হাইকোর্ট বিভাগের নাইমা হায়দার বিচারপতি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি নাইমা হায়দার স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজ স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি আনুষ্ঠা নিকভাবে নিশ্চিত করেন আপিল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
বিচারপতি নাইমা হায়দার একজন জ্যেষ্ঠ আইনবিদ ও সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর কন্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া অক্সফোর্ড, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (বার্কলি) এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষায় অংশ নেন।
আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাইমা হায়দার ১৯৮৯ সালে জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০১১ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কোনো তহবিল অবশিষ্ট নেই। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে গজ, ব্যান্ডেজ ও সিরিঞ্জ কেনার মতো মৌলিক সরঞ্জামের জন্যও পর্যাপ্ত অর্থ নেই। রোববার (২৯ মার্চ) গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি বলেন, চলমান হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পগুলোও দুর্বল পরিকল্পনার কারণে কার্যকর হয়নি। ২৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোতে প্রবেশপথে এমন ব্যর্থ নির্মাণ হয়েছে, যেখানে রোগী প্রবেশ করলেও ময়লার গন্ধে ভোগান্তি সৃষ্টিকারী অবস্থা। মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রকল্পগুলোর তড়িঘড়ি ও দুর্বল বাস্তবায়নের ফলে স্বাস্থ্যখাতের তহবিল নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন সীমিত সম্পদের মধ্যেও পর্যায়ক্রমে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটের পর ধাপে ধাপে সকল উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিরতি শেষে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে পুনরায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন, যেখানে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অধিবেশন শুরুর মধ্য দিয়ে তার সংসদীয় দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। বিরতিকালে গঠিত বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় দুটি বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশ বহাল বা বাতিলের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, তবে অবশিষ্ট ২০টি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কমিটি আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং ১১ এপ্রিলের মধ্যে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ ১০ এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটি তদন্তে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ দিনের মধ্যে ৩৩ শিশুর মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসা নৈতিকতা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিচালক ভেন্টিলেটরের অভাবের কথা জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা “ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানোর মত দায়িত্বহীনতা”। মন্ত্রী জানান, সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে দ্রুত সরবরাহ সম্ভব হয়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি বেসরকারি সহায়তায় তিনটি ভেন্টিলেটর ক্রয় করেছেন এবং আরও দুটি ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব, রোগীর প্রতি সেবা ও আচরণ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকের ওপর ঈশ্বরের মতো ভরসা রাখে, তাই নৈতিকতার প্রতি আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি অস্ত্রোপচারের পর ভুয়া সুতা, ক্লান্তি ও যৌন হয়রানির মতো অপ্রয়োজনীয় আচরণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সতর্ক করার আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও বৈশ্বিক মেডিকেল জার্নাল অধ্যয়ন জরুরি, যাতে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় থাকে।