংহার: বদলাও না, থেমে যাও না! আগামী দশক প্রযুক্তিতে আসবে এক দারুণ রূপান্তর—AI, অটোমেশন, 6G, মেটাভার্স সব মিলিয়ে আমাদের জীবন বদলে দেবে। চাকরি যাবে কিছু, আসবে নতুন কাজ; ভয় আসবে, তবে সুযোগও থাকবে অসীম। তবে একটাই সত্যি — পরিবর্তন অবধারিত। যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সফল হবে। যারা ভয় পেয়ে থেমে থাকবে, তারা পিছিয়ে যাবে। তাই আজ থেকেই তৈরি হতে হবে— নতুন দক্ষতা শিখে সচেতনতা ও নৈতিকতা বজায় রেখে AI ও প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে আমাদের সামনে এখন এক প্রশ্ন: “আপনি কী ভাবছেন? আগামী ১০ বছর আপনি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন?”
“আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ২০৩৫ সালে আমরা কেমন প্রযুক্তি ব্যবহার করব?” মোবাইল, ইন্টারনেট, আর চ্যাটজিপিটির যুগে দাঁড়িয়ে আমরা হয়তো ভাবতেও পারি না—আগামী ১০ বছরেই আমাদের জীবন কেমন পাল্টে যেতে পারে! প্রযুক্তির গতি এখন এতটাই দ্রুত, এক সময় যে জিনিসগুলো ছিল কল্পবিজ্ঞান, এখন তা বাস্তব। গত দশকে আমরা পেয়েছি স্মার্টফোন, ফাইভজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), এবং আরও অনেক নতুনত্ব। কিন্তু এই পরিবর্তন তো কেবল শুরু! ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের চারপাশে থাকতে পারে রোবটিক সহকারী, কৃত্রিম চিকিৎসক, উড়ন্ত গাড়ি কিংবা এমন প্রযুক্তি, যা আমাদের চিন্তাও পড়ে ফেলতে পারবে! এই ব্লগে আমরা গভীরভাবে জানবো— ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির উন্নয়ন কেমন হতে পারে, ভবিষ্যতের ইন্টারনেট, যেমন 6G বা স্পেস-ভিত্তিক সংযোগ কেমন হতে পারে, এবং সেই সঙ্গে প্রযুক্তির অন্ধকার দিক—যেমন গোপনীয়তার ঝুঁকি ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। চলুন, প্রযুক্তির টাইম মেশিনে চড়ে একটু এগিয়ে যাই—দেখে আসি আগামী ১০ বছরে আমাদের জীবনটা প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কেমন হতে পারে। ১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) – সবকিছুর কেন্দ্রে এক সময় “রোবট মানুষ” ছিল কেবল সিনেমার বিষয়। কিন্তু এখন? AI মানেই আমাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। আমরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলি, Copilot দিয়ে কোড বা কনটেন্ট লিখি, আর Midjourney বা DALL·E দিয়ে ছবি বানাই—সবই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি! ২০৩৫ সালে এই প্রযুক্তিগুলো শুধু আপডেট নয়, পুরোপুরি রূপান্তরিত হবে। ভবিষ্যতের AI হবে আরও স্বাধীন, মানবিক ও সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম। কল্পনা করুন, আপনি অসুস্থ—ডাক্তার না, AI আপনাকে স্ক্যান করে রোগ ধরবে, ওষুধ সাজেস্ট করবে, এমনকি আপনার স্বাস্থ্যগত প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে আগেই আপনাকে সতর্ক করবে। অথবা আপনার ব্যবসার সিদ্ধান্ত—কোন পণ্য বিক্রি হবে, কোথায় বিনিয়োগ করবেন—AI আপনাকে অপশন দেখিয়ে দিবে, বিশ্লেষণ করে জানাবে সম্ভাব্য ফলাফল। তবে সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কিছু ভয়ের জায়গাও। 🔸 গোপনীয়তা: আমাদের কথাবার্তা, অভ্যাস, চিন্তাধারা—সব AI শিখছে। এগুলোর সঠিক ব্যবহারে আইন না থাকলে ঝুঁকি বাড়বে। 🔸 চাকরি হারানোর আশঙ্কা: সহজ, রিপিটেটিভ কাজগুলো দ্রুত অটোমেটেড হয়ে যাবে। ফলে অনেক পেশাই বিলুপ্তির পথে যেতে পারে। অন্যদিকে, AI নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে—নতুন ধরনের চাকরি, দক্ষতা, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ খুলে যাবে। সব মিলিয়ে, AI আমাদের ভবিষ্যতের চালক হতে চলেছে—প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই যাত্রায় প্রস্তুত? ২. স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির বিপ্লব আগামী ১০ বছরে চিকিৎসা খাতের চেহারা একেবারে বদলে যাবে—এটা কেবল ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বাস্তবতার পথে যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। কল্পনা করুন, আপনি আর হাসপাতালে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকবেন না। বরং ঘরে বসেই ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে দেখা, রিপোর্ট শেয়ার, প্রেসক্রিপশন—সবই হবে অনলাইনে। এটিই টেলিমেডিসিন, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, এমনকি বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এর পাশাপাশি রোবটিক সার্জারি হয়ে উঠছে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির অঙ্গ। রোবট-সহায়তায় শল্যচিকিৎসা আরও নিখুঁত, নিরাপদ এবং কম কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে জটিল অপারেশনও হয়তো ডাক্তার দূরে বসে নিয়ন্ত্রণ করবেন, আর সার্জারি করবে একটি AI-চালিত রোবট। আর আছে wearable health devices—যেমন স্মার্ট ঘড়ি, ফিটনেস ব্যান্ড, কিংবা রক্তচাপ/রক্তে অক্সিজেন মাপার গ্যাজেট। এগুলো শুধু তথ্য দেখায় না, রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। কেউ যদি অনিয়মিত হার্টবিট বা ব্লাড সুগারের ঝুঁকিতে থাকেন, AI ডেটা বিশ্লেষণ করে আগেই সতর্ক করে দিতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—AI-চালিত রোগ নির্ণয়। শুধু এক্স-রে বা ব্লাড রিপোর্ট না, AI এখন কান্সার, হার্ট ডিজিজ, এমনকি মানসিক সমস্যাও আগেভাগে শনাক্ত করতে পারছে। 🇧🇩 বাংলাদেশের বাস্তবতা: বাংলাদেশে যদিও প্রযুক্তি-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে সম্ভাবনা বিশাল। গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ডাক্তার নেই, সেখানে টেলিমেডিসিন হতে পারে বড় সমাধান। প্রযুক্তির মাধ্যমে শহর-গ্রামের চিকিৎসা ব্যবধান কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য খাতে AI যদি সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তাহলে চিকিৎসার মান যেমন বাড়বে, খরচও অনেক কমবে। স্বাস্থ্যসেবায় এই বিপ্লব যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়—২০২৫ নয়, ২০৩৫ সালেই আমরা আরও সুস্থ, সচেতন এবং প্রযুক্তি-নির্ভর একটি জাতিতে রূপ নিতে পারি। ৩. শিক্ষা ও চাকরির ধরন পাল্টে যাবে আগামী ১০ বছরে “স্কুলে গিয়ে পড়া” বা “অফিসে গিয়ে চাকরি করা”—এই ধারণাগুলো ধীরে ধীরে বদলে যাবে। প্রযুক্তির গতিতে শিক্ষা এবং চাকরির পদ্ধতি যেমন বদলাবে, তেমনি বদলাবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মানসিকতা। 🧑💻 ভার্চুয়াল ক্লাসরুম এবং মেটাভার্সে শেখা আজ যেখানে Zoom বা Google Meet-এ ক্লাস হয়, ভবিষ্যতে হয়তো মেটাভার্সে ভার্চুয়াল স্কুল বা ভার্সিটি হবে। ছাত্ররা ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে (VR) প্রবেশ করে বাস্তবের মতো ক্লাসরুম, ল্যাব, লাইব্রেরি ঘুরে বেড়াবে। বিষয়ভিত্তিক 3D এক্সপেরিয়েন্স দিয়ে শেখা হবে আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ, জীবন্ত এবং আকর্ষণীয়। শুধু শহরের ছেলেমেয়ে নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীও ইন্টারনেট আর একটি VR ডিভাইস দিয়েই বিশ্বমানের শিক্ষা পেতে পারে। 💼 চিরাচরিত চাকরির জায়গায় ফ্রিল্যান্সিং আর অটোমেশন আগামী দিনে অফিসে বসে ৯টা–৫টার চাকরি হয়তো কমে আসবে। তার বদলে ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট ওয়ার্ক আর প্রজেক্টভিত্তিক কাজ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে অটোমেশন অনেক সাধারণ কাজ করে ফেলবে—যেমন ডেটা এন্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, এমনকি কাস্টমার সার্ভিসও। ফলে অনেক প্রচলিত চাকরি হয়তো থাকবে না, আবার নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি হবে। 🧠 ভবিষ্যতের জন্য নতুন স্কিলের প্রয়োজনীয়তা ২০৩৫ সালের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে চাই— ডিজিটাল দক্ষতা: যেমন কোডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন AI ও অটোমেশন বোঝার ক্ষমতা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving), ক্রিটিক্যাল থিংকিং কমিউনিকেশন স্কিল – কারণ বিশ্ব এখন একটি বড় ভার্চুয়াল টিমের মতো বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এটাই সোনালী সময়—যদি তারা এখনই ভবিষ্যতের স্কিল শিখতে শুরু করে। কারণ আগামী ১০ বছরেই বদলে যাবে কাজ শেখা, কাজ পাওয়া এবং কাজ করার ধরন। ৪. যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং: 6G, নতুন যুগের সংযোগ আমরা যখন 4G পেলাম, তখন ইন্টারনেটে ভিডিও দেখা বা লাইভ স্ট্রিম করা সহজ হলো। 5G আসতেই স্মার্ট সিটি, স্মার্ট গাড়ি আর IoT (Internet of Things)-এর বাস্তব রূপ দেখা গেল। কিন্তু 6G? এটা কেবল গতি নয়, বরং সম্পূর্ণ এক নতুন যুগের সংযোগ ব্যবস্থা—যা আমাদের “বাস্তব” ও “ভার্চুয়াল” জীবনকে একসাথে বেঁধে ফেলবে। ⚡ 6G কতটা দ্রুত? বিশেষজ্ঞদের মতে, 6G ইন্টারনেট হবে 5G-এর তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ দ্রুত! এর ডেটা ট্রান্সফার স্পিড হতে পারে প্রতি সেকেন্ডে ১ টেরাবিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, আপনি পুরো Netflix ডেটাবেস মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই ডাউনলোড করতে পারবেন! 🌐 কেবল স্পিড নয়, সংযুক্তির বৈপ্লবিক রূপ 6G এর মাধ্যমে আমাদের ডিভাইসগুলো শুধু যুক্ত থাকবে না, একে অপরকে বুঝতে পারবে স্মার্ট হোম, স্মার্ট গাড়ি, স্মার্ট শহর—সবকিছুর মধ্যে থাকবে “সচেতন” যোগাযোগ মেটাভার্স, হোলোগ্রাফিক কলিং, ভার্চুয়াল টেলিপ্রেজেন্স বাস্তব হয়ে উঠবে কৃষি, চিকিৎসা ও পরিবহন খাতেও রিয়েল-টাইম কমিউনিকেশন সহজ হবে 🛰️ স্পেস ইন্টারনেট: আকাশপথে সংযোগ Elon Musk-এর Starlink, Amazon-এর Project Kuiper, বা ভারতের BharatNet—সবাই এখন সেটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে আমাদের ইন্টারনেট আর মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভর করবে না, বরং উপগ্রহ থেকে সরাসরি সংযোগ পাওয়া যাবে। 🇧🇩 বাংলাদেশের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে এখনো পুরোপুরি 5G পৌঁছায়নি। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা পিছিয়ে আছি। যদি এখনই অবকাঠামো, রিসার্চ, আর টেক শিক্ষায় বিনিয়োগ শুরু হয়, তাহলে 6G যুগে বাংলাদেশও প্রযুক্তি-নির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে নিজের জায়গা করে নিতে পারবে। 6G হলো ভবিষ্যতের “ডিজিটাল অক্সিজেন”—যা শুধু দ্রুত নয়, বুদ্ধিমান সংযোগ দেবে। এটি আমাদের কাজের ধরন, যোগাযোগের মাধ্যম, এমনকি আমাদের চিন্তাভাবনার পথও বদলে দেবে। ৫. পরিবেশ ও টেকসই প্রযুক্তি: প্রযুক্তি হোক প্রকৃতির বন্ধু প্রযুক্তি মানেই শুধু যন্ত্র নয়, প্রযুক্তি এখন হয়ে উঠছে পরিবেশ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, জ্বালানির অপচয়—এই সব সমস্যার সমাধানে আমরা আজ তাকিয়ে আছি টেকসই প্রযুক্তির দিকে। 🔋 স্মার্ট এনার্জি সলিউশন বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, আর প্রাকৃতিক সম্পদ কমছে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি তাই ফোকাস করছে সোলার, উইন্ড, হাইব্রিড সিস্টেমে। বিদ্যুৎ বাঁচাতে স্মার্ট গ্রিড, এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ডিভাইস, এমনকি নিজে নিজে চার্জ হওয়া IoT ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাবে। আপনি কি জানেন? ভবিষ্যতের ঘর (smart home) এমন হবে যেখানে— বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে যখন কেউ থাকবে না ঘরের তাপমাত্রা নিজের থেকেই নিয়ন্ত্রিত হবে সৌর শক্তি দিয়ে ফ্রিজ, টিভি চালু থাকবে 🏙️ স্মার্ট সিটি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো স্মার্ট সিটি কনসেপ্টের মূল ভিত্তি হলো কম দূষণ, কম খরচ, বেশি কার্যকারিতা। পরিবেশবান্ধব ভবন (green buildings), স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের নগর হবে টেকসই আর বসবাসযোগ্য। 