মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি>
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সানকিভাঙ্গা এলাকায় একটি বসতবাড়ির গোয়ালঘরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ নকল ডারবি সিগারেট, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল এবং চোরাইকৃত মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, ডিবি ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ দল।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাগেরহাট ডিবি পুলিশের ওসি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল, স্থানীয় পুলিশের সদস্য এবং জেলা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কাস্টমস কর্মকর্তা মেজবাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
অভিযানে পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সানকিভাঙ্গা গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর বদরুল আলম ভদ্দরের ক্রাউন টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের পাশের তার ভাইয়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ৬ বস্তা নকল ডারবি সিগারেট, সিগারেট তৈরির শলা, তিনটি পেপার রোল, দুটি ফিল্টার কভার, দুটি মেশিন টুলবক্স এবং সিগারেট তৈরির মেশিনের বিভিন্ন ছোট-বড় যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
মোরেলগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই উত্তম কুমার জানান, গ্রীন বাংলা টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান সোমনাথ দে আদালতে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের সার্চ ওয়ারেন্টের নির্দেশনায় অভিযান পরিচালিত হয়। মামলায় একটি সিগারেট কারখানা থেকে মেশিন, কাঁচামাল ও চেকবই চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযানে চোরাইকৃত কিছু মালামাল উদ্ধার হলেও মূল মেশিনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।
ডিবি পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্রীন বাংলা টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান সোমনাথ দে দাবি করেন, তিনি কারাগারে থাকাকালে তার পূর্বপরিচিত বদরুল আলম ভদ্দর তার কারখানা থেকে মেশিন, যন্ত্রাংশ, চেকবই ও কাঁচামাল সরিয়ে নেন। পরে আদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে নকল সিগারেট ও কিছু যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়েছে। তবে মূল মেশিনটি এখনও উদ্ধার হয়নি বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ক্রাউন টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক বদরুল আলম ভদ্দরের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।