খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে কৃষি বিপ্লব ঘটবে এবং অনাবাদি জমি আবার উৎপাদনের আওতায় আসবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে তেরখাদা মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে কৃষক দলের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি সরকার গঠন করলে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, মৎস্য খাত সম্প্রসারিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া অঞ্চলে পানির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। খাল খননের মাধ্যমে এসব এলাকায় কৃষি ও মৎস্য চাষের সম্ভাবনা তৈরি করা হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি আজ শুধু একটি দলের নেত্রী নন, সকল রাজনৈতিক দল ও ধর্মের মানুষের কাছে ঐক্যের প্রতীক। নারী ক্ষমতায়ন ও নারীর রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয়। পরে সন্ধ্যায় তেরখাদার সাচিয়াদাহ বাজারে আয়োজিত আরেক দোয়া মাহফিলেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন আজিজুল বারী হেলাল।
খুলনা প্রেসক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালেও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনের এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “ক্ষমতার অহংকার ও কর্তৃত্ববাদ শেষ পর্যন্ত শাসকের অপমানজনক পরিণতি ডেকে আনে। গণতান্ত্রিক উদারতা একজন নেতাকে ইতিহাসে সম্মানের আসনে বসায়। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনীতি তার প্রমাণ।” তিনি আরও বলেন, শাসনামলে খালেদা জিয়া ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল ছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সন্ত্রাস দমনসহ দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। শোকসভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। সভা শুরু হয় কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে, পরিচালনা করেন এমইউজে খুলনার সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে খুলনা অঞ্চলের কয়েকটি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এস কে আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম। এক স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১% ভোটারের সমর্থন সূচক স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে খুলনা-৩ আসনে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনেও তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের তৃতীয় দিনে খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনে মোট ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ, ৩ জন বাতিল এবং ১ জনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণের পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।