নীলফামারীতে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিন হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টায় সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে “শোকাহত এলাকাবাসী” ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সৈয়দপুর থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত আফাজ উদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন ও আবু বকর সিদ্দিক, মেয়ে রেহেনা বেগম, এলাকাবাসী সামিউল ইসলাম, মোক্তার হোসেন, মো. তাহের হোসেনসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। এতে নিহতের পরিবার চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের দাবি, ঘটনার পর পুলিশ শুরু থেকেই মামলা গ্রহণে অনীহা দেখায়। পরে স্বজনরা লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করলে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
তারা আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা এলাকায় অবস্থান করলেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে দাবি করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ তোলেন বক্তারা। এতে পরিবারটি একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানান তারা।
বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে এবং আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন ভোরে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া এলাকায় নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন তার বাবা আফাজ উদ্দিন (৭০)। পরে তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে গত ৬ জুন -এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পরও তিনদিন মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে ৮ জুন লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও কর্মসূচির পর মামলা নথিভুক্ত হয়। মামলায় প্রতিবেশী আব্দুল জব্বার, তার ছেলে আব্দুস সালামসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ ও জমিতে গাছের পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।