শিরোনাম

ফরিদপুরে মতুয়া মহাসম্মেলন: ভক্তদের উপস্থিতিতে পরিণত হলো মহামিলনমেলায়

ফরিদপুরে মতুয়া মহাসম্মেলন: ভক্তদের উপস্থিতিতে পরিণত হলো মহামিলনমেলায়

 ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পুতন্তীপাড়া গ্রামে প্রয়াত হারান চন্দ্র মন্ডল মহাশয়ের তিরোধান উপলক্ষে সূক্ষ্ম সনাতন ধর্মের আলোকে চার দিনব্যাপী ১১তম মতুয়া মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত পুতন্তীপাড়ার প্রদীপ মন্ডলের বাড়ির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সম্মেলনে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত হরিভক্ত, মতুয়া অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নামকীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীতে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মতুয়া শ্রী নন্দলাল গোসাই। স্বাগত বক্তব্য দেন মতুয়া মন্টু মন্ডল এবং উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন সঞ্জিত সরকার। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন শ্রীমতি পারুল রানী মন্ডল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সহ-সভাপতি মতুয়া অমল কুমার বাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও সমাজসেবক বাবু হরিদাস ঠাকুর। এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং মতুয়া নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ, শিক্ষা বিস্তার, মানবধর্ম, সামাজিক সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, “শিক্ষা, মানবতা ও সাম্যের বাণীই মতুয়া দর্শনের মূল ভিত্তি।”
সম্মেলনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত যজ্ঞ, শুভ অধিবাস, নামকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, মতুয়া দলের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘গুরুচাঁদের অপার মহিমা’ শীর্ষক যাত্রাপালা। শেষ দিনে মীন মহোৎসবের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকরা জানান, মতুয়া ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ মহাসম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।
সম্মেলন সফল করতে পুতন্তীপাড়া গ্রামের ভক্তবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর