খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনা রতন চাকমা ও গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী দীনময় রোয়াজা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে তাদের মনোনয়নপত্র ফিরে পেয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে দুই প্রার্থী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সোনা রতন চাকমা জানান, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় কিছু ভোটারের নম্বর অসম্পূর্ণ থাকায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। পরে তিনি ইসিতে আপিল করলে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, “১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়া খুব কঠিন। সামান্য ভুলের জন্য নির্বাচন কমিশনে আসা ভোগান্তিকর।”
দীনময় রোয়াজা জানান, ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত একটি ছোট সমস্যা থাকায় আপিল করতে হয়েছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার পর কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, ৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র ও গণঅধিকার প্রার্থীরা এবার আপিল করে মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। জেলা নির্বাচন অফিসার এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, বাকিদের মনোনয়ন বিষয়ে কমিশনে আপিল প্রক্রিয়া চলমান।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র ও জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়া এক কিশোরীকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদীর কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেতে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরীর বাবা বরিশালের বাসিন্দা। কাজের কারণে পরিবারসহ তিনি মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে নূরার নেতৃত্বে ৫–৬ জনের একটি দল মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপরও এলাকার মেম্বার আহমদ মীমাংসার চেষ্টা করলেও পরিবার বিচার পায়নি। গতকাল বিকেলে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে ফেরার পথে স্থানীয়রা মেয়েটিকে বাবা থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরিবারের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আজ সকালে সরিষা ক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। লিখিত অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি, তবে অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে থাকা স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে এলাকার নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া ও তার সমর্থকরা মানববন্ধনে এসে বাধা দেন। এর আগে বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচি পালন করতে গেলে অংশগ্রহণকারীদের গালাগালি করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন নারী ও একজন পুরুষকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নূর শাখাওয়াত হোসেন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। তবে আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি নিজ কার্যালয়ে যোগদান করতে পারছেন না বলে দাবি করেন বক্তারা। তাদের অভিযোগ, মানববন্ধন চলাকালে বাদল মিয়া ও তার সহযোগীরা ব্যানার ছিনিয়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমজাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন মানববন্ধনকারীদের মারধর করেন। সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদেরও বাধা দেওয়া হয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল-স্লোগান করিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, আদালত অধ্যক্ষকে স্বপদে বহালের রায় দিয়েছেন। তার দায়িত্বকালে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের হার প্রায় ৯৯ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সাংবাদিক নেতারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন মানববন্ধনের আয়োজকরা। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কিনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শহরের হাওয়ালদারপাড়া এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও যুবক সবাই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, অনেকেই পণ্য সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর পৌরসভা ও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১৮ হাজার ২১১ জন টিসিবি কার্ডধারী রয়েছেন। পৌরসভার ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের জন্য মেসার্স সাকিল ট্রেডার্স পণ্য সরবরাহ করছে। তবে প্রতিটি প্যাকেজের (৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি ছোলা, ১ কেজি চিনি, ২০০ গ্রাম চা) ক্রয় মূল্য ৬৯০ টাকা হলেও বাজার মূল্যের তুলনায় ৩০০–৪৫০ টাকা সাশ্রয় হলেও, দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। রিকশা ভ্যানচালক জয়নুল আবেদীন বলেন, “পণ্য নিতে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সংগ্রহ করতে পারি না। এতে রোজগারও বন্ধ থাকে।” অন্যান্য ক্রেতারাও রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অসুবিধার কথা জানাচ্ছেন। পণ্য সরবরাহকারি সাকিল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাকিল বলেন, “কার্ডধারীর সংখ্যা বেশি এবং খুচরা টাকা নিয়ে সমস্যা থাকায় বিতরণ ধীর। তবে যথাসম্ভব দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”