ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রথম ধাপে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত এরমধ্যে নগরীর আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন সিকদার লিটু (৩২) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টন (৪০) উপস্থিতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসানের সাথে সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে আসা লিটু হত্যা মামলার ৫ নং আসামি মিল্টনকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সময় এ দৃশ্য ফুটে উঠে।
সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের যাচাই বাছাইয়ে- বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের মোট ২১ জন প্রার্থীর জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলম মনোনয়নপত্রের ২০ নম্বর পাতায় স্বাক্ষর না করা এবং ২১ নম্বর পাতা পূরণ না করায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। একই আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটার তালিকা ও প্রস্তাবক-সমর্থকদের তথ্য সঠিক না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে দুটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন সনদ না থাকা, ১০ (বি) ফরম সংযুক্ত না করা এবং ছবি সত্যায়িত না থাকায় বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের মুসলিম লীগ প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।
এছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং অঙ্গীকারনামায় অসংগতির কারণে, বরিশাল-৫ আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বরিশাল-১, বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, ‘প্রথম ধাপে তিনটি সংসদীয় আসনের মনোনয়ন যাচাই করা হয়েছে। এতে দুটি মনোনয়ন বাতিল ও দুটি স্থগিত করা হয়েছে।’ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৬২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪৮ জন প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর কাশিপুর বিল্ববাড়ি এলাকায় লোমহর্ষক সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে লিটু কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরের দিন ১ আগস্ট বিকেলে বরিশালের এয়ারপোর্ট থানায় নামধারী ৬১ জন ও অজ্ঞাতনামা ১৫০/২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহত লিটুর বোন ঘটনাস্থলে আহত মোসা. মুন্নি (৩৫)।
২০২৫ সালের ৬ আগস্ট, বেলা সাড়ে তিনটায় মিল্টনকে নগরীর কাউনিয়া বাগান বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা ও ডিবি পুলিশ। মিল্টন নিহত লিটুর ডান হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে অন্যান্য আসামিরা পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে বলে বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালের ১০ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ ওসমান গনির প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো: রিয়াজ খান মিল্টন (৫ নং আসামি) কে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বেসরকারী হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ও তার পরিবারকে চিরকুটের মাধ্যমে হত্যা, গুম, লুটপাট, চাঁদা দাবী ও সন্তানদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। মো. জাহাঙ্গির প্রধান উপজেলার বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের ধোলাসাধুখা (কুহিনুর মার্কেট) এলাকার মৃত ছোবাহানের পূত্র। তিনি উপজেলার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ব্যবস্থাপক পদে চাকুরী করেন। চিরকুট ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে কে বা কাহারা জাহাঙ্গিরের ঘরের দরজার সামনে চিরকুট ফেলে রেখে যায়। পরের দিন অর্থাৎ ২৫ তারিখ মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজার সামনে মাটিতে চিরকুটটি দেখতে পায়। চিরকুটের মাধ্যমে হুমকি দিলে জাহাঙ্গির বাদী হয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর নিকটস্থ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২৪ তারিখের প্রথম চিরকুটে “জাহাঙ্গির আজকে তুই শেষ” রাত ১২ টার সময় লুট করবো, আগে থেকেই সতর্ক করলাম, চালাকী করলে তুই শেষ। চিরকুটে এসবই লেখা ছিল। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে গত ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর রাতে পূনরায় ঘরের সামনে আরোও দুটি চিরকুট রেখে যায়। তাতে হত্যা, গুম, লুটপাট, চাঁদা দাবী ও সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে মো. জাহাঙ্গির প্রধান বলেন, পরের দুটি চিরকুটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তুই নাকি থানায় জিডি করছছ, কাজটা ভাল করলি না। আমরা কিন্তু তোর সব খবরই জানি। এখন কিন্তু তোরে কেউ বাচাতে পারবে না। বাপ পুত তিন জনকেই মারবো। তোর পুলা ২টা ঝুঁকিতে আছে। ২০ হাজার টাকা বক্তারপুর নলী ব্রীজের কাছে নিয়ে আসবি। কোন ধরনের চালাকি করলে তোর ছেলে দুইটার ক্ষতি করতে বাধ্য হবো। জাহাঙ্গির প্রধানের স্ত্রী লিজা আক্তার নিপা বলেন, চিরকুটের মাধ্যমে হুমকি দেয়ায় স্বামী-সন্তাদের নিয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাচ্চারা ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং তাদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে। তাহারা স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে এবং খেলাধোলা করতে ভয় পাচ্ছে। বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, জাহাঙ্গির অত্যন্ত ভাল ছেলে। যারাই এধরণের অপকর্মের সাথে জরিত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবী জানাচ্ছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাসুদ রানা শামীম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধায় বাদীর বাড়ি ও কুহিনুর মার্কেট এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি স্থানীয়দেরকে চিরকুটের বিষয়ে জিঙ্গাসাবাদ করেন এবং বিভিন্ন জনের হাতের লেখা সংগ্রহ করে চিরকুটের সাথে মিলিয়ে দেখেন। তখন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হেসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন বলেন, চিরকুটের মাধ্যমে হত্যা, গুম, লুটপাট, চাঁদা দাবী ও সন্তানদের হত্যার হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে পেরেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের জিঙ্গাসাবাদ ও ঘটনার সাথে জরিতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রথম ধাপে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত এরমধ্যে নগরীর আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন সিকদার লিটু (৩২) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টন (৪০) উপস্থিতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসানের সাথে সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে আসা লিটু হত্যা মামলার ৫ নং আসামি মিল্টনকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সময় এ দৃশ্য ফুটে উঠে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের যাচাই বাছাইয়ে- বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের মোট ২১ জন প্রার্থীর জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলম মনোনয়নপত্রের ২০ নম্বর পাতায় স্বাক্ষর না করা এবং ২১ নম্বর পাতা পূরণ না করায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। একই আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটার তালিকা ও প্রস্তাবক-সমর্থকদের তথ্য সঠিক না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে দুটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন সনদ না থাকা, ১০ (বি) ফরম সংযুক্ত না করা এবং ছবি সত্যায়িত না থাকায় বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের মুসলিম লীগ প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। এছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং অঙ্গীকারনামায় অসংগতির কারণে, বরিশাল-৫ আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বরিশাল-১, বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, ‘প্রথম ধাপে তিনটি সংসদীয় আসনের মনোনয়ন যাচাই করা হয়েছে। এতে দুটি মনোনয়ন বাতিল ও দুটি স্থগিত করা হয়েছে।’ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি। বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৬২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪৮ জন প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর কাশিপুর বিল্ববাড়ি এলাকায় লোমহর্ষক সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে লিটু কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরের দিন ১ আগস্ট বিকেলে বরিশালের এয়ারপোর্ট থানায় নামধারী ৬১ জন ও অজ্ঞাতনামা ১৫০/২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহত লিটুর বোন ঘটনাস্থলে আহত মোসা. মুন্নি (৩৫)। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট, বেলা সাড়ে তিনটায় মিল্টনকে নগরীর কাউনিয়া বাগান বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা ও ডিবি পুলিশ। মিল্টন নিহত লিটুর ডান হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে অন্যান্য আসামিরা পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে বলে বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন। ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ ওসমান গনির প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো: রিয়াজ খান মিল্টন (৫ নং আসামি) কে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।