ইরানের সাম্প্রতিক মাস্টারস্ট্রাইক আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে, তেল আবিবের সামরিক সূত্র জানাচ্ছে, ইরান ৪০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৯২ শতাংশই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ সোশানি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা অত্যন্ত উন্নত, তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে পৌঁছেছে। শনিবার (২১ মার্চ) দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানি হামলার ফলে প্রায় ১৮০ জন মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন।”
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তীব্র ঝুঁকির সূচক। বিশেষ করে উচ্চ প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই সংঘাত আগামী দিনে আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যাপক তীব্রতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে তেল আবিবের সামরিক সূত্রের মতে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য শুধুমাত্র নগর এলাকা নয়, একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কৌশলগত ব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে আঘাত করেছে, যা সংঘাতের সম্ভাব্য বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করেছে।
বিশ্ব সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের ব্যালিস্টিক হামলা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিযোগিতা দ্রুত আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে পরিচালিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর নিবদ্ধ হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি–র সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। কাতারের রাষ্ট্রীয় বিবৃতির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, শেখ মোহাম্মদ হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ জলপথে চলাচল বন্ধ বা সীমিত করা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। ফোনালাপে দুই নেতা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন। কাতারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্যপণ্য পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সি জোসেফ বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রথম ভাষণেই নিজেকে ‘জনগণের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। চেন্নাইয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বংশ বা প্রভাবশালী পরিবারের উত্তরসূরি না হয়েও জনগণের আস্থায় তিনি এ দায়িত্বে এসেছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, তার সরকার মিথ্যা আশ্বাসের রাজনীতি করবে না; বরং ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে সরকারের সব সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের কাঁধে নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। শপথের পর প্রথম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেন বিজয়। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আরব সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপদগ্রস্ত ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। বুধবার (৬ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমভি গৌতম নামের জাহাজটি ওমান থেকে ভারতের পথে থাকা অবস্থায় সমুদ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। ঘটনার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে জাহাজটির নাবিকদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করে। এ সময় জাহাজটিতে থাকা ছয় ভারতীয় ও এক ইন্দোনেশীয় নাবিককে নিরাপদে সহায়তা প্রদান করা হয়। অভিযানে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সিও সমন্বিতভাবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতীয় মেরিটাইম রেসকিউ কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরই এই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সমুদ্র নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।