মাত্র একদিন পর, আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন লাখো কর্মজীবী মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও ঝুঁকি ও ভোগান্তি মাথায় নিয়েই শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা।
গত কয়েকদিন ধরেই ঈদযাত্রা শুরু হলেও শেষ সময়ে এসে বেড়েছে চাপ। বরিশালগামী বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। কেউ যাচ্ছেন ঝালকাঠি, কেউ কুয়াকাটা বা আমতলীর মতো দূরবর্তী এলাকায়। ফলে সড়ক ও নৌ—দুই পথেই যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।

ঢাকা-বরিশাল ও কুয়াকাটা মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীর কারণে বিভিন্ন স্থানে যানজট তৈরি হচ্ছে, ফলে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। অন্যদিকে ভোলাগামী যাত্রীরাও নৌপথে ব্যাপক ভিড়ের মধ্যে যাত্রা করছেন।
পথে পথে নানা ভোগান্তি সত্ত্বেও স্বজনদের কাছে ফিরতে মানুষের আগ্রহে ভাটা নেই। তবে ঘাট এলাকায় যানবাহনের সংকট দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঈদকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণাঞ্চলগামী সড়ক ও নৌপথে এখন ঘরমুখো মানুষের ঢল—যেখানে কষ্টের মাঝেও আনন্দের অপেক্ষা।
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়নকাজ ও বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (১১ মে) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ জানিয়েছে, শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের অধীন ঝিলমিল-১ উপকেন্দ্রের হাবিবনগর ফিডারে লোড বিভাজন ও উন্নয়নমূলক কাজের কারণে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাবিবনগর, শুভাঢ্যা উত্তরপাড়া, বেগুনবাড়ীর আংশিক এলাকা, দারুসসালাম, ইকবাল নগর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিডারটির অতিরিক্ত লোড কমিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণের কাজ চলবে। এ কারণে রাজশাহীর রাবি স্টেশন ফিডারের আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে। সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় গুজব ছড়িয়ে এক ট্রাকচালককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত ট্রাকচালকের নাম হান্নান (৪৫)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে উপজেলার বিননালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় একটি গুজবকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা হান্নানকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তিনি মারা যান। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজবের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে শুক্রবার (৯ মে) রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে মো. সাজেদুল মৃধা (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ বিননালিয়া মৃধাডাঙ্গী গ্রামে। তার পিতার নাম মো. অহিদ মৃধা। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসআই সনাতনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ প্রশাসন গুজবে কান না দিয়ে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে ভোর থেকেই শুরু হয়েছে রসালো আমের কেনাবেচা। ভ্যান, ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন বাগান থেকে আম এনে বাজারে সাজানো হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে দফায় দফায় দরাদরি ও বেচাকেনা। বর্তমানে জেলায় আম পাড়ার ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে উৎপাদন নতুন রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন বাগানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ চলছে। চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া এলাকার কৃষকেরা জানান, শুরুতে বাজারে দাম ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থিতিশীল না থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা বাজার মনিটরিং ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।