ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা মারামারিতে রূপ নিলে আবুল কাশেম নামে এক কৃষকদল নেতা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, ঈদুল ফেতরের আগে একটি ফেসবুক পোস্টে কমেন্টকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম ও অপর ব্যক্তির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্ক থেকে হাতাহাতিতে পর্যবসিত হয় সংঘর্ষ, যা উভয় পরিবারের সদস্যদের মারামারিতে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে আবুল কাশেম অচেতন হয়ে পড়লে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় নিহতের শারীরিক আঘাতের বাহ্যিক চিহ্ন নেই; সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ রক্তপাত (ইন্টারনাল হেমারেজ) পোস্টমর্টেমে নিশ্চিত হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জামায়াত-সংক্রান্ত নেতারা একে পরিবারিক বিরোধ বলে দাবি করলেও জেলা যুবদল স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে হামলার অভিযোগ করেছেন। হরিণাকুন্ডু থানার ওসি ঘটনার প্রাথমিক তথ্য জানিয়ে বলেছেন, মারামারি মূলত চাচাতো ভাইদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ থেকে উদ্ভূত।
মৃত ব্যক্তির মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাঙ্গামাটির সাপছড়ি এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে অন্তত ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসটিতে থাকা যাত্রীরা ঈদের ছুটি শেষে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি নানিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন গার্মেন্টস কর্মীকে চট্টগ্রামে পৌঁছে দিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মোটর মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল জানান, আহতদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ১২ জনকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান জানিয়েছেন, মোট ১৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে জানানো হবে।
চলতি শুষ্ক মৌসুম শেষে ধীরে ধীরে বর্ষার আগমন এবং সঙ্গে সঙ্গে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভায় পুনরায় জলের চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়, যা জনজীবন স্থবির করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার অধিকাংশ খাল অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনায় কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কোথাও খাল সংকুচিত হয়ে ড্রেনের মতো হয়ে গেছে, আবার কোথাও জমে থাকা আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শংকর বংশী খাল, যা পৌরসভার প্রধান পানি নিষ্কাশন মাধ্যম, এখন দখল ও দূষণের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। প্রায় ২.৫ বর্গমাইল আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। বহুতল ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যার অধিকাংশের পানি নিষ্কাশন নির্ভর করছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর। কিন্তু খালগুলোতে পানি চলাচলে বাধা থাকায় ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে, ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই খালগুলো দখলমুক্ত করা, জমে থাকা ময়লা অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। ড্রেন থেকে খাল ও খাল থেকে নদীতে পানির নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিন পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বসুরহাট পৌরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে আংশিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় ঢাকা অভিমুখী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের পাওয়ার কারে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে, যা দ্রুত পাশের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ট্রেনজুড়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে যাত্রী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত বগি অপসারণ ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।