ফজল কাদির, নীলফামারী>
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দী এখনও জীবিত রয়েছেন। অথচ গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ।” এ বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সংসদে নিজের বক্তব্যে এমপি আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।”
তবে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ধলাগাছ এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দী জীবিত আছেন। এছাড়া সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে এমপির আরেকটি বাসা রয়েছে, যেখান থেকে তিনি রাজনৈতিক ও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এদিকে সংসদে দেওয়া বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার নির্বাচনী হলফনামা ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করতে শুরু করেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা এবং উন্মুক্ত তথ্যভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। বক্তব্যের শেষদিকে সংসদ সদস্য নিজেও তার জন্মসাল ১৯৮১ বলে উল্লেখ করেন।
এ তথ্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় এক দশক পরে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?
সমালোচনার মুখে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “আমি বোঝাতে চেয়েছি আমার বাবা-দাদাদের মধ্যে যুদ্ধে শহীদ আছেন। আমি আক্ষরিকভাবে আমার বাবা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, তা বোঝাইনি। আমার বাবা এখনও জীবিত। আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তিনি আমার বাবার চাচা।”
তিনি আরও বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনে দেওয়া কোনো ত্রুটিপূর্ণ বক্তব্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সংসদের কার্যবিবরণী বা রেকর্ড থেকে সংশোধন বা অপসারণের ক্ষমতা রাখেন।