যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড থেকে ওয়াশিংটনগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে বরুণ অরোরা (৩৮) নামের ভারতীয় এক যাত্রী ঘুমানোর ভান করে পাশে বসা নারী সহযাত্রীর গায়ে বারবার স্পর্শের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী অবতরণের ঠিক আগে অরোরার অশ্লীল আচরণ লক্ষ্য করেন।
ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই তদন্তের পর, ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মঞ্জুর হয়। মামলার তদন্ত ও প্রসিকিউশন পরিচালনা করেছেন বিশেষ সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ম্যাডিসন মুমা ও সহকারী অ্যাটর্নি রাসেল এল কার্লবার্গ।
দোষী সাব্যস্ত অরোরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। বিচারক আগামী ৭ মে সাজা নির্ধারণ করবেন; সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দণ্ড দুই বছরের কারাদণ্ড।
উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ব্রিটেনে ৩৪ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক জাভেদ ইনামদারকে ২১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের ষষ্ঠ দিনে দেশটিতে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের মধ্যে বহুজন নিহত হয়েছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারের ওপরে পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের ২০টির বেশি নৌযান ডুবিয়ে ফেলেছে এবং ৪৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তা হত্যা করেছে। এছাড়া, কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের সীমান্ত অতিক্রম করে স্থল অভিযানে অংশগ্রহণ শুরু করেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হোয়াইট হাউসের বর্ণনা অনুযায়ী, ইরানের শাসনব্যবস্থা প্রায় চূর্ণবিচূর্ণ, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, “আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করছি।” সংঘাতের এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা আজ সন্ধ্যায় তেহরানে হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও টাইমস অব ইসরায়েল। টেলিভিশনের বরাতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রচুর মানুষ জানাজায় অংশ নিতে আসার কারণে যথাযথ পরিকাঠামো ও আয়োজন নিশ্চিত করতে আরও সময় প্রয়োজন। তাই অনুষ্ঠানটি পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। খামেনির মৃত্যু গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ঘটে। তার মৃত্যুতে রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে। নিরাপত্তা ও লজিস্টিক কারণে জানাজা স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার (০৪ মার্চ) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানে খামেনির মৃত্যুর পর যে ব্যক্তিকেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে, তাকে হত্যা করা হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে উল্লেখ করেন, যেকোনো নেতা যদি ইসরায়েলকে ধ্বংস, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং ইরানি জনগণকে দমন-নিপীড়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তার নাম এবং অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, তাকে নিশানা বানানো হবে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘোষণা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।