নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে বড়ভিটা বাজার সংলগ্ন একটি ক্লাবঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাজু খান (৩৫), আসাদুজ্জামান (৪০), তানভীর আহমেদ মিজান (৩০), তানজিদ হোসেন (২৪), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও আলাল ইসলাম (৩৫)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই কাজী রিপন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা ডিজিটাল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভিসা, নকল পাসপোর্ট, ভুয়া চাকরির নিয়োগপত্র ও ব্যাংক লোনের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ, রকেট ও নগদ অ্যাকাউন্টে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। পাশাপাশি তারা অনলাইন ক্যাসিনোতে জড়িত ছিল এবং মাদক সেবন করছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এসব কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী হলেন একই ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও আব্দুল হাই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৩,৭০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এছাড়া, তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেছেন। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, মেম্বার ও তার ছেলে ও সহযোগীরা স্থানীয়দের ওপর হামলা চালিয়েছেন। একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং মিথ্যা সংবাদ প্রচার করাও অভিযোগের মধ্যে রয়েছে। ৫নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি কামাল মিয়া বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর আব্দুল হাই এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন করছেন। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুল হাই ফোনে জানান, “দলীয় লোকদের সমন্বয় করে কার্ড বিতরণ করেছি।” এ ঘটনার পর এলাকার মানুষ উত্তেজিত এবং তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বিলকিস বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি বাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বিলকিস ওই গ্রামের মাইনুল গাজীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরে রাতের কোনো এক সময় গলায় ফাঁস দেন বিলকিস। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। নিহতের চাচাতো ভাই রাব্বি হাসানসহ পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, কয়েকদিন ধরে বিলকিসের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী মাইনুল গাজী। তাদের অভিযোগ, হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মাইনুল গাজীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, নিহতের শ্বশুর আলতাফ গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে বিলকিস আত্মহত্যা করেছেন। এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যসহ প্রায় ১৭ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পূর্বখড়িবাড়ি তিস্তা পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আফসার আলি, টেপাখরিবাড়ী এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, লোকমান, পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম ও ঠাকুরদাস প্রায় ১৭ জনকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে বোমা মেশিন লাগিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। একে ওই এলাকার নদী বাধ এবং রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন নদী থেকে পাথর উত্তোলনে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। আজকে সকালের দিকে চক্রটি নদী থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করেন। সেটি জানার পরে চেয়ারম্যান কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান৷ এসময়ে পাথর উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করেন। এতে চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ গুরুতর আহত হয়। পরে থানা পুলিশ ও সাংবাদিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় চক্রের সদস্যরা। এসময়ে তিনজন পুলিশ আহত হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে ডিমলা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক পরিতোষ রায় বলেন, তিস্তা নদীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ গেলে পুলিশের ওপরও হামলাকারীরা হামলা চালায়। এতে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং পুলিশের গাড়ী ভাঙচুর করা করে হামলাকারীরা। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ইমরানুজ্জান বলেন, তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা এসেছেন। হামলাকারীদের আটক করতে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।