কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক মামলায় আটক মিলন মিয়া (৪৫) তার বাবার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর হওয়ায় বাবার মরদেহ কারাগারে আনা হয়, যাতে তিনি শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে পারেন।
মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবার ও আইনজীবী জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হয়েছিল। তবে অনুমতি না দেওয়ায় মরদেহ কারাগারে আনা হয়।
মরদেহ সকাল ১০টায় কারাগারে পৌঁছায়। কারাগারের ভেতরে শুধু মিলনের এক চাচাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, বাকিরা সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ পান। উপস্থিতরা বলেন, মিলন বাবার মরদেহ দেখে বারবার কেঁদে ফেলেন।
মিলনের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন বলেন, “মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তিনি একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা জানান, “মারফত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটনস্থলে পরিবার-পরিজনসহ হাজার হাজার মানুষ ঘুরতে ছুটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহর ও জেলার ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। বড়দের পাশাপাশি শিশু ও তরুণরা আনন্দের সঙ্গে ছবি তুলছে, সেলফি নিচ্ছে এবং বন্ধু ও আত্মীয়ের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছে। শহরের ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আইচক্রিম, কোকোকোলা, চা, ফুসকা ও কফি হাউসগুলোতে তরুণদের ক্রমাগত চাহিদা মেটাতে বিক্রেতাদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। দর্শনার্থীরা ঘুরেছে সাতক্ষীরা দেবহাটার বনবিবি তলা (বটগাছ), রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র, সীমান্তের ইছামতি নদীর তীরের টাকীর ঘাট, সুন্দরবনের কলাগাছিয়ার আব্দুর রাজ্জাক শিশু পার্ক, শহরের মোজাফ্ফর গার্ডেন, মুন্সিগঞ্জের আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম, উড়াল উড়াল মন ট্যুরিজম, কারামোরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ, লিমপিড গার্ডেন, শ্যামনগর জমিদার বাড়ি, নলতা রওজা শরীফ ও সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দিরসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় কেন্দ্রগুলোতে। শিশু ও তরুণদের সঙ্গে অভিভাবকরাও সাময়িকভাবে আনন্দে মগ্ন থাকলেও পুরো পরিবার মিলিয়ে সময় কাটাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরে পিকআপ, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে আসে হাজার হাজার মানুষ। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজ আক্তার বলেন, ঈদের দিনে মানুষ তাদের নিজ এলাকায় ফিরে এসেছে এবং অনেকেই বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরতে বের হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা মাতোয়ারা আনন্দে মুখরিত, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই ঈদের ছুটিকে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করছে।
প্রত্ম সংগ্রাহক ও গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান (৮৮) আর নেই। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের বটেশ্বর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় বটেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে তাঁকে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর। এক টাকায় ঈদের নতুন জামা দেওয়ার পর এবার খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ১ টাকায় সেমাই, চিনি ও দুধ বিতরণ করে নতুন চমক দেখিয়েছে তারা। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে শহরের গোলাহাট রাজ্জাকিয়া গফুরিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বসানো হয় একটি অস্থায়ী দোকান। ব্যানারে লেখা ছিল— “১ টাকায় সেমাই চিনি দুধ”। আর সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে ভিড় করেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। সুবিধাভোগীরা জানান, মাত্র ১ টাকায় আধা কেজি লাচ্ছা সেমাই, চিনি ও দুধ পাওয়া তাদের কাছে অবিশ্বাস্য। রিকশাচালক মহিবুল আলম বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, প্রতিটি টাকাই গুরুত্বপূর্ণ। আজ ১ টাকায় ঈদের প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে।” সংগঠনের সদস্যরা জানান, ঈদের আনন্দে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের শামিল করতেই তাদের এই উদ্যোগ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এসরার আনসারী ও নওশাদ আনসারী বলেন, “আমরা চাই মানুষ দানের অনুভূতি নয়, নিজের অর্থে কিনে নেওয়ার আনন্দ পাক। তাই প্রতীকী মূল্য রাখা হয়েছে।” উল্লেখ্য, প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে আসছে এই সংগঠন। চলতি বছর ১ টাকার দোকানের মাধ্যমে জামা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।