🌱 Climate Tech: প্রযুক্তি দিয়ে জলবায়ু রক্ষা বিশ্ব এখন Climate Tech নিয়ে দারুণ আগ্রহী। যেমন: AI দিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নিখুঁতভাবে করা সেন্সর দিয়ে নদীর পানি বা বায়ুদূষণ নিরীক্ষণ Vertical farming বা urban agriculture প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরেই সবজি উৎপাদন 🇧🇩 বাংলাদেশের বাস্তবতায় টেকসই প্রযুক্তি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় শিকার। তাই এখানে টেকসই প্রযুক্তির প্রয়োজন আরও বেশি। ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল স্মার্ট কৃষি (sensor-based irrigation, কৃষি ড্রোন) পরিবেশবান্ধব পরিবহন (ইলেকট্রিক বাইক, বাস) সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগ যদি একসাথে চলে, তাহলে টেকসই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা আর উন্নয়ন—দুটোই সম্ভব। প্রযুক্তি হয়তো আমাদের দূষণের কারণ ছিল একসময়, কিন্তু এখন সেই প্রযুক্তিই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। প্রশ্ন শুধু একটাই—আমরা কি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখেছি? ৬. প্রযুক্তির অন্ধকার দিক: গোপনীয়তা ও মানবিকতা প্রযুক্তির যতো উন্নতি, তার সঙ্গে নিয়ে আসে কিছু ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। আজকের এই ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা আর মানবিক মূল্যবোধ ঝুঁকির মুখে পড়ছে—যা আমাদের সবাইকে ভাবতে বাধ্য করে, প্রযুক্তি কি সত্যিই আমাদের বন্ধু নাকি নিয়ন্ত্রক? 🔍 গোপনীয়তার সংকট আমরা প্রতিদিন যত ডিভাইস ব্যবহার করি, সেগুলো আমাদের তথ্য সংগ্রহ করছে। ফোন, কম্পিউটার, স্মার্ট ঘড়ি—সবই ব্যবহারকারীর আচরণ, লোকেশন, কথা বলা, এমনকি চিন্তা পর্যন্ত ট্র্যাক করতে পারে। বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এই তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন, পণ্যের কাস্টমাইজেশন করে, কিন্তু কখনো কখনো এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আক্রমণও হয়ে দাঁড়ায়। ডিপফেক (Deepfake) ভিডিও, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ⚖️ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতা কিছু প্রযুক্তি যেমন AI আর অটোমেশন, মানুষের কাজ সহজ করছে, কিন্তু এর সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক ব্যবহার না হলে এটি বিপদের কারণ হতে পারে। চাকরি হারানো: অটোমেশনের কারণে অনেক মানুষের কাজ চলে যেতে পারে, যা সামাজিক সমস্যা বাড়াবে। মনুষ্যত্বের অবমূল্যায়ন: যখন রোবট বা AI সিদ্ধান্ত নেবে, তখন মানবিক সিদ্ধান্তের জটিলতা হারিয়ে যেতে পারে। বায়াস (Bias): AI-র ট্রেনিং ডেটায় যদি পক্ষপাত থাকে, তবে তা বৈষম্যের সৃষ্টি করতে পারে। 🌐 আমাদের দায়িত্ব প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা ও নৈতিকতার চেয়ে বেশি জরুরি আর কিছু নেই। ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের নিজস্ব তথ্য সুরক্ষায় সচেতন হতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের উচিত নীতি প্রণয়ন করে সঠিক নিয়ন্ত্রণ রাখা। প্রযুক্তিকে মানবতার সেবায় ব্যবহার করতে হবে, যেন এটি মানুষের কল্যাণে কাজ করে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনে বিপ্লব এনেছে, কিন্তু এই বিপ্লব যদি সঠিক পথে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলে সেটা মানবিক সংকট ও গোপনীয়তার আক্রমণে পরিণত হতে পারে। আমরা সবাইকে উচিত এই প্রযুক্তিকে সচেতন ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করা। উপসংহার: প্রস্তুতি না থাকলে ভবিষ্যৎ এক চমকে পরিণত হতে পারে আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে প্রযুক্তি শুধু আমাদের জীবনকে সহজ করবে না—বরং পুনর্গঠন করে ফেলবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, 6G নেটওয়ার্ক, রোবটিক চিকিৎসা, মেটাভার্স শিক্ষা—এসব শুনতে হয়তো এখনো কল্পনার মতো, কিন্তু আগামী ১০ বছরেই এই কল্পনা বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে। তবে এই রোমাঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে আছে চ্যালেঞ্জ—গোপনীয়তা, কর্মসংস্থান, তথ্য নিরাপত্তা, এবং মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো। তাই ভবিষ্যতের জন্য কেবল প্রযুক্তি জানলেই হবে না, চাই সচেতন ব্যবহার, নৈতিক চিন্তা, আর নতুন দক্ষতায় নিজেকে গড়ে তোলা। আমরা সবাই এই রূপান্তরের অংশ। এখন প্রশ্ন হলো— “আপনি কী ভাবছেন? আগামী ১০ বছর আপনি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন?”
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একজন তরুণ, মুসলিম, প্রগতিশীল নেতা—জোহারান মামদানি। তার বয়স মাত্র ৩৩ বছর, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি নিউইয়র্কবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন সাহসী বক্তব্য, সমাজকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং ভিন্নধারার রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে। অনেকেই বলছেন, নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে পারেন এই মুসলিম তরুণ। মামদানির পরিচয় জোহারান মামদানি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-উগান্ডীয় বংশোদ্ভূত। তার মা বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার, আর বাবা মোহাম্মদ মামদানি একজন নামকরা শিক্ষাবিদ। মামদানি শৈশবেই উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কেই বড় হন। তিনি বর্তমানে অ্যাস্টোরিয়াতে বসবাস করেন এবং পেশাগতভাবে একজন হাউজিং কাউন্সেলর থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন। রাজনীতিতে প্রবেশ ২০২০ সালে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের সমর্থনে কুইন্স জেলার ৩৬ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তিনি নিজেকে "জনগণের প্রতিনিধি" হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি গৃহহীন, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। তার মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফ্রি পাবলিক বাস সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জোহারান মামদানি এখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের জন্য বিবেচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। প্রথাগত রাজনীতিবিদদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ও অভিবাসীদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন, তবে এটি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে। মুসলিম পরিচয় এবং নেতৃত্ব একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে মামদানি কখনও নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকাননি। বরং তিনি ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজসেবা ও ন্যায়ের কথা বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। তিনি ‘Students for Justice in Palestine’ নামক সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও ন্যায়ের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উপসংহার জোহারান মামদানি শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। একদিকে তার তরুণ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নতুন দিশা দিতে পারে। নিউইয়র্কবাসীর আশাবাদ—এই তরুণ যদি মেয়র হন, তবে নগরবাসীর প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা এক নতুন ইতিহাস দেখতে পারি।