খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে মোট ২৯৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। খুলনায় ৬০, কুষ্টিয়ায় ১০৩, যশোরে ৫৯ এবং অন্যান্য জেলায় ৭৬ শিশুর চিকিৎসা চলছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়েদা রুকছানা পারভীন জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক, আক্রান্ত শিশুদের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই সংক্রমণ ছড়ায়। টিকা না নেওয়া বা অপুষ্ট শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে। হাসপাতাল নিজস্ব আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছে, কিন্তু শিশুদের জন্য আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই।
ডা. মুজিবর রহমান, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, ছুটির কারণে সব জেলার হালনাগাদ তথ্য হাতে আসেনি, তবে আক্রান্ত ও ভর্তি শিশুদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আইসিইউ প্রয়োজন হলে রোগী ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে।
চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি এবং রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খুলনায় হামের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ মাটি ও বালু পরিবহনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রহিম (৪৫)সহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত আবদুর রহিম জানান, প্রতিপক্ষ বাবর গ্রুপ অবৈধভাবে মাটি ও বালু পরিবহন করছিল। তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা আলাউদ্দিন জিকু পরিবহনে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বাবর গ্রুপের সদস্যরা প্রথমে জিকুর ওপর চড়াও হয় ও গালিগালাজ করে। পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তারা লাঠিসোটা, পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবদুর রহিমের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর হামলার খবর পেয়ে তার তিন ভাই ও এক খালাতো ভাই ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। আহতদের মধ্যে জহির (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৪৮), আলাউদ্দিন জিকু (৫৭)সহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। আহতরা ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাবর দাবি করেছেন, তার মাটিবাহী গাড়ির চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ড্রাইভারকে মারধর করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তলব ও তদন্ত চলছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিজের মালিকানাধীন একটি গাড়ি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাসসকে ভাড়া দিয়েছিলেন, যা মাসে দেড় লাখ টাকায় চুক্তিভিত্তিক ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে, কারণ এমডি পদে থাকার সময় তাঁর নিজস্ব ব্যবহারার্থে সংস্থার গাড়িও ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুই বছরের জন্য এমডি হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুব মোর্শেদ। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বাসসে কর্মীদের বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়ে তিনি অফিস ত্যাগ করেন। ১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে। তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে গাড়িভাড়া ছাড়াও নিজের বেতন-ভাতা নির্ধারণ, পদ না থাকলেও নিয়োগ, কর্মীদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, মাহবুব মোর্শেদ নিজ উদ্যোগে মাসিক বেতন ও বিশেষ ভাতা নির্ধারণ করে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা গ্রহণ করতেন। এছাড়া বিভিন্ন বিলও তিনি আলাদাভাবে উত্তোলন করেছেন। বাসস সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর সময়ে নতুন পদ তৈরি না করেই ২২ জনকে স্থায়ী ও ৪১ জনকে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমন পদে দায়িত্ব দেওয়ায় সংস্থার ভাতা কাঠামো অমান্য হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এবং সরকারী তদারকি ছিল অজ্ঞাত। এই ঘটনায় সরকারের অনুসন্ধান কমিটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে, তবে প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। অনুসন্ধানকারীরা মনে করছেন, এমডি পদে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত স্বার্থ সংস্থার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এটি গুরুতর প্রশাসনিক ও আইনগত ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানীর কদমতলীর আল বারাকা হাসপাতালের পাশে একটি গ্যাসলাইট কারখানায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয়রা প্রথমে কারখানার ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পান, পরক্ষণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গ্যাসলাইট কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন পাশের ভবনগুলোতে ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।