সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রায় ছয় মাস ধরে বিচারকশূন্য থাকায় বিচার কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালটিতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪ হাজার ৩৪২টি। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ২ হাজার ৫২২টি, শিশু বিষয়ক ৬২৬টি, মানবপাচার সংক্রান্ত ১৫১টি এবং কোর্ট পিটিশন মামলা রয়েছে ১ হাজার ৪৩টি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে বিচারক বেগম ছুমিয়া খানম ট্রাইব্যুনালে যোগদান করলেও ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি বদলি হয়ে যান। এরপর থেকেই আদালতটি বিচারকশূন্য রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, বিচারক না থাকায় স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন বিচারপ্রার্থীরা আদালতে এসে শুধু তারিখ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, ফলে ভোগান্তি বাড়ছে।
বর্তমানে সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে কিছু জরুরি মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও নতুন মামলা গ্রহণ, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু বলেন, দ্রুত বিচারক নিয়োগ না হলে মামলার জট আরও বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।
এ অবস্থায় দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে ট্রাইব্যুনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বিচারপ্রার্থীরা।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে নকল সিগারেট মজুত ও বিক্রির অভিযোগে বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দ করে ধ্বংস করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে পৌর এলাকার মোদকপাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে এসব নকল সিগারেট উদ্ধার করা হয়। পরে জনসম্মুখে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উত্তম মোদক (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে নকল সিগারেট মজুত ও বাজারজাতের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জামালপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাড়ি নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক হয়রানির অভিযোগ তুলে পিরোজপুরের নেছারাবাদে পৌর প্রকৌশল অফিসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী—এ ঘটনায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরূপকাঠি পৌরসভা-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী মোছা. মৌসুমী আক্তার দাবি করেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে বাড়ি নির্মাণ অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার অর্থ আদায় করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ধারাবাহিকভাবে অর্থ দিতে হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েন। ঘটনার দিন নতুন করে অর্থ দাবি করা হলে তিনি অফিসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা যায়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. মহসিন আংশিক অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট হিসাব বা প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান। অন্যদিকে মো. আবুল হোসেন অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করলেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের কোনো বিধান নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। শীতলক্ষ্যা নদী-এর কেরোসিন ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার (৬ মে) সকালে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩০ বছর হলেও এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিন পানিতে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশ জানায়, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হলেও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং পরিচয় শনাক্তে পিবিআই কাজ করছে।