আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। সম্পদের বড় অংশই অস্থাবর সম্পত্তি, যেখানে শেয়ার, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য।
৬৪ বছর বয়সী আফরোজা খানম রিতা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত চিত্র
হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, আফরোজা খানম রিতার বার্ষিক মোট আয় ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আসে চাকরি থেকে। মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বছরে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বেতন গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া কৃষিখাত থেকে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ আয় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও অন্যান্য আমানত থেকে আয় ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩৮ টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তিতে শেয়ারের আধিপত্য
অস্থাবর সম্পত্তির হিসাবে তাঁর নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৯ টাকা। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪১ লাখ ৭ হাজার ৭৫৯ টাকা।
সবচেয়ে বড় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা শেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৮ টাকা। এ ছাড়া স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৮৫১ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর একটি ব্যক্তিগত গাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ৭৮ লাখ টাকা। তাঁর কাছে রয়েছে ১৬৪ ভরি স্বর্ণালংকার। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৮ টাকা।
উল্লেখযোগ্য স্থাবর সম্পত্তি
মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর বড় মেয়ে আফরোজা খানম রিতার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে কৃষিজমি রয়েছে ১৭ শতাংশ এবং অকৃষিজমি রয়েছে ৬২৭ শতাংশ।
এ ছাড়া রাজধানীর গুলশান ও মগবাজার এলাকায় তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।
কর পরিশোধের তথ্য
কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আফরোজা খানম রিতা নিজে আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৯ টাকা। তাঁর স্বামী একই অর্থবছরে কর দিয়েছেন ৮ লাখ ২৪ হাজার ১২২ টাকা।
এ ছাড়া তাঁদের তিন সন্তান যথাক্রমে ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা, ১৫ লাখ ১৯ হাজার ১৬৪ টাকা এবং ২২ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। ফলে ওই অর্থবছরে তাঁদের পরিবারের মোট কর পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৫ টাকা।
মোট সম্পদের হিসাব
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আফরোজা খানম রিতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ কোটি ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৮ টাকা।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কৃষি জমিতে ড্রিল ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে দেবাশীষ মন্ডলকে ভ্রাম্যমান আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষীখালী গ্রামে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ সরকারের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এই মামলায় দেবাশীষকে বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ৫(১) সংশোধন ১৫(১) ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়। উপজেলা প্রশাসক অতীশ সরকার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কৃষি জমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফসলী জমি নষ্ট হওয়ার ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। জনস্বার্থে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পৈত্রিক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর মজুমদার বাড়িতে কুলখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে শিশুশ্রম নিরসনে একটি বিভাগীয় কর্মশালা বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর ন্যাশনাল অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। তিনি বলেন, “শিশুশ্রম শুধুমাত্র শ্রম আইন লঙ্ঘন নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।” বিশেষ অতিথি রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ বলেন, “শিশুশ্রম নির্মূলে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। শিশুরা শিক্ষায় ফিরলে সমাজ ও রাষ্ট্র দুটোই উপকৃত হবে।” প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া শিশুশ্রম নিরসনের বিষয়ে বলেন, “শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল এবং অন্যান্য খাতে শিশুশ্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করতে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” কর্মশালায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান পুলিশি ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, “শিশুশ্রমের সঙ্গে মানবপাচার, মাদক ও অপরাধ জড়িত থাকার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে শিশুদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফখরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য, অভিভাবকদের অজ্ঞতা ও শিক্ষার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দাবি করেন। আইএলও বাংলাদেশের জাতীয় পরামর্শক হালিমা আক্তার জাতীয় প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম পরিস্থিতি এবং আইএলও’র সহায়তা তুলে ধরেন। এছাড়া ইউসেপ বাংলাদেশ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহিনুল ইসলাম শিশুশ্রম নিরসন ও কর্মসংস্থানে সংস্থার ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। কর্মশালায় ভবিষ্যৎ করণীয় ও সমন্বিত উদ্যোগ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিবগণ, ডিআইএফই-এর বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি অংশ নেন। কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, কর্মশালাটি “টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে এবং ডেনমার্ক ও সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।