হত্যাসহ ৪৭ মামলার আসামি খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল আলমকে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মির্জা সায়েম মাহমুদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির একটি দল ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে। সে সময় তিনি ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ অন্তত ৪৭টি মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে খাগড়াছড়িতে নেওয়া হবে।
গ্রেফতারকৃত রফিকুল আলম দুই মেয়াদে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের ভাই।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক আব্দুর রাজ্জাক (৭২) উপজেলার বহেরা গ্রামের মৃত সুজাত আলী সরদারের ছেলে। মামলার এজাহারে জানা যায়, ধর্ষিত কিশোরী আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিবেশী। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন করে আসছেন তিনি। পরে বিষয়টি জানা জানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ মার্চ (বুধবার) দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে মাঠে নেমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে রাতেই গ্রেপ্তার করেন। এছাড়াও আব্দুর রজ্জাকের বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে একই ভিক্টিমের প্রতিবন্ধী বোন ও মাকে শারীরিক নিপীড়ন করার অভিযোগ রয়েছে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে দুপুরে ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের দারোয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে আদাবর থানাধীন রিং রোডে অবস্থিত বেগম নুরজাহান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ কাঠা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন বিদ্যালয়ের দারোয়ান ধলু শিকদার। বিষয়টি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জায়গা খালি করেননি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকেও তাকে পুনরায় লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় জমিটি খালি করার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শিক্ষক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধলু শিকদারকে এক মাসের সময় দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়। অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন শিক্ষক সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় ধলু শিকদার ও তার স্ত্রী পারভীন তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। এ সময় তাদের মেয়ে তানজিলা আক্তারও পেছন থেকে হামলায় অংশ নেন। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক আদাবর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ দারোয়ান ধলু শিকদারকে গ্রেফতার করেছে। আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং এর মধ্যে ধলু শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য কাজী রেজাউল ইসলাম (৪০) গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এএসআই অসিম রায় ও এএসআই মিন্টু বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল ছোট বাহিরদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। রেজাউল ইসলাম বিভিন্ন থানায় দায়ের করা চারটি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।