ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের আয়োজনে এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসের বাস্তবায়নে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত। এছাড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ (পিপিএম), জেলা নির্বাচন অফিসার এস. এম. শাহাদাত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু রায়হান, মহালছড়ি থানার ওসি মির্জা জহির উদ্দিন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপুল বিকাশ খীসা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে ১৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৩ জন পুলিং অফিসার ও ১৪৯ জন সহকারী পুলিং অফিসার অংশ নেন। এতে নির্বাচন আইন, আচরণবিধি, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, ব্যালট ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষিত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় জনগণের আস্থা বাড়াবে।
শেরপুরের নকলায় সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের কুর্শা বাইপাস মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নাজিফ (১২) নামের এক শিশু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত নাজিফ জামালপুর সদর উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তার মা ও দুই ভাই-বোন অটোরিকশায় ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুর্শা বাইপাস মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে নাজিফ ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতরা হলেন তার মা সুমা আক্তার, দুই সন্তান নাহিদ ও নওশিন এবং অটোরিকশার চালক। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সুমা আক্তার ও নাহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্য দুইজন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র গোপ জানান, দুর্ঘটনাক্রান্ত বাসটি আটক করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে দুটি বিদেশি জাহাজ। ভারতের কোলকাতা বন্দর থেকে পানামা পতাকাবাহী ‘এইচ টি পাইনিওর’ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন এবং ভিয়েতনাম পতাকাবাহী ‘হোয়াংটন-৮৯’ জাহাজে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। স্থানীয় শিপিং এজেন্ট সেভেন সিয়েস–এর ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানান, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এই চাল আমদানি করা হয়েছে। কোলকাতা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ দুটি মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে চাল খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বড় জাহাজ থেকে চাল খালাস করে ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি খাদ্যগুদামে পাঠানো হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে জাহাজ দুটি থেকে পুরো চাল খালাস সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে মোংলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবাহান সরদার জানান, জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় সরকার ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে মোট আট লাখ টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোংলা বন্দরে এটি নবম চালান। তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা ও সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানি করা হচ্ছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত এই চালের মধ্যে নন-বাসমতি চালের পরিমাণ বেশি, যা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতের পেট্রাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়েও নিয়মিত চাল আমদানি হচ্ছে, যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখল ও আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকায় প্রবেশের জন্য একসময় ‘বিশেষ পরিচয়পত্র’ দেখাতে হতো এবং সশস্ত্র পাহারার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহজে সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন না। বহুবার অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে প্রশাসনকে ফিরে আসতে হয়েছে। তবে গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানের পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে। প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত ওই অভিযানে কোনো রক্তপাত ছাড়াই পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের পর জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও প্লট–বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ছোট ছোট প্লটে জমি ভাগ করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের পর থেকে নতুন করে জমি কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং আগের ক্রেতারাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং একাধিক মামলায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে এলাকাটিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এদিকে জঙ্গল সলিমপুর দখলমুক্ত হওয়ার পর সেখানে স্থগিত থাকা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কারাগার, মডেল মসজিদ, আইটি পার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি, পরিবেশগত ক্ষতি এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।