শিরোনাম

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনা, জনমনে প্রত্যাশা ও প্রশ্ন

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনা, জনমনে প্রত্যাশা ও প্রশ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে গড়ে উঠছে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’-এর ১৮(১)(ঘ) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের নেতিবাচক ধারণার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিন্ডিকেটকে গুলিয়ে ফেলছেন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলো প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নির্বাহী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ। উপাচার্যের নেতৃত্বে এই পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, নিয়োগ, বাজেট এবং একাডেমিক নীতিনির্ধারণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুমোদন করে থাকে।

আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি অনুমোদন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি, এবং একাডেমিক কার্যক্রম ও ডিগ্রি অনুমোদন।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্থানীয় সমস্যাগুলো আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নবগঠিত সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর