আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি)-কে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভার্চুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকে প্রতিক্রিয়া জানাবে আইসিসি।
পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে তথ্য দেয়নি, তবে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকার আজই ই-মেইলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানাবে। আইসিসি জানিয়েছে, নির্বাচিত কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়া হলে তা টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও চেতনা ক্ষুণ্ন করবে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আর্থিক জরিমানা, ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সীমাবদ্ধতা।
আইসিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্প্রচারক সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য পিসিবিকে দায়ী করা হতে পারে এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট বিশ্ব ক্রিকেট এবং কোটি কোটি ভক্তদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।
২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদ ও লিনউড ইসলামিক সেন্টারে জঙ্গি হামলায় ৫১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। জুমার নামাজ চলাকালীন ঘটে যাওয়া ওই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সামীরস্ক্যান পডকাস্টে তামিম বলেন, “হোটেলে ফিরে আমরা মাহমুদউল্লাহর রুমে বসে ভিডিও দেখছিলাম। সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। ঘটনার পর প্রায় ৪০ দিন আমি ট্রমার মধ্যে ছিলাম।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলাকারী মুসলিমদেরই লক্ষ্য করছিল এবং তাদের পাঞ্জাবি ও টুপি পরা অবস্থাই তাকে হোঁচট লাগিয়েছিল। তিনি জানান, দলের বাস চালকের সামান্য দেরির কারণে তারা প্রাণে বেঁচে যান। “ড্রাইভার পুরো সিগারেট শেষ করেছিল, ফলে আমাদের পৌঁছতে দেরি হয়। যদি আমরা সময়মতো পৌঁছাতাম, হয়তো কেউই বেঁচে থাকতাম না,” উল্লেখ করেন তামিম। হামলার প্রেক্ষাপট, নিহতদের দৃশ্যাবলী এবং পুলিশের দ্রুত প্রতিক্রিয়া তামিমের বর্ণনায় স্পষ্ট। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ওপর দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল শক্তিশালী চীনের কাছে ২-০ গোলে হারল, তবে দৃষ্টিকোণ প্রশংসনীয়। সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ দৃঢ় মনোভাব দেখিয়েছে। প্রথমার্ধে চীনের দুই গোল আসে শেষ মিনিটে, কিন্তু বাংলাদেশের মিডফিল্ড এবং রক্ষণভাগ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন আনা হয়, মিলি আক্তারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং নতুন খেলোয়াড়দের অভিষেক নজরকাড়া ছিল। গোল ব্যবধান বৃদ্ধি করতে না পারলেও বাংলাদেশ ফিটনেস ও লড়াকু মনোভাবের দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রদর্শন করেছে।
হোয়ান লাপোর্তার পদত্যাগের পর ফের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে এফসি বার্সেলোনা। ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন লাপোর্তা, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ভিক্টর ফন্ট। আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্লাবের ভবিষ্যৎ কাঠামো, ক্রীড়া দর্শন ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বার্সেলোনার দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও জাভি হার্নান্দেজের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জাভি প্রকাশ্যে ভিক্টর ফন্টের পক্ষে অবস্থান নিলেও, লিওনেল মেসি এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও স্পোর্তসহ একাধিক ইউরোপীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা এবং বর্তমানে ক্লাবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা না থাকায় মেসি এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন না। একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বা প্রকাশ্য সমর্থন দিতেও আগ্রহী নন। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সভাপতি লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। আবার ভিক্টর ফন্ট জয়ী হলে মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করার ঘোষণা দিলেও, সে আহ্বানেও এখনো সাড়া দেননি আর্জেন্টাইন তারকা। বার্সেলোনার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেসি ক্লাবের আজীবন সদস্য হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন, তবে ভোট না দেওয়াকে ক্লাবের প্রতি অনাগ্রহ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি দূর থেকেই ক্লাবের মঙ্গল কামনা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে মেসি সশরীরে ন্যু ক্যাম্পে এসে ভোট দিয়েছিলেন, যা তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকায় এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতেই এবার নিরপেক্ষ থাকার পথ বেছে নিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার। ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায় ১৫ মার্চের নির্বাচনের, যেখানে নির্ধারিত হবে বার্সেলোনার আগামী দিনের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা।