ন্যায়বিচারের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের সামনে টানা ২৪ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী) বিকেল ৩টা থেকে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে একাকী এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ডক্টর এম এ রশিদ হলের ১১৫ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনের পর তার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাকে ৫২ দিন কারাভোগ করতে হয়। পরে তিনি মামলাটি থেকে অব্যাহতি পেলেও মানসিক ট্রমা ও আতঙ্কের কারণে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি।
জাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেই তদন্ত ছিল অস্পষ্ট ও একপেশে। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছাত্রদের নাম উঠে এলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাকে রক্ষা করার কথা ছিল, তারাই পরে মিথ্যা মামলার সাক্ষী হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি ভিকটিম হওয়া সত্ত্বেও কুয়েট প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ায়নি। বরং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের আজও বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিচার চেয়ে তিনি একাধিকবার লিখিত আবেদন, মৌখিক অনুরোধ এবং হাইকোর্টের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও কুয়েট প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি। এমনকি ১৪ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া নোটিশেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমার ব্যাচের সবাই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে। আমি একা লড়ছি। প্রশাসন মামলা করে না, আমাকে মামলা করতেও সহযোগিতা করে না, আবার তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করে না। আমি বিচারহীনতার শিকার।
তিনি আরও বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাকে বা তার পরিবারকে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতেও তিনি বাধার মুখে পড়ছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে, তা আজও প্রকাশ্যে না আসায় পুরো বিষয়টি অস্বচ্ছ রয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কুয়েট প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জাহিদুর রহমান বলেন, আমি যদি জীবিত থাকি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে এক বিন্দুও নড়ব না। বিচার না পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব না।
এদিকে টানা ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি বলে জানান ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
৩৮ লাখ টাকার আত্মসাৎ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাহি চৌধুরী অর্ণবকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে এবং আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকের ‘ইনভেস্টর গ্রুপ’-এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী মো. শাকিরুল ইসলাম হিমেলের সঙ্গে পরিচয়ের পর মাহি চৌধুরী নিজেকে ব্যবসায় অংশীদার পরিচয় দিয়ে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান। পরে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও নগদে ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ১৫০ টাকা গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ ফেরত না দিয়ে তিনি আত্মগোপন করেন এবং টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। মামলায় মাহি চৌধুরীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ২৮ মার্চ তাকে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি তহবিলের মাধ্যমে নির্মাণ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৭১টি বীর নিবাস ভবনের অধিকাংশ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ঘরগুলো আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে, গ্রিলে মরিচা ধরছে, টাইলস উঠে যাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ-স্যানিটেশনের কাজও অনেক ভবনে অসম্পূর্ণ। পুটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী হাওলাদারের ভবনে স্যানিটেশন ও বিদ্যুতের কাজ বাকি থাকলেও বোর্ড খসে পড়ছে, দরজায় ছিটকানি লাগছে না। নজরুল ইসলাম শিকদারের ভবনেরও তিন বছর ধরে ৪০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ। বস্তাভর্তি সিমেন্ট গুড়ো করে ব্যবহার করা হয়েছে, পলেস্তরাও ব্যবহার হয়নি। পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারইখালী গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী আবু তালেব খানের ভবনের বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন কাজ অসম্পূর্ণ। সামছুর রহমান শরীফের ভবনেরও পলেস্তরা খসে পড়ছে, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, তার স্ত্রী অসহায়ভাবে অসম্পূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভবনেরও কাজ অসম্পূর্ণ, নতুন ভবনে ওঠার আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদাররা বারবার কাজ স্থগিত রাখছে, ফোন ধরছে না এবং বর্ষার আগে কাজ শেষ করা হচ্ছে না। প্রাপ্ত সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করছেন, সরকারিভাবে প্রদত্ত বীর নিবাসে পরিবারসহ নিরাপদভাবে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হোক। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বাবুল বলেন, অনেক ভবনের কাজ কম মানের ও অসম্পূর্ণ। তিনি বর্ষার আগেই সকল অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, মাঝপথে কাজ থেমে যাওয়ায় ঠিকাদারদের তাগিদ দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। বীর নিবাস প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহও জানিয়েছেন, যথাসম্ভব দ্রুত বাকী কাজ সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বরিশাল শহরে স্কুলছাত্রী চৈতির মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দোষী অটোচালকের দ্রুত বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজ সড়কের শের-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টারও বেশি সময় শিক্ষার্থীরা যান চলাচল বন্ধ রাখেন। এতে এলাকায় দীর্ঘ যানজট ও উত্তেজনা তৈরি হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, দোষী অটোচালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং নগরীর অবৈধ অটো চলাচল বন্ধ করা হবে। শিক্ষার্থীরা প্রশাসকের আশ্বাসে ক্লাসে ফিরে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার স্কুল ছুটি শেষে চৈতি স্কুলের সামনে সড়ক পার হওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান। এলাকার মানুষ অভিযোগ করেছেন, পূর্বেও একই সড়কে প্রাণহানি ঘটেছে, কিন্তু দোষীদের বিচার না হওয়ায় পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানান, চৈতির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শহরে অবৈধ অটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুনরায় প্রাণহানি রোধ করা যায়।