ইরানের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ঘাটতি ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের অসমতা তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’-এর এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় তারা বলেন, নিম্ন আকাশসীমায় (লো অল্টিটিউড) হুমকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় ওয়াশিংটন কার্যকর আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, উচ্চ আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তুলনামূলক সফল হলেও নিম্ন আকাশপথে ইরানের মোবাইল ও বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা কৌশল কার্যকর বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে ব্যয়বহুল প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি আকাশ আধিপত্য অর্জনের চেষ্টা না করে ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধনীতি’ (war of disruption) গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি ও প্রতিপক্ষের ব্যয় বাড়ানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত ধ্বংসাত্মক অভিযান (destructive operations) পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংসে মনোযোগ দিচ্ছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মাইকেল ও’হ্যানলন সতর্ক করে বলেন, উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রতিহত করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তিনি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি এবং বিকল্প প্রযুক্তি—বিশেষ করে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে, মার্কিন প্রশাসন তাদের সামরিক সাফল্যের দাবি অব্যাহত রাখলেও বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী বর্তমান সংঘাতে পূর্ণ আকাশ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতাই প্রধান বাস্তবতা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি তেলবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক নৌযানে নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও ‘শত্রুপক্ষের জাহাজ’ লক্ষ্য করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক হামলার ঘোষণা দিয়েছে বাহিনীটি। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ ও সামরিক তৎপরতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবেই পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও উভয় পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার বাইরে অবস্থান করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি এলাকায় মার্কিন স্বার্থ বা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানকে “চরম পরিণতি” ভোগ করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক উপস্থিতির ওপর জোর দিয়ে জানান, প্রয়োজনে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগে ওয়াশিংটন দ্বিধা করবে না। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা হতে পারে। তার দাবি, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপের মুখে ইরান তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে, তবে কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে এমন কঠোর বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে গিয়ে সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি, যা রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সোমবার (৪ মে) ফলাফলের প্রবণতা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিজয়কে “জনগণের রায় ও আস্থার প্রতিফলন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রাজ্যবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রদত্ত জনম্যান্ডেট সংবিধানসম্মতভাবে রক্ষা করা হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। এর ফলে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি পেয়েছে দলটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষিতে রাজধানী দিল্লিতে দলীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বিজয় উদ্যাপনের কর্মসূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।