শিরোনাম
পরে অবমুক্ত

সুন্দরবন উপকূলীয় নদীতে জেলের জালে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ

সুন্দরবন উপকূলীয় নদীতে জেলের জালে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: পশ্চিম সুন্দরবনের কোবাদক নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে একটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। শনিবার সকালে সাতক্ষীরার -এর বুড়িগোয়ালিনী এলাকার সুন্দরবন উপকূলীয় নদীতে মাছ ধরার সময় কচ্ছপটি জালে আটকা পড়ে। পরে খবর পেয়ে বনবিভাগের সদস্যরা সেটি উদ্ধার করে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে অবমুক্ত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জেলেরা কোবাদক নদীতে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে বিশাল আকৃতির কচ্ছপটি ধরা পড়ে। এর গায়ের রঙ, খোলসের গঠন এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য সাধারণত দেখা যাওয়া কচ্ছপের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ কচ্ছপটি একনজর দেখতে ভিড় জমান।

স্থানীয় বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, “ছোটবেলা থেকে এই অঞ্চলের নদ-নদীতে নানা ধরনের জলজ প্রাণী দেখেছি। কিন্তু এমন ভিন্ন আকৃতির কচ্ছপ এই প্রথম দেখলাম।”

খবর পেয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কচ্ছপটিকে উদ্ধার করেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কচ্ছপটি সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় থাকায় দুপুরে সুন্দরবন সংলগ্ন একটি নিরাপদ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, সুন্দরবন ও এর আশপাশের নদ-নদীতে বহু বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় জলজ প্রাণীর বিচরণ রয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে নদী বা উপকূল এলাকায় এ ধরনের বন্যপ্রাণী ধরা পড়লে তা আটকে না রেখে দ্রুত বনবিভাগকে অবহিত করার জন্য তিনি জেলে ও স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় সুন্দরবন গবেষক পিযুষ বাউলিয়া বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় নদীগুলোতে এ ধরনের বিরল কচ্ছপের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এখানকার জলজ বাস্তুতন্ত্র এখনও সমৃদ্ধ রয়েছে। তবে এই অনন্য জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা, বনবিভাগের কার্যকর নজরদারি এবং সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের নদী ও খালে বিরল জলজ প্রাণীর উপস্থিতি এ অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। তাই এসব প্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর