শিরোনাম
মুনাফাহীন ব্যবসাই সমাজ বদলের শক্তি: ড. মঈন খান
মুনাফাহীন ব্যবসাই সমাজ বদলের শক্তি: ড. মঈন খান

সামাজিক ব্যবসাকে প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণার বিপরীতে একটি যুগান্তকারী মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে সমাজকল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়াই সামাজিক ব্যবসার মূল দর্শন, আর এ কারণেই এটি একই সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, ‘মুনাফা অর্জন এবং সমাজকল্যাণের মধ্যকার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বই সামাজিক ব্যবসাকে যুগান্তকারী করেছে। মুনাফাহীন ব্যবসা পরিচালনা একটি মহৎ চ্যালেঞ্জ, তবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সামাজিক ব্যবসা’ শব্দবন্ধটি আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্যপূর্ণ মনে হলেও এর লক্ষ্য ব্যক্তিগত লাভ নয়, বরং সমাজের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

প্রচলিত ব্যবসায়িক কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য কেন্দ্রীভূত হয়, যেখানে সামাজিক ব্যবসার লক্ষ্য হলো উদ্বৃত্ত অর্থ পুনরায় সমাজের কল্যাণে বিনিয়োগ করা। গ্রামীণভিত্তিক পুষ্টি উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের মডেল বাস্তবায়ন সম্ভব এবং তা ইতোমধ্যে সফলতার প্রমাণ দিয়েছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অবদানের কথা স্মরণ করে ড. মঈন খান বলেন, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি থেকেই সামাজিক ব্যবসার ধারণার বিকাশ ঘটেছে।

নিজের শিক্ষকসত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানসিকভাবে আমি একজন শিক্ষক। জ্ঞান অর্জন করতে হলে প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংকটময় সময়ে তারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর মতে, নাগরিক সাহস ও সামাজিক ব্যবসার উদ্যোক্তাসুলভ মানসিকতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে—উভয় ক্ষেত্রেই প্রচলিত ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার সাহস প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতেও দক্ষ, উদ্ভাবনী ও সমাজমুখী নেতৃত্ব গড়ে তুলবে।

সম্মেলনে শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা এবং সামাজিক ব্যবসার বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দারিদ্র্য, বৈষম্য ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

রংপুরে হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে আলু চাষিদের সড়ক অবরোধ
রংপুরে হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে আলু চাষিদের সড়ক অবরোধ

হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর মর্ডান মোড় এলাকার তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস পেলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন প্রতি ৬০ কেজি বস্তার জন্য ৪৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, কিন্তু বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “ভাড়া সর্বোচ্চ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।”

অন্যদিকে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যেই সংরক্ষণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং বিদ্যুৎসহ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